ওজন ঝরানোর জন্য ডায়েটের দিকে নজর দেওয়া জরুরি। তবে ডিনার সম্পূর্ণ বাদ দেওয়াকে অনেকেই সহজ সমাধান বলে মনে করেন। পুষ্টিবিদদের মতে, এটি একটি ভুল ধারণা। বরং সঠিক সময়ে পরিমিত ও পুষ্টিকর রাতের খাবার খাওয়াই ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে বেশি কার্যকর। না খেয়ে থাকার বদলে কী খাবেন এবং কখন খাবেন, সেটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
রাতে না খেয়ে থাকলে কেন সমস্যা হতে পারে?
মেটাবলিজম ধীর হয়ে যেতে পারে
শরীর দীর্ঘ সময় খাবার না পেলে শক্তি সঞ্চয়ের জন্য বিপাকক্রিয়ার গতি কমিয়ে দেয়। এতে ক্যালোরি খরচও কম হয়। ফলে ওজন কমার পরিবর্তে ভবিষ্যতে ওজন বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
পেশির ক্ষয় হওয়ার আশঙ্কা
দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকলে শরীর প্রয়োজনীয় শক্তির জন্য পেশির প্রোটিন ব্যবহার করতে শুরু করতে পারে। এতে পেশির শক্তি ও গঠন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
শক্তির ঘাটতি ও মনোযোগ কমে যেতে পারে
রাতের খাবার বাদ দিলে দীর্ঘ সময় শরীরে পর্যাপ্ত শক্তি পৌঁছায় না। ফলে পরদিন ক্লান্তি, কাজের প্রতি অনীহা এবং মনোসংযোগের ঘাটতি দেখা দিতে পারে।
গ্যাস, অ্যাসিডিটি ও হজমের সমস্যা
সন্ধ্যার খাবারের পর সরাসরি পরদিন সকালের নাশতা পর্যন্ত দীর্ঘ বিরতি তৈরি হলে অনেকের গ্যাস, অ্যাসিডিটি বা হজমের সমস্যা হতে পারে। যাঁদের আগে থেকেই গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা রয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রে উপসর্গ আরও বাড়তে পারে।
অতিরিক্ত ক্ষুধা পেতে পারেন
রাতে না খেয়ে থাকলে সকালে বা পরের খাবারের সময় অতিরিক্ত ক্ষুধা লাগতে পারে। এর ফলে প্রয়োজনের তুলনায় বেশি খাওয়ার প্রবণতা তৈরি হয়, যা ওজন নিয়ন্ত্রণের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে।
ওজন কমাতে রাতের খাবারে কী খাবেন?
পুষ্টিবিদদের মতে, রাতের খাবারে পরিমাণ কমিয়ে পুষ্টিগুণ বাড়ানোই সবচেয়ে ভালো উপায়।
ভাত বা রুটির পরিমাণ সীমিত রাখুন।
বেশি করে সবজি ও প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার রাখুন।
প্রয়োজন হলে স্যুপ, সালাদ বা ওটস খেতে পারেন।
ঘুমানোর অন্তত ২ থেকে ৩ ঘণ্টা আগে রাতের খাবার সেরে ফেলুন।
অতিরিক্ত তেল-মশলাযুক্ত বা ভারী খাবার এড়িয়ে চলুন।
ওজন কমানোর আশায় অনেকেই রাতের খাবার সম্পূর্ণ বাদ দেন। কিন্তু বিশেষজ্ঞদের মতে, এই অভ্যাস শরীরের বিপাকক্রিয়া বা মেটাবলিজম ধীর করে দিতে পারে। এর ফলে ওজন কমার বদলে বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি গ্যাস, অ্যাসিডিটি, পেশি ক্ষয় এবং শক্তির ঘাটতির মতো নানা সমস্যাও দেখা দিতে পারে।













