কানাডার পাল্টা ট্যারিফ ৮ সেপ্টেম্বর থেকে ৭০০টির বেশি মার্কিন পণ্যে

যুক্তরাষ্ট্রের ট্যারিফ নীতির জবাবে কানাডা প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলার মূল্যের ৭০০টির বেশি মার্কিন পণ্যে ১৫, ২৫ ও ৫০ শতাংশ পর্যন্ত পাল্টা শুল্ক ঘোষণা করেছে। নতুন শুল্ক ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ থেকে কার্যকর হবে।

কানাডা সরকার যুক্তরাষ্ট্রের ট্যারিফ নীতির জবাবে প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলার মূল্যের ৭০০টির বেশি মার্কিন পণ্যের ওপর ১৫, ২৫ এবং ৫০ শতাংশ পর্যন্ত পাল্টা শুল্ক আরোপের ঘোষণা করেছে। নতুন শুল্ক ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ থেকে কার্যকর হবে।

কানাডার নতুন ট্যারিফ তালিকায় শিল্পপণ্যের পাশাপাশি দৈনন্দিন ব্যবহারের বিভিন্ন পণ্যও রয়েছে। এর মধ্যে ইস্পাত ও অ্যালুমিনিয়াম, গৃহস্থালি সরঞ্জাম, কৃষি সরঞ্জাম, আসবাবপত্র, পোশাক, ইলেকট্রনিক্স, পনির ও অন্যান্য দুগ্ধজাত পণ্য, মাছ ও সামুদ্রিক খাদ্য, প্রসাধনী এবং টয়লেট পেপার অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

কিছু মার্কিন পণ্যের ওপর শুল্কের হার ৫০ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে। অন্যদিকে, বিভিন্ন পণ্যের ওপর ২৫ শতাংশ এবং কিছু শ্রেণির পণ্যের ওপর ১৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে। যুক্তরাষ্ট্র থেকে কানাডায় যাওয়া ইস্পাত ও অ্যালুমিনিয়াম পণ্যের ওপর এই পদক্ষেপের প্রভাব পড়বে। কানাডার কর্মকর্তাদের মতে, এই পদক্ষেপের উদ্দেশ্য শুধু সরকারি রাজস্ব বাড়ানো নয়; বরং মার্কিন ট্যারিফের প্রভাব থেকে দেশীয় সংস্থাগুলোকে সুরক্ষা দেওয়া এবং যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি কমানো।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে কানাডীয় পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ পর্যন্ত ট্যারিফ আরোপের পর কানাডা পাল্টা শুল্কের ঘোষণা দিয়েছে। বাণিজ্য আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর মার্কিন প্রশাসন কানাডার ওপর নতুন ট্যারিফ কার্যকর করেছে।

কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য নীতির বিষয়ে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। তিনি অভিযোগ করেছেন, মার্কিন দাবিগুলো কানাডার গুরুত্বপূর্ণ শিল্পগুলোর ক্ষতি করতে পারে। তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, অর্থনীতি ও দেশীয় শিল্পকে সুরক্ষিত রাখতে কানাডা প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করে যাবে।

ডোনাল্ড ট্রাম্প কানাডার সঙ্গে বাণিজ্য বিরোধ নিয়ে নিজের অবস্থান পরিবর্তন করেননি। তিনি কানাডীয় নেতৃত্বকে মার্কিন দাবিগুলো মেনে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন এবং সতর্ক করেছেন, তা না হলে বর্তমান শুল্কের চেয়েও কঠোর অর্থনৈতিক পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।

কানাডার পাল্টা ট্যারিফ ৮ সেপ্টেম্বর থেকে ৭০০টির বেশি মার্কিন পণ্যে

ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে কানাডীয় যানবাহন, যানবাহনের যন্ত্রাংশ এবং ইস্পাতের ওপর অতিরিক্ত ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপের সতর্কতাও দেওয়া হয়েছে। এর ফলে অটোমোবাইল ও উৎপাদন খাতে বাণিজ্যিক অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে।

এদিকে, অন্টারিও হ্রদের নাম পরিবর্তন করে ‘লেক আমেরিকা’ করার বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে বলে ট্রাম্পের মন্তব্যও বিতর্কের সৃষ্টি করেছে। কানাডার অন্টারিও প্রদেশের প্রিমিয়ার ডগ ফোর্ডের সঙ্গে তার মতবিরোধের মধ্যেই এই মন্তব্য সামনে আসে।

কানাডার ঘোষিত নতুন পাল্টা শুল্ক ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ থেকে কার্যকর হবে। কর্মকর্তাদের মতে, কিছু ক্ষেত্রে কানাডা যুক্তরাষ্ট্রের আরোপ করা শুল্কের সমান হারে পাল্টা শুল্ক নির্ধারণ করেছে। আগে ২৫ শতাংশ শুল্ক থাকা কয়েকটি পণ্যের ক্ষেত্রে এখন ৫০ শতাংশ পর্যন্ত ট্যারিফ আরোপ করা হতে পারে।

মার্কিন যানবাহনের ওপর কানাডার আগে থেকে কার্যকর পাল্টা শুল্ক আপাতত বহাল থাকবে। এর ফলে দুই দেশের অটোমোবাইল খাতে অতিরিক্ত চাপ তৈরি হতে পারে।

ট্যারিফ বিরোধের মধ্যে কানাডা সরকার ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসা ও কর্মীদের জন্য প্রায় ৭.৫ বিলিয়ন কানাডীয় ডলারের সহায়তা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে। সরকারের বক্তব্য অনুযায়ী, পাল্টা শুল্কের কারণে কিছু সংস্থা ও ভোক্তার খরচ বাড়তে পারে, তবে বৃহত্তর অর্থনীতিতে এর প্রভাব নিয়ন্ত্রিত রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে।

কানাডা সরকারের মতে, ২০২৫ সালের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত ট্যারিফের প্রভাব কমাতে ৩০ বিলিয়ন কানাডীয় ডলারের বেশি সহায়তা দেওয়া হয়েছে।

 

Leave a comment