পার্ক স্ট্রিটের মতোই এবার বড়দিনে ঝলমল করবে সুন্দরবন। বিশেষত কৈখালীর পর্যটন অঞ্চলকে আলো, সাজসজ্জা ও বিশেষ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে নতুন রূপে সাজানো হচ্ছে। বর্ষবরণের রাতে নদীর ধারে আতসবাজির প্রদর্শনী থেকে শুরু করে ২৫ ডিসেম্বর থেকে ১ জানুয়ারির মধ্যে একগুচ্ছ উৎসবমুখর আয়োজন—সব মিলিয়ে বছরের শেষ সপ্তাহটিকে স্মরণীয় করতে কোমর বেঁধে নামছেন স্থানীয়রা।
কৈখালীতে উৎসবের আবহ: বড়দিনে রঙিন সাজসজ্জা
এ বছর বড়দিনের উৎসবকে ঘিরে আলাদা পরিকল্পনা করেছে সুন্দরবন পর্যটন মহল। কৈখালীর সামনের পুরো রাস্তা সাজিয়ে তোলা হচ্ছে রঙিন আলো, আলোকসজ্জা ও ব্যানার দিয়ে। স্থানীয়দের মতে, এবারের আয়োজন আগের বছরের তুলনায় আরও বড়, আরও আকর্ষণীয়।

শীতে বাড়ছে পর্যটকের ভিড়, বাঘ দেখাই প্রধান টান
শীত পড়তেই সুন্দরবনে পর্যটকের ভিড় কয়েকগুণ বেড়েছে। দূরদূরান্ত থেকে ভ্রমণপ্রেমীরা আসছেন মূলত রয়্যাল বেঙ্গল টাইগারের দেখা পাওয়ার আশায়। পাশাপাশি বোনাস হিসেবে মিলছে কুমির, হরিণ, নানা প্রজাতির পাখি ও বন্যপ্রাণীর দর্শন—যা পর্যটকের অভিজ্ঞতাকে আরও সমৃদ্ধ করছে।
বিশেষ ঘোষণা: বর্ষবরণের রাতে আতসবাজির শো
সম্পূর্ণ সুন্দরবনজুড়ে হোটেল মালিকরা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, এ বছর শীতের মরশুমে প্রতিটি হোটেল ও রিসর্টকে নতুনভাবে সাজানো হবে। ৩১ ডিসেম্বর রাত ১২টা বাজতেই নদীর পাড়ে আতসবাজির মনোমুগ্ধকর খেলা হবে—যা বর্ষবরণ রাতকে স্মরণীয় করে তুলবে।
২৫ ডিসেম্বর থেকে ১ জানুয়ারি—একগুচ্ছ কর্মসূচি
পর্যটক টানতে বড়দিন থেকে নতুন বছরের প্রথম দিন পর্যন্ত রয়েছে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, স্থানীয় শিল্পীদের পারফরম্যান্স, নৌবিহার ও বিশেষ ভ্রমণ প্যাকেজ। গত বছরের তুলনায় এবারে পর্যটক সংখ্যা আরও বাড়বে বলে মনে করছেন পর্যটন কর্তৃপক্ষ।

টানা বাঘের দেখা: উচ্ছ্বসিত পর্যটকরা
গত কয়েকদিন ধরে একসঙ্গে তিনটি বাঘ দেখা যাওয়া থেকে শুরু করে নদী সাঁতরে জঙ্গল পরিবর্তন—এই সমস্ত দৃশ্য পর্যটকদের ক্যামেরায় ধরা পড়েছে। এমন দুর্লভ মুহূর্ত সারা বছর দেখা যায় না বলেই শীতকালীন পর্যটনে বাড়তি উন্মাদনা তৈরি হয়েছে।
পর্যটন ব্যবসায়ীদের আশাবাদী মনোভাব
পর্যটন–ব্যবসায়ীদের মতে, এ বছর সুন্দরবনে পর্যটকের সংখ্যা রেকর্ড গড়তে পারে। হোটেল, নৌকা, খাবারদাবার এবং গাইড পরিষেবা—সব ক্ষেত্রেই লাভ বাড়বে বলে আশা করছেন ব্যবসায়ীরা।
শীতের শুরুতেই পর্যটকে ভরে উঠছে সুন্দরবন। বড়দিন ও বর্ষবরণের জন্য বিশেষ প্রস্তুতি চলছে কৈখালীর পুরো এলাকাজুড়ে—সাজানো রাস্তা, আলো, আতসবাজির শো ও একগুচ্ছ কর্মসূচি। টানা বাঘের দেখা মিলছে বলেই পর্যটকদের উচ্ছ্বাস আরও বাড়ছে।













