ফাল্গুনের শেষ আর চৈত্রের শুরু—এই অল্প ক’দিনের জন্যই বাজারে দেখা মেলে নরম, হিলহিলে কচি সজনে ডাঁটার। দাম কিছুটা বেশি মনে হলেও পুষ্টিগুণের বিচারে তা সার্থক। ফাইবার, অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট, ভিটামিন ও খনিজে সমৃদ্ধ সজনে ডাঁটা এখন স্বাস্থ্যসচেতনদের পছন্দের তালিকায়।
মরসুমি সবজির বিশেষ গুরুত্ব
সারা বছর সজনে ডাঁটা মিললেও বসন্তের কচি সজনে আলাদা। এক মাসের মধ্যেই ডাঁটা শক্ত হয়ে যায়। তাই এই স্বল্প সময়ে পুষ্টিকর এই সবজি খাদ্যতালিকায় রাখার পরামর্শ দিচ্ছেন পুষ্টিবিদরা।
রোগ প্রতিরোধে কার্যকর
বিশেষজ্ঞদের মতে, ঋতু পরিবর্তনের সময় জ্বর, সর্দি-কাশি বা সংক্রমণ বাড়ে। এই সময় অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ও অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল উপাদানে ভরা সজনে ডাঁটা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। চিকেন পক্সের মতো সংক্রমণকালে শরীরের শক্তি বজায় রাখতেও এটি সহায়ক হতে পারে।
ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়ক
ফাইবারসমৃদ্ধ হওয়ায় সজনে দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখে, ফলে অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতা কমে। ক্যালোরি কম অথচ পুষ্টিগুণ বেশি—এই কারণেই ওজন কমানোর ডায়েটে সজনে রাখা হয়। অনেকেই ডিটক্স ওয়াটারে পুদিনার সঙ্গে সজনে পাতা বা সজনে গুঁড়ো মিশিয়ে খান।
পুষ্টিগুণে ‘সুপারফুড’
Moringa oleifera গাছের ডাঁটা, পাতা ও ফুল—সবই উপকারী। এতে রয়েছে ভিটামিন সি, আয়রন, ক্যালসিয়াম ও পটাশিয়াম। শরীরের কোষের ক্ষয় রোধ এবং শক্তি বাড়াতে সহায়ক এই উপাদানগুলি।
রান্নায় স্বাদ, ক্যালোরি কম
অনেকেই সজনে ডাঁটা খেতে পছন্দ করেন না। তবে সর্ষে বাটা বা পোস্ত বাটা দিয়ে চচ্চড়ি বানালে স্বাদ বাড়ে, ক্যালোরি বাড়ে না। হালকা ঝোল বা ডালেও কচি সজনে দারুণ মানিয়ে যায়।
বসন্তের শেষেই বাজারে মেলে কচি সজনে ডাঁটা। অল্প সময়ের এই মরসুমি সবজি পুষ্টিগুণে ভরপুর। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানো থেকে শুরু করে ওজন নিয়ন্ত্রণ—একাধিক উপকার মেলে সজনে খেলে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ঋতু পরিবর্তনের সময় শরীর সুস্থ রাখতে এই সবজি হতে পারে প্রাকৃতিক সহায়।













