১০ মিনিটের ডেলিভারি বন্ধ করছে Blinkit? ‘গিগ’ বিতর্ক ও কর্মী মৃত্যুর অভিযোগের জেরেই কি সিদ্ধান্ত

১০ মিনিটের ডেলিভারি বন্ধ করছে Blinkit? ‘গিগ’ বিতর্ক ও কর্মী মৃত্যুর অভিযোগের জেরেই কি সিদ্ধান্ত

মিনিট দশেকের মধ্যে পণ্য পৌঁছে দেওয়ার দৌড়ে কি থামতে চলেছে Blinkit? গিগ কর্মীদের লাগাতার আন্দোলন, সংসদে বিষয়টি উত্থাপন এবং কর্মীদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠার পর ১০ মিনিটের ডেলিভারি পরিষেবা বন্ধের সিদ্ধান্ত নিতে পারে এই কুইক-কমার্স সংস্থা—এমনই ইঙ্গিত মিলছে।

‘কুইক ডেলিভারি’ই কাল? কর্মীদের অভিযোগ

গিগ কর্মীদের অভিযোগ, মাত্র ১০ মিনিটের মধ্যে ডেলিভারি দেওয়ার লক্ষ্যে অতিরিক্ত গতিতে বাইক চালাতে বাধ্য করা হয়। এর ফলেই বহু ক্ষেত্রে দুর্ঘটনা ও প্রাণহানির ঘটনা ঘটছে। অন্যদিকে, নির্ধারিত সময়ের সামান্য এদিক-ওদিক হলেই কর্মীদের গুনতে হয় কড়া জরিমানা।

কম মজুরি ও দীর্ঘ কর্মঘণ্টা নিয়ে ক্ষোভ

ডেলিভারি পার্টনারদের দাবি, কম পারিশ্রমিকের সঙ্গে দীর্ঘ সময় কাজ করতে হয়। সামাজিক সুরক্ষা, বিমা বা ভবিষ্যৎ সঞ্চয়ের কোনও স্থায়ী ব্যবস্থা নেই। এমন পরিস্থিতিতে গিগ অর্থনীতি ক্রমেই কর্মীবান্ধব না হয়ে উঠছে বলেই অভিযোগ।

ধর্মঘট ও দেশজুড়ে আন্দোলনের প্রভাব

গত বছরের শেষে কম মজুরি ও দ্রুত পরিষেবার বিরুদ্ধে পথে নামেন বহু গিগ কর্মী। আমাজন, সুইগি, জোমাটো, জেপ্টো, ফ্লিপকার্ট ও Blinkit—একাধিক ডেলিভারি অ্যাপের কর্মীরা ধর্মঘটে শামিল হন। তাঁদের দাবি ছিল, কারণ না দেখিয়ে ছাঁটাই বন্ধ করতে হবে এবং পিএফ ও বিমার মতো ন্যূনতম সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে।

সংসদেও উঠেছে ‘গিগ’ সুরক্ষার প্রশ্ন

সংসদের শীতকালীন অধিবেশনে আপ সাংসদ রাঘব চাড্ডা গিগ কর্মীদের নিরাপত্তা নিয়ে সরব হন। তিনি দ্রুত ডেলিভারির চাপে কর্মীদের জীবন ঝুঁকির মুখে পড়ছে বলে অভিযোগ তোলেন এবং ডেলিভারি অ্যাপগুলির বিরুদ্ধে কড়া নজরদারির দাবি জানান।

কেন্দ্রের নয়া গিগ প্রকল্প ও Blinkit-এর সিদ্ধান্ত

এই বিতর্কের মধ্যেই নতুন বছরে কেন্দ্রীয় সরকার গিগ ও প্ল্যাটফর্ম ওয়ার্কারদের জন্য ১০০ দিনের কাজের আদলে নয়া প্রকল্পের ঘোষণা করে। আধার রেজিস্ট্রেশন, ডিজিটাল আইডি ও সামাজিক সুরক্ষা কোডের আওতায় আনার পরিকল্পনা নেওয়া হয়। এই আবহেই Blinkit-এর ১০ মিনিটের ডেলিভারি পরিষেবা বন্ধের খবর তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

গিগ কর্মীদের নিরাপত্তা ও কাজের অমানবিক চাপ নিয়ে ক্রমবর্ধমান বিতর্কের মধ্যেই ১০ মিনিটের ডেলিভারি পরিষেবা বন্ধ করার পথে হাঁটতে চলেছে Blinkit। দ্রুত ডেলিভারির চাপে দুর্ঘটনা, প্রাণহানি ও জরিমানার অভিযোগ উঠতেই এই সিদ্ধান্ত বলে দাবি সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের।

Leave a comment