বাঙালির উৎসব মানেই নানা রকমের ঘরোয়া খাবার। মিষ্টির পাশাপাশি নোনতা জলখাবারেও থাকে সাবেকিয়ানার ছোঁয়া। আর সেই তালিকায় অন্যতম এলোঝেলো নিমকি। একসময় বিজয়ার আপ্যায়নে এই নিমকি ছিল পরিচিত পদ। সময় বদলালেও পুরনো স্বাদের প্রতি টান কিন্তু কমেনি।অভিনেত্রী অপরাজিতা আঢ্যর বাড়ির কোজাগরী লক্ষ্মীপুজোর আয়োজনেও এলোঝেলো নিমকির বিশেষ জায়গা রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। দেখতে কিছুটা জটিল মনে হলেও কয়েকটি সহজ কৌশল জানলেই বাড়িতে বানানো যায় এই মুচমুচে নিমকি। কীভাবে তৈরি করবেন? জেনে নিন ধাপে ধাপে।
এলোঝেলো নিমকি বানাতে কী কী উপকরণ লাগবে?
প্রায় ১৬টি নিমকি তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় উপকরণ:
ময়দা – ২০০ গ্রাম
নুন – ৮ গ্রাম
চিনি – ১০ গ্রাম
ঘি – ৫০ গ্রাম
জোয়ান – ২ গ্রাম
বেকিং সোডা – ১ চিমটি
জল – প্রায় ৫০ গ্রাম বা ৫০ মিলিলিটার
লেবুর রস – আধ চা-চামচ
সাদা তেল – ভাজার জন্য
ময়দা মেখে তৈরি করুন ডো
প্রথমে একটি বড় পাত্রে ময়দা, নুন, চিনি, জোয়ান এবং এক চিমটি বেকিং সোডা ভালো করে মিশিয়ে নিন। এবার তাতে ঘি দিয়ে হাতের সাহায্যে ময়ানের মতো করে মেশান। মিশ্রণটি ঝুরঝুরে হয়ে এলে অল্প অল্প করে জল এবং লেবুর রস দিয়ে মাখতে শুরু করুন।ডো খুব শক্ত বা অতিরিক্ত নরম করবেন না। মসৃণ ডো তৈরি হলে ঢেকে প্রায় ৩০ মিনিট রেখে দিন। এতে ডো কিছুটা বিশ্রাম পাবে এবং বেলার সময় সুবিধা হবে।
ছোট ছোট লেচি কেটে পাতলা করে বেলে নিন
ডো থেকে ছোট ছোট লেচি কেটে নিন। শুকিয়ে যাওয়া আটকাতে বাকি লেচিগুলি ঢেকে রাখুন। এবার একটি লেচি নিয়ে গোল করে পাতলা করে বেলে নিন। প্রতিটি রুটির ব্যাস প্রায় ১০ সেন্টিমিটার রাখার চেষ্টা করুন।এবার শুরু হবে এলোঝেলো নিমকির আসল কৌশল। একটি ছুরি দিয়ে বেলে রাখা ময়দার উপর লম্বালম্বি বেশ কয়েকটি সমান্তরাল দাগ কাটুন। এক দাগ থেকে অন্য দাগের ব্যবধান প্রায় ৭ মিলিমিটার রাখতে পারেন।
মনে রাখবেন: কাটার সময় গোল রুটির দুই প্রান্ত পুরোপুরি কেটে আলাদা করবেন না। দুই দিকের কিনারা অক্ষত থাকলেই পরের ধাপে সুন্দর প্যাঁচ দেওয়া সহজ হবে।
শাড়ির কুঁচির মতো দিন প্যাঁচ
এলোঝেলো নিমকির আকর্ষণ তার বিশেষ আকারে। প্রথমে গোল করে বেলা ময়দার দুই প্রান্তে সামান্য জল লাগিয়ে নিন। এবার এক দিক থেকে শাড়ির কুঁচি করার মতো করে ভাঁজ তৈরি করতে থাকুন।ভাঁজগুলি তৈরি হয়ে গেলে দুই প্রান্ত ধরে আলতো করে মুড়িয়ে ও পেঁচিয়ে দিন। এতে নিমকিটি সুন্দর এলোঝেলো বা কামরাঙার মতো আকৃতি পাবে। খুব জোরে টানবেন না, তাহলে ময়দা ছিঁড়ে যেতে পারে।প্রতিটি লেচির ক্ষেত্রেই একই পদ্ধতি অনুসরণ করুন। প্রথমবারে নিখুঁত আকার না হলেও চিন্তা নেই—কয়েকটি বানালেই হাতের কৌশল আয়ত্তে চলে আসবে।
কম আঁচে ভাজুন খাস্তা নিমকি
কড়াইয়ে পর্যাপ্ত সাদা তেল গরম করুন। তেল গরম হলে আঁচ কমিয়ে দিন। এবার অল্প অল্প করে নিমকি ছেড়ে ধীরে ধীরে ভাজুন। বেশি আঁচে ভাজলে বাইরে দ্রুত রং ধরে গেলেও ভিতরটা ভালোভাবে মুচমুচে নাও হতে পারে।নিমকিগুলি সোনালি রং ধরলে এবং ভালোভাবে খাস্তা হয়ে এলে তুলে নিন। আকার ও তেলের তাপমাত্রা অনুযায়ী ভাজার সময় বদলাতে পারে, তাই শুধু সময়ের উপর নির্ভর না করে রং ও মুচমুচে ভাব দেখে নিন।
নিমকি দীর্ঘদিন মুচমুচে রাখার কৌশল
এলোঝেলো নিমকি ভাজার পর তেল ঝরিয়ে সম্পূর্ণ ঠান্ডা হতে দিন। গরম অবস্থায় কৌটোয় ভরলে ভিতরে জলীয় বাষ্প জমে নিমকি নরম হয়ে যেতে পারে।সম্পূর্ণ ঠান্ডা হলে শুকনো, বায়ুরোধী কৌটোয় ভরে রাখুন। কৌটোর ভিতরে যেন আর্দ্রতা না থাকে। এভাবে রাখলে নিমকির মুচমুচে ভাব তুলনামূলকভাবে বেশিদিন বজায় থাকবে।
কোজাগরী লক্ষ্মীপুজো হোক বা বিজয়ার আড্ডা, বাঙালির সাবেকি জলখাবারে এলোঝেলো নিমকির জুড়ি মেলা ভার। অভিনেত্রী অপরাজিতা আঢ্যর বাড়ির লক্ষ্মীপুজোর আয়োজনেও এই বিশেষ নোনতা পদের গুরুত্ব রয়েছে বলে জানা যায়। ময়দা, ঘি, জোয়ান আর কয়েকটি ঘরোয়া উপকরণ দিয়ে বাড়িতেই বানিয়ে ফেলতে পারেন কামরাঙার মতো দেখতে এই খাস্তা নিমকি। রইল সহজ রেসিপি ও নিখুঁত আকার দেওয়ার কৌশল।













