Weekend Trip: বিকেলের সূর্যাস্ত, ময়ূরাক্ষীর কলতান—শান্ত তিলপাড়া ব্যারেজে হারিয়ে যান এক বিকেল

Weekend Trip: বিকেলের সূর্যাস্ত, ময়ূরাক্ষীর কলতান—শান্ত তিলপাড়া ব্যারেজে হারিয়ে যান এক বিকেল

ব্যস্ত শহরজীবনের ক্লান্তি ঝেড়ে ফেলতে যদি কাছেপিঠে কোনও শান্ত জায়গার খোঁজে থাকেন, তাহলে তিলপাড়া ব্যারেজ হতে পারে আপনার পরবর্তী উইকেন্ড গন্তব্য। বীরভূমের সিউড়ি থেকে মাত্র ৭ কিলোমিটার দূরে ময়ূরাক্ষী নদীর তীরে দাঁড়িয়ে থাকা এই ব্যারেজ বিকেলের সূর্যাস্তে যেন প্রকৃতির এক নিঃশব্দ কবিতা।

সিউড়ির কাছেই লুকিয়ে থাকা নির্জন ঠিকানা

সিউড়ি শহর থেকে খুব অল্প সময়েই পৌঁছে যাওয়া যায় তিলপাড়া ব্যারেজে। অথচ শহরের ব্যস্ততা পেরিয়ে এখানে এলেই যেন চারপাশের শব্দ হঠাৎ কমে যায়। খোলা আকাশ, নদীর বিস্তার আর সবুজ তীর—সব মিলিয়ে এই জায়গাটি যেন মনকে ধীরে ধীরে শান্ত করে দেয়।

যাতায়াত সহজ, ভ্রমণ ঝামেলাহীন

সিউড়ি স্টেশনের ১ নম্বর প্ল্যাটফর্ম দিয়ে বেরিয়ে টোটো বা অটো ধরলেই অনায়াসে পৌঁছে যাওয়া যায় তিলপাড়া ব্যারেজে। রাস্তা খুব বেশি দীর্ঘ নয়, কিন্তু শহর থেকে যত দূরে এগোবেন, ততই কোলাহল কমে আসবে। পরিবার বা বন্ধুদের নিয়ে ডে-আউটিংয়ের জন্য এটি বেশ সুবিধাজনক।

ইতিহাসের ছোঁয়া, প্রকৃতির মেলবন্ধন

ময়ূরাক্ষী নদীর ওপর নির্মিত এই ব্যারেজটির দৈর্ঘ্য প্রায় ৩০৯ মিটার। ১৯৪৯ সালে নির্মাণ শেষ হওয়া তিলপাড়া ব্যারেজ দীর্ঘদিন ধরে জল নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি বীরভূমের প্রাকৃতিক পরিবেশের সঙ্গেও ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে রয়েছে। ইতিহাস আর প্রকৃতির এই সহাবস্থানই জায়গাটিকে আলাদা করে তোলে।

সূর্যাস্তে বদলে যায় ব্যারেজের রূপ

তিলপাড়া ব্যারেজের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ তার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য। বিকেলের দিকে ব্যারেজের উপর দাঁড়িয়ে ময়ূরাক্ষীর জলে পড়তে থাকা সূর্যের আলো দেখলে সময় যেন থেমে যায়। নদীর কলতান আর হালকা বাতাস মিলিয়ে এক অপূর্ব পরিবেশ তৈরি হয়, যা মানসিক শান্তির জন্য আদর্শ।

খাওয়াদাওয়া ও ভিড় নিয়ে কী জানবেন?

এখানে বড় কোনও রেস্তরাঁ বা খাবারের দোকান নেই। তাই সঙ্গে হালকা খাবার ও পানীয় জল নিয়ে যাওয়াই ভাল। পর্যটকের ভিড় তুলনামূলক কম, আর এই নির্জনতাই তিলপাড়া ব্যারেজের সবচেয়ে বড় প্লাস পয়েন্ট।

শহরের কোলাহল থেকে সামান্য দূরে, বীরভূমের সিউড়ি শহরের পাশেই অবস্থিত তিলপাড়া ব্যারেজ। ময়ূরাক্ষী নদীর ওপর গড়ে ওঠা এই নিরিবিলি গন্তব্যটি উইকেন্ড ডে-ট্রিপ বা স্বল্প সময়ের অবসর কাটানোর জন্য আদর্শ।

Leave a comment