দোলে নয় ৬ মার্চ! বিশ্বভারতীতে বসন্ত উৎসব ২০২৬—কারা ঢুকতে পারবেন, কী থাকছে নির্দেশিকায়

দোলে নয় ৬ মার্চ! বিশ্বভারতীতে বসন্ত উৎসব ২০২৬—কারা ঢুকতে পারবেন, কী থাকছে নির্দেশিকায়

শান্তিনিকেতনের বসন্ত মানেই আবির, গানে-নাচে রঙিন প্রভাতফেরি। তবে এ বছরও দোলের দিন সেই ঐতিহ্য দেখা যাবে না। ৬ মার্চ আশ্রম প্রাঙ্গণে সীমিত পরিসরে পালিত হবে বসন্ত উৎসব ২০২৬। ঐতিহ্য সংরক্ষণ ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতেই এই সিদ্ধান্ত।

দোল নয়, ৬ মার্চ—কেন এই পরিবর্তন?

গত কয়েক বছরের ধারাবাহিকতায় ২০২৬ সালেও দোলের দিন বসন্ত উৎসব হচ্ছে না। ৬ মার্চ নির্ধারিত হয়েছে অনুষ্ঠানসূচি। ২০২৩ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর ইউনেস্কোর ‘ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ’ তকমা পাওয়ার পর থেকেই অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করছে কর্তৃপক্ষ। ঐতিহ্যবাহী পরিসরে অতিরিক্ত ভিড় ও বিশৃঙ্খলা এড়াতেই দিন পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত।

কারা থাকতে পারবেন, কারা নয়

কর্তৃপক্ষের নির্দেশ অনুযায়ী, বহিরাগত ও সাধারণ পর্যটকদের প্রবেশ নিষিদ্ধ। শুধুমাত্র পড়ুয়া, অধ্যাপক-অধ্যাপিকা, আশ্রমিক এবং প্রাক্তনীরাই নির্দিষ্ট পোশাকবিধি মেনে ‘ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ’ ক্যাম্পাসে প্রবেশাধিকার পাবেন। নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে কড়া নজরদারি থাকবে।

ঐতিহ্য রক্ষায় কড়াকড়ি

বিশ্বভারতী চত্বরে অবস্থিত শান্তিনিকেতন গৃহ, উপাসনা গৃহ, ছাতিমতলা, সিংহ সদন, ঘণ্টাতলা, কালোবাড়ি এবং রামকিঙ্কর বেইজ-এর ভাস্কর্য আন্তর্জাতিক গুরুত্বসম্পন্ন ঐতিহ্যের অংশ। এই ঐতিহ্য সংরক্ষণে বাড়তি বিধিনিষেধ জারি করা হয়েছে। পাশাপাশি ‘হেরিটেজ ওয়াক’-এর মাধ্যমে দর্শনার্থীদের জন্য আলাদা ব্যবস্থাও চালু রয়েছে।

ঘরোয়া পরিবেশে রবীন্দ্রনাথের প্রবর্তিত উৎসব

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রবর্তিত এই বসন্ত উৎসব মূলত সংস্কৃতি, সংগীত ও শৃঙ্খলাপূর্ণ আবহে উদ্‌যাপনের বার্তা বহন করে। তাই সীমিত পরিসরে, আশ্রমিকদের অংশগ্রহণেই অনুষ্ঠান আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যাতে ঐতিহ্যের মর্যাদা অক্ষুণ্ণ থাকে।

২০২৬ সালে দোলের দিন নয়, ৬ মার্চ ঘরোয়া পরিবেশে বসন্ত উৎসব আয়োজন করবে বিশ্বভারতী। ইউনেস্কোর ‘ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ’ মর্যাদা রক্ষার্থে বহিরাগত ও পর্যটকদের প্রবেশ নিষিদ্ধ থাকবে। কেবল পড়ুয়া, শিক্ষক-শিক্ষিকা, আশ্রমিক ও প্রাক্তনীরাই নির্দিষ্ট পোশাকবিধি মেনে অংশ নিতে পারবেন।

Leave a comment