৩ শাবক নিয়ে বাঁকুড়া ছাড়ছে দলমার হাতির দল, ক্ষতিপূরণে স্বস্তি গ্রামবাসীর

৩ শাবক নিয়ে বাঁকুড়া ছাড়ছে দলমার হাতির দল, ক্ষতিপূরণে স্বস্তি গ্রামবাসীর

Bankura Elephant News: বাঁকুড়ার বড়জোড়া–বেলিয়াতোড় জঙ্গলপথ এখন আবারও হাতির দখলে। প্রায় ৬০টি হাতির এই বিশাল দলটি ঝাড়খণ্ডের দলমা ও ওড়িশার ময়ূরভঞ্জের দিকে অগ্রসর হচ্ছে, সঙ্গে রয়েছে মাত্র এক মাসের তিনটি শাবক—যাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই প্রশাসন, পুলিশ ও বনকর্মীরা নজরদারি বাড়িয়েছে। ইতিমধ্যেই হাতির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত ৮৭৮ জনকে ১৭ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি শান্ত হলেও সতর্কতা জারি রয়েছে, কারণ ছোট শাবক থাকা মানেই ঝুঁকি আরও বৃদ্ধি।

হাতির চলাচলে সরগরম বাঁকুড়া, তিন শাবকেই ঘিরে বাড়তি সতর্কতা

বাঁকুড়ার বড়জোড়া ও বেলিয়াতোড় রেঞ্জে গত কয়েকদিন ধরেই প্রায় ৬০টি হাতির দল যাতায়াত করছে। দলে রয়েছে তিনটি এক মাসের কম বয়সের শাবক, যার কারণে হাতিদের গতিবেগ কমেছে এবং প্রশাসন নিরাপত্তা বাড়িয়েছে। বন দফতর মনে করছে, ধান কাটার পরে হাতিরা গতি ধরে রাখায় বড় ক্ষতির সম্ভাবনা কম।

বেলিয়াতোড়–বড়জোড়া জুড়ে নজরদারি, প্রশাসন–বন দফতরের যৌথ উদ্যোগ

ছোট শাবকদের নিরাপত্তাই এখন সর্বোচ্চ গুরুত্ব। বনকর্মী, পুলিশ, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি—সবাই হাতিদের চলাচলের রুটে সতর্ক নজর রাখছেন। বর্তমানে ৩৫টি হাতি রয়েছে বেলিয়াতোড় রেঞ্জে, বাকি দলটি বড়জোড়াতে ছড়িয়ে আছে। রুটে ডিউটি চালাচ্ছেন বনরক্ষীরা, যাতে মানুষ–হাতি সংঘাত এড়ানো যায়।

ক্ষতিগ্রস্তদের বড় স্বস্তি: ১৭ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ প্রদান

DFO (North) শেখ ফরিদ জানিয়েছেন,

নভেম্বর মাসেই ১৭ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ সরাসরি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাঠানো হয়েছে।

এতে ৪৮টি বাড়িঘর ও ১০১ হেক্টর ফসল নষ্টের ঘটনায় মোট ৮৭৮ জন ক্ষতিগ্রস্ত আর্থিক সাহায্য পেয়েছেন।

প্রায় ৯০% দাবি নিষ্পত্তি হয়েছে।

যাদের দাবি বাকি আছে, তারা নথি নিয়ে নিকটবর্তী বিট অফিসে যোগাযোগ করতে পারবেন।

মানুষ–হাতি সংঘাত রোধে গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা

প্রশাসন জানাচ্ছে—

হাতির দল দেখতে ভিড় করবেন না

ভিডিও তুলতে গিয়ে সামনে যাবেন না

চিৎকার–হুইসেল–আলো ব্যবহার করবেন নাএমন কোনও ভুল আচরণই বড় দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে—মানুষেরও, হাতিরও। বিশেষ করে ছোট শাবক সহ উপস্থিত হাতিদের আচরণ অনেকটাই রক্ষামূলক, ফলে অস্বাভাবিক উত্তেজনা তৈরি হতে পারে।

গন্তব্য দলমা–ময়ূরভঞ্জ: নিরাপদে পৌঁছে দেওয়াই এখন একমাত্র লক্ষ্য

সবাই চাইছে, এই বিশাল হাতির পরিবারটি যেন কোনও সংঘাত ছাড়া ঝাড়খণ্ডের দলমা ও ওড়িশার ময়ূরভঞ্জে পৌঁছে যায়। প্রশাসন নিশ্চিত করছে, মানুষের সহযোগিতা ও বন দফতরের নিয়মিত তৎপরতার মাধ্যমে যাত্রা নির্বিঘ্ন হবেই। তিনটি শাবকের উপস্থিতিই এই নজরদারিকে আরও মানবিক ও আরও সতর্ক করেছে।

বাঁকুড়ায় আবারও সক্রিয় হাতির চলাচল। প্রায় ৬০টি হাতির দল বড়জোড়া হয়ে ধীরে ধীরে ঝাড়খণ্ডের দলমার দিকে এগোচ্ছে। দলে রয়েছে তিনটি নবজাত শাবক, তাই যাত্রা আরও সতর্কতার। এদিকে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের জন্য বন দফতর ১৭ লক্ষ টাকার ক্ষতিপূরণ দিয়েছে।

Leave a comment