তীব্র গরমে এসি এখন প্রায় প্রতিটি বাড়ির অপরিহার্য সঙ্গী। কিন্তু অনেকেই জানেন না, এসির তাপমাত্রা ঠিক না রাখলে বিদ্যুৎ বিল কয়েকগুণ বেড়ে যেতে পারে। ২০ ডিগ্রি নাকি ২৬ ডিগ্রি—কোনটা সঠিক? এই নিয়েই বিস্তারিত জানালেন বিশেষজ্ঞরা।
কম তাপমাত্রায় এসি: বেশি ঠান্ডা, কিন্তু বাড়তি খরচ
গরমে দ্রুত ঠান্ডা পেতে অনেকেই এসি ২০–২২ ডিগ্রিতে সেট করেন। এতে ঘর দ্রুত ঠান্ডা হলেও, কম্প্রেসারকে দীর্ঘ সময় ধরে কাজ করতে হয়। ফলে বিদ্যুৎ খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। মাত্র ৪–৫ ডিগ্রির পার্থক্যই বিলকে কয়েকশো টাকা বাড়িয়ে দিতে পারে।
২৫–২৬ ডিগ্রি: সেরা ব্যালান্স
বিশেষজ্ঞদের মতে, ২৫ বা ২৬ ডিগ্রি তাপমাত্রা শরীরের জন্য সবচেয়ে আরামদায়ক। এই সেটিংয়ে এসির কম্প্রেসার মাঝে মাঝে বন্ধ হয়, ফলে বিদ্যুৎ সাশ্রয় হয়। একইসঙ্গে ঘরের ঠান্ডাও দীর্ঘক্ষণ বজায় থাকে।
১ ডিগ্রি বাড়ালেই সাশ্রয়!
Bureau of Energy Efficiency-এর মতে, এসির তাপমাত্রা প্রতি ১ ডিগ্রি বাড়ালে প্রায় ৬% পর্যন্ত বিদ্যুৎ সাশ্রয় সম্ভব। অর্থাৎ ২০ থেকে ২৫ ডিগ্রিতে সেট করলে প্রায় ২৫–৩০% পর্যন্ত বিল কমানো যায়।
১.৫ টন এসির খরচের হিসেব
একটি ১.৫ টন এসি সাধারণত প্রতি ঘণ্টায় ১.৫–১.৬ ইউনিট বিদ্যুৎ খরচ করে। ২০ ডিগ্রিতে চালালে এই খরচ বেশি হয়, কারণ কম্প্রেসার একটানা চলে। অন্যদিকে ২৫ ডিগ্রিতে চালালে ৮ ঘণ্টায় প্রায় ৮ ইউনিট পর্যন্ত বিদ্যুৎ সাশ্রয় সম্ভব। ফলে দৈনিক খরচ ১২০ টাকা থেকে কমে প্রায় ৮০ টাকায় নেমে আসতে পারে।
ঘর ঠান্ডা রাখার অতিরিক্ত টিপস
দিনের বেলা দরজা-জানালা বন্ধ রাখুন, যাতে গরম হাওয়া ঢুকতে না পারে। পর্দা ব্যবহার করুন এবং সন্ধ্যার পর জানালা খুলে দিন। এতে ঘরের তাপমাত্রা দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আসে এবং এসির উপর চাপ কম পড়ে।
গরমে এসির সঠিক তাপমাত্রা বেছে নেওয়া শুধু আরামের জন্য নয়, বিদ্যুৎ বিল কমানোর ক্ষেত্রেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষজ্ঞদের মতে, ২৫–২৬ ডিগ্রিতে এসি চালালেই মিলবে সর্বোচ্চ সাশ্রয় ও আরাম।













