দুর্গাপুজোর পরেও উৎসবের আমেজ শেষ হয়নি। সামনে কালীপুজো ও ভাইফোঁটা। এই সময় সাজগোজের পাশাপাশি ত্বক সতেজ ও উজ্জ্বল রাখার ইচ্ছা থাকে অনেকেরই। কিন্তু মুখে হঠাৎ ব্রণ দেখা দিলে সেই আনন্দ কিছুটা ম্লান হতে পারে। তাই শেষ মুহূর্তে দামি সিরাম বা নতুন ফেসপ্যাক ব্যবহার না করে প্রতিদিনের স্কিনকেয়ার রুটিনে কয়েকটি সহজ অভ্যাস গড়ে তোলাই ভালো। জেনে নিন, ব্রণ হওয়ার ঝুঁকি কমাতে কোন ৬টি নিয়ম মেনে চলতে পারেন।
সকালে মৃদু ফেসওয়াশ দিয়ে মুখ পরিষ্কার করুন
ত্বকের যত্নের প্রথম ধাপ হল মুখ পরিষ্কার রাখা। সকালে ঘুম থেকে উঠে ত্বকের ধরন অনুযায়ী একটি মৃদু ক্লিনজার বা ফেসওয়াশ ব্যবহার করুন। এতে ত্বকের উপর জমে থাকা অতিরিক্ত তেল ও ময়লা দূর করতে সাহায্য হয়।
তবে বারবার মুখ ধোয়া কিংবা জোরে ঘষে পরিষ্কার করার অভ্যাস এড়িয়ে চলুন। এতে ত্বক শুষ্ক ও সংবেদনশীল হয়ে পড়তে পারে। ব্রণপ্রবণ ত্বকের ক্ষেত্রে এমন ফেসওয়াশ বেছে নিন, যা মুখ পরিষ্কার করলেও ত্বকের স্বাভাবিক আর্দ্রতা বজায় রাখতে সাহায্য করে।
তৈলাক্ত ত্বক হলেও ময়েশ্চারাইজার বাদ দেবেন না
অনেকের ধারণা, মুখে তেল থাকলে ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করা উচিত নয়। কিন্তু ত্বকের আর্দ্রতা বজায় রাখাও জরুরি। ময়েশ্চারাইজার বাদ দিলে ত্বক শুষ্ক হয়ে অস্বস্তি তৈরি হতে পারে।
তাই হালকা, তেলমুক্ত এবং নন-কমেডোজেনিক ময়েশ্চারাইজার বেছে নিতে পারেন। নন-কমেডোজেনিক পণ্য সাধারণত লোমকূপ বন্ধ হওয়ার ঝুঁকি কমানোর কথা মাথায় রেখে তৈরি করা হয়। তবে কোনও পণ্যই সবার ত্বকে একইভাবে কাজ করবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। নতুন পণ্য ব্যবহারের আগে ত্বকে তার প্রতিক্রিয়া খেয়াল করুন।
বাইরে বেরোনোর আগে সানস্ক্রিন লাগান
উৎসবের সময় কেনাকাটা, ঠাকুর দেখা কিংবা আত্মীয়ের বাড়ি যাওয়ার জন্য অনেকক্ষণ বাইরে থাকতে হয়। তাই দিনের বেলা বাইরে যাওয়ার আগে এসপিএফ ৩০ বা তার বেশি যুক্ত ব্রড-স্পেকট্রাম সানস্ক্রিন ব্যবহার করুন।
ব্রণপ্রবণ ত্বকের জন্য নন-কমেডোজেনিক সানস্ক্রিন বেছে নেওয়া যেতে পারে। বাইরে দীর্ঘক্ষণ থাকলে পণ্যের নির্দেশিকা অনুযায়ী পুনরায় সানস্ক্রিন লাগান। এতে সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মির ক্ষতিকর প্রভাব থেকে ত্বককে সুরক্ষিত রাখতে সাহায্য হয়।
