কৃষিকাজের পাশাপাশি নারকেল চাষে আগ্রহী কৃষকদের জন্য সুখবর। পশ্চিমবঙ্গে নারকেল গাছের সংখ্যা বাড়ানো এবং চাষিদের উৎসাহিত করতে সরকারি সহায়তায় চারা রোপণের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। এই প্রকল্পের আওতায় নির্দিষ্ট সংখ্যক নারকেল চারা লাগালে প্রতিটি চারার জন্য সর্বোচ্চ ৩৫০ টাকা পর্যন্ত ভর্তুকি পাওয়ার সুযোগ থাকতে পারে। বড় পরিসরে নারকেল বাগান তৈরির পরিকল্পনা থাকলেও রয়েছে বিশেষ সহায়তার ব্যবস্থা।
প্রতি চারায় মিলতে পারে ৩৫০ টাকা পর্যন্ত ভর্তুকি
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, একজন উদ্যোগী বা কৃষক ৫টি থেকে সর্বোচ্চ ৩২০টি পর্যন্ত নারকেল চারা রোপণ করতে পারেন। প্রতিটি চারা রোপণের জন্য সর্বোচ্চ ৩৫০ টাকা পর্যন্ত সরকারি সহায়তার কথা জানানো হয়েছে।এই সুবিধা শুধুমাত্র বড় বা বাণিজ্যিক কৃষকদের জন্য নয়। ক্ষুদ্র ও মাঝারি কৃষক ছাড়াও যাঁরা ব্যক্তিগত উদ্যোগে নিজের জমি বা বাড়ির আশপাশে নারকেল গাছ লাগাতে চান, তাঁরাও নির্দিষ্ট নিয়ম ও যোগ্যতা পূরণ করলে এই সহায়তার আওতায় আসতে পারেন।
বড় জমিতে বাগান করলেও রয়েছে বিশেষ সুবিধা
যাঁদের তুলনামূলক বড় জমি রয়েছে এবং সেখানে পরিকল্পিতভাবে নারকেল বাগান তৈরি করতে চান, তাঁদের জন্যও আলাদা সহায়তার সুযোগ থাকার কথা বলা হয়েছে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, সাড়ে সাত বিঘার বেশি জমিতে নারকেল বাগান তৈরির ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৩ লক্ষ ৬০ হাজার টাকা পর্যন্ত ভর্তুকির সুযোগ থাকতে পারে।তবে ভর্তুকির প্রকৃত পরিমাণ, জমির মাপ, চারা সংখ্যা এবং প্রকল্পের নিয়ম অনুযায়ী আর্থিক সহায়তার পরিমাণ পরিবর্তিত হতে পারে। তাই আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট সরকারি দফতর থেকে বর্তমান নির্দেশিকা যাচাই করা জরুরি।
কোন ধরনের নারকেল চারা বেছে নেবেন?
ভালো ফলন এবং দীর্ঘমেয়াদি চাষের কথা মাথায় রেখে উপযুক্ত জাতের চারা নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। চাষের উদ্দেশ্য অনুযায়ী বিভিন্ন ধরনের নারকেল গাছ বেছে নেওয়া যেতে পারে।
উন্নত দেশি বা লম্বা জাত: দীর্ঘমেয়াদি চাষের জন্য উপযোগী এবং তুলনামূলকভাবে শক্তিশালী গাছ পাওয়া যায়।
খর্বকায় বা Dwarf জাত: অপেক্ষাকৃত দ্রুত ফলন পাওয়ার জন্য এই ধরনের জাত জনপ্রিয়। ডাবের জলের জন্যও এগুলি উপযোগী হতে পারে।
হাইব্রিড জাত: কম সময়ে ভালো ফলন পাওয়ার লক্ষ্য থাকলে উপযুক্ত হাইব্রিড জাত বেছে নেওয়া যেতে পারে।
তবে চারা কেনার আগে স্থানীয় আবহাওয়া, মাটির ধরন এবং সরকারি অনুমোদিত জাত সম্পর্কে কৃষি দফতরের পরামর্শ নেওয়া ভালো।
কীভাবে আবেদন করবেন?
সরকারি সহায়তায় নারকেল চারা রোপণের জন্য আগ্রহী কৃষকরা সংশ্লিষ্ট নারকেল উন্নয়ন বোর্ড (Coconut Development Board) অথবা নিজেদের এলাকার ব্লক কৃষি দফতরের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন।আবেদনের পদ্ধতি ও সময়সীমা এলাকাভেদে বা প্রকল্পের নির্দেশিকা অনুযায়ী আলাদা হতে পারে। তাই সরাসরি সংশ্লিষ্ট অফিসে যোগাযোগ করে আবেদনপত্র, যোগ্যতা এবং বর্তমান প্রকল্পের নিয়ম জেনে নেওয়া সবচেয়ে নিরাপদ।
কী কী নথি লাগতে পারে?
আধার কার্ড বা ভোটার কার্ডের মতো পরিচয়পত্র
জমির পর্চা বা জমির মালিকানার প্রমাণ
জমি নিজের না হলে বৈধ লিজ বা ইজারা সংক্রান্ত নথি
ব্যাংক অ্যাকাউন্টের পাসবুকের তথ্য
সক্রিয় মোবাইল নম্বর
তবে প্রকল্প অনুযায়ী আরও কিছু নথি চাওয়া হতে পারে। তাই আবেদন জমা দেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট দফতর থেকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের তালিকা নিশ্চিত করে নেওয়া উচিত।
চারা লাগানোর সময় যে বিষয়গুলি মনে রাখবেন
শুধু ভর্তুকি পাওয়ার জন্য চারা লাগালেই হবে না, গাছের সঠিক বৃদ্ধি নিশ্চিত করাও জরুরি। নারকেলের জাত অনুযায়ী গাছের মধ্যে পর্যাপ্ত দূরত্ব রাখা উচিত।চারা রোপণের জন্য প্রায় ৩ ফুট × ৩ ফুট × ৩ ফুট মাপের গর্ত তৈরি করে তাতে উপযুক্ত জৈব সার, গোবর সার ও প্রয়োজনীয় মাটির মিশ্রণ ব্যবহার করা যেতে পারে। বর্ষাকালে গাছের গোড়ায় যাতে অতিরিক্ত জল জমে না থাকে, সেদিকেও নজর দিতে হবে। জল জমে থাকলে গাছের শিকড় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
পশ্চিমবঙ্গে নারকেল চাষে উৎসাহ দিতে বিশেষ সরকারি সহায়তার কথা সামনে এসেছে। নারকেল উন্নয়ন বোর্ড এবং রাজ্য কৃষি দফতরের উদ্যোগে যোগ্য কৃষক ও উদ্যোক্তারা নারকেল চারা রোপণের ক্ষেত্রে ভর্তুকি পেতে পারেন। প্রতিটি চারার জন্য সর্বোচ্চ ৩৫০ টাকা পর্যন্ত সহায়তার কথা জানানো হয়েছে। বড় জমিতে বাগান তৈরির ক্ষেত্রেও মিলতে পারে উল্লেখযোগ্য আর্থিক সাহায্য। কারা এই সুবিধা পেতে পারেন এবং কীভাবে আবেদন করবেন, জেনে নিন।












