শীতের মরসুম এলেই বাড়ে নাক দিয়ে রক্ত পড়ার প্রবণতা। অনেকেই বিষয়টিকে হালকা ভাবে নিলেও চিকিৎসকরা বলছেন, এটি কখনও কখনও শরীরের ভিতরের গুরুতর সমস্যার ইঙ্গিত হতে পারে। বিশেষ করে বয়স্ক, উচ্চ রক্তচাপের রোগী ও হাঁপানিতে ভোগা ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এই সমস্যা বেশি দেখা যায়।
![]()
শীতে নাক দিয়ে রক্ত পড়ে কেন?
চিকিৎসকদের মতে, শীতকালে বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ কমে যায়। এর ফলে নাকের ভেতরের ত্বক ও ক্ষুদ্র কৈশিক নালিগুলি অত্যন্ত শুষ্ক ও ভঙ্গুর হয়ে পড়ে। সামান্য চাপেই এই কৈশিক নালি ফেটে গিয়ে রক্তপাত শুরু হতে পারে।
উচ্চ রক্তচাপ কতটা দায়ী?
উচ্চ রক্তচাপ নাক দিয়ে রক্তপাতের অন্যতম বড় কারণ। অনেকেই জানেন না যে তাঁদের ব্লাড প্রেসার বেশি। শীতে রক্তনালীগুলি সংকুচিত হওয়ায় আচমকা রক্তচাপ বেড়ে যায় এবং নাকের ভেতরের সূক্ষ্ম নালি ফেটে যেতে পারে। অবহেলা করলে স্ট্রোক বা মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণের ঝুঁকিও থাকে।
হাঁপানি, অ্যালার্জি ও সর্দি-কাশির প্রভাব
যাঁরা হাঁপানি, অ্যালার্জি বা দীর্ঘদিন সর্দি-কাশির সমস্যায় ভুগছেন, তাঁদের নাক প্রায়ই সংবেদনশীল হয়ে থাকে। ঘনঘন নাক ঝাড়া বা চুলকোনোর ফলে ক্ষত তৈরি হয়, যা শীতকালে সহজেই রক্তপাতের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
![]()
নাক দিয়ে রক্ত পড়লে সঙ্গে সঙ্গে কী করবেন?
রক্তপাত শুরু হলে মাথা সামনের দিকে ঝুঁকিয়ে নাকের নরম অংশটি চেপে ধরতে হবে। এতে রক্ত বাইরে বেরোবে এবং চাপের ফলে রক্তপাত বন্ধ হতে সাহায্য করবে। মাথা কখনও পিছনে হেলানো উচিত নয়—এতে রক্ত গলায় চলে যেতে পারে।
নারকেল তেল কেন ‘ব্রহ্মাস্ত্র’?
চিকিৎসকদের মতে, শীতকালে নাকের শুষ্কতা রোধে নারকেল তেল অত্যন্ত কার্যকর। প্রতিদিন অল্প পরিমাণ নারকেল তেল বা পেট্রোলিয়াম জেলি নাকের ভেতরে লাগালে আর্দ্রতা বজায় থাকে। এতে কৈশিক নালি ভাঙার ঝুঁকি কমে এবং নাক দিয়ে রক্তপাতও অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে থাকে।
জলপান ও দৈনন্দিন সতর্কতা
শীতে তৃষ্ণা কম লাগলেও শরীরের জলশূন্যতা মারাত্মক ক্ষতি করতে পারে। নিয়মিত পর্যাপ্ত জল পান করা জরুরি। পাশাপাশি উচ্চ রক্তচাপের রোগীদের সময়মতো ওষুধ খাওয়া, খুব ভোরে ঠান্ডায় না ওঠা এবং নিয়মিত ব্লাড প্রেসার পরীক্ষা করা প্রয়োজন।
![]()
শীতকালে অনেকেরই হঠাৎ নাক দিয়ে রক্ত পড়ার সমস্যা দেখা দেয়। শুষ্ক বাতাস, উচ্চ রক্তচাপ ও অ্যালার্জি—এই তিন কারণই মূলত দায়ী। চিকিৎসকদের মতে, সময়মতো সতর্ক না হলে বিষয়টি বিপজ্জনকও হতে পারে। তবে কয়েকটি সহজ ঘরোয়া টোটকা, বিশেষ করে নারকেল তেল ব্যবহার করলে ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব।













