বর্তমান ব্যস্ত জীবনযাত্রা, অনিয়মিত খাবার এবং শরীরচর্চার অভাবে দ্রুত বাড়ছে পেটের মেদ। বিশেষ করে ভুঁড়ি বেড়ে গেলে শুধু সৌন্দর্য নয়, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ ও হৃদরোগের ঝুঁকিও বাড়ে। এমন পরিস্থিতিতে অনেকেই ঘরোয়া উপায়ে ওজন কমানোর রাস্তা খুঁজছেন। সেই তালিকায় এখন জনপ্রিয় নাম অ্যাপেল সাইডার ভিনিগার।
কী এই অ্যাপেল সাইডার ভিনিগার?
আপেলের রস গাঁজিয়ে তৈরি করা হয় অ্যাপেল সাইডার ভিনিগার। এতে থাকে অ্যাসিটিক অ্যাসিড, কিছু অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও উপকারী এনজাইম। পুষ্টিবিদদের মতে, এই উপাদানগুলি শরীরের বিপাকক্রিয়া বা মেটাবলিজমকে সক্রিয় রাখতে সাহায্য করতে পারে। ফলে অতিরিক্ত ক্যালোরি জমার প্রবণতা কিছুটা কমে।
কীভাবে সাহায্য করতে পারে ওজন কমাতে?
বিশেষজ্ঞদের দাবি, অ্যাপেল সাইডার ভিনিগার দীর্ঘক্ষণ পেট ভর্তি থাকার অনুভূতি তৈরি করতে পারে। ফলে বারবার খিদে পাওয়া বা অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতা কমে। এর ফলে ক্যালোরি গ্রহণও কম হতে পারে। পাশাপাশি হজমশক্তি উন্নত করতেও এটি কিছু মানুষের ক্ষেত্রে কার্যকর বলে মনে করা হয়।
ব্লাড সুগার নিয়ন্ত্রণে কতটা উপকারী?
কিছু গবেষণায় দেখা গিয়েছে, খাবারের আগে পরিমিত পরিমাণে অ্যাপেল সাইডার ভিনিগার খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত বেড়ে যাওয়ার প্রবণতা কমতে পারে। এটি ইনসুলিন সংবেদনশীলতা বাড়াতেও সাহায্য করতে পারে বলে মত বিশেষজ্ঞদের একাংশের। তবে চিকিৎসকদের স্পষ্ট বক্তব্য, এটি কখনওই ডায়াবেটিসের ওষুধের বিকল্প নয়।
কীভাবে খাবেন এই পানীয়?
পুষ্টিবিদদের পরামর্শ অনুযায়ী, সরাসরি অ্যাপেল সাইডার ভিনিগার খাওয়া উচিত নয়।
এক গ্লাস হালকা গরম জলে ১ থেকে ২ চা চামচ অ্যাপেল সাইডার ভিনিগার মিশিয়ে পান করা যেতে পারে। ইচ্ছে হলে সামান্য মধুও যোগ করা যায়। সাধারণত সকালে খালি পেটে বা খাবারের আগে এটি পান করার পরামর্শ দেওয়া হয়।
অতিরিক্ত খেলেই বিপদ!
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন, অতিরিক্ত অ্যাপেল সাইডার ভিনিগার খেলে অ্যাসিডিটি, পেটে জ্বালা বা হজমের সমস্যা দেখা দিতে পারে। যাঁদের আলসার, কিডনির সমস্যা বা গ্যাস্ট্রিকের প্রবণতা রয়েছে, তাঁদের অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে এটি খাওয়া উচিত। গর্ভবতী মহিলা ও নিয়মিত ওষুধ খান এমন ব্যক্তিদের ক্ষেত্রেও সতর্কতা জরুরি।
ওজন বৃদ্ধি, তলপেটের মেদ এবং অনিয়ন্ত্রিত ব্লাড সুগার—এই তিন সমস্যায় আজ ভুগছেন বহু মানুষ। বিশেষজ্ঞদের মতে, অ্যাপেল সাইডার ভিনিগার বা ACV পরিমিত পরিমাণে খেলে কিছু ক্ষেত্রে উপকার মিলতে পারে। তবে এটি কোনও ম্যাজিক ড্রিঙ্ক নয়, বরং সঠিক ডায়েট ও জীবনযাপনের সহায়ক মাত্র।