ব্রণ খুঁটবেন না, টিপে ফাটানোর চেষ্টা করবেন না
মুখে ব্রণ উঠলে সেটি দ্রুত সরিয়ে ফেলার জন্য অনেকেই নখ দিয়ে টিপে দেন। কিন্তু এই অভ্যাসে ব্রণ আরও ফুলে যাওয়া, প্রদাহ বাড়া এবং পরে দাগ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
তাই ব্রণে বারবার হাত দেওয়া বন্ধ করুন। ব্রণ নিজে থেকে সেরে ওঠার জন্য সময় দিন। যদি বারবার ব্রণ হয়, ব্যথাযুক্ত বড় ব্রণ দেখা দেয় কিংবা স্থায়ী দাগ তৈরি হতে থাকে, তাহলে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।
উৎসবের আগে হঠাৎ নতুন স্কিনকেয়ার পণ্য ব্যবহার করবেন না
কালীপুজো বা ভাইফোঁটার আগে ত্বক উজ্জ্বল করার আশায় নতুন সিরাম, ফেসপ্যাক কিংবা এক্সফোলিয়েটর ব্যবহার করার প্রবণতা দেখা যায়। কিন্তু একসঙ্গে একাধিক নতুন পণ্য ব্যবহার করলে কোনটি ত্বকে সমস্যা তৈরি করছে, তা বোঝা কঠিন হতে পারে।
বিশেষ করে সংবেদনশীল ত্বকে রেটিনল বা শক্তিশালী এক্সফোলিয়েটিং উপাদান ব্যবহারে শুষ্কতা, লালচে ভাব কিংবা জ্বালাভাব দেখা দিতে পারে। আগে থেকে যে পণ্যগুলি ত্বকে মানিয়ে গিয়েছে, সেগুলিই নিয়ম মেনে ব্যবহার করুন। নতুন কোনও সক্রিয় উপাদান শুরু করার আগে ত্বকের ধরন ও প্রয়োজন বুঝে নিন
রাতে মেকআপ তুলে তবেই ঘুমোতে যান
উৎসবের দিন দীর্ঘক্ষণ বাইরে থাকার পর ক্লান্তিতে মেকআপ না তুলেই ঘুমিয়ে পড়তে ইচ্ছা করতে পারে। কিন্তু মেকআপ নিয়ে ঘুমোনো ত্বকের সমস্যা বাড়াতে পারে, বিশেষ করে ব্রণপ্রবণ ত্বকে।
তাই ঘুমোতে যাওয়ার আগে উপযুক্ত মেকআপ রিমুভার দিয়ে মেকআপ তুলে নিন। এরপর মৃদু ক্লিনজার দিয়ে মুখ পরিষ্কার করে ত্বকের উপযোগী ময়েশ্চারাইজার লাগান। নিয়মিত এই অভ্যাস বজায় রাখলে ত্বক পরিষ্কার ও আরামদায়ক রাখতে সুবিধা হবে।
উৎসবের মরশুমে মুখে নতুন ব্রণ, লালচে ভাব কিংবা দাগের সমস্যা এড়াতে ত্বকের যত্নে নজর দেওয়া জরুরি। অনেক সময় একসঙ্গে একাধিক নতুন প্রসাধনী ব্যবহার, মুখ অতিরিক্ত ঘষে পরিষ্কার করা কিংবা মেকআপ না তুলে ঘুমিয়ে পড়ার মতো অভ্যাসে ত্বকের সমস্যা বাড়তে পারে। তাই মৃদু ফেসওয়াশ, ত্বকের উপযোগী ময়েশ্চারাইজার, সানস্ক্রিন এবং নিয়মিত পরিচর্যার মাধ্যমে ত্বককে সুস্থ রাখার চেষ্টা করুন। তবে কোনও রুটিনই নতুন ব্রণ একেবারে বন্ধ হওয়ার নিশ্চয়তা দেয় না।













