Christmas Holiday Trip: মেঘে ঢাকা শান্ত চিমেনি গ্রামে সঙ্গীকে নিয়ে হারিয়ে যান, বড়দিন কাটুক প্রকৃতির কোলে

Christmas Holiday Trip: মেঘে ঢাকা শান্ত চিমেনি গ্রামে সঙ্গীকে নিয়ে হারিয়ে যান, বড়দিন কাটুক প্রকৃতির কোলে

মেঘে মোড়া পাহাড়, বাতাসে ভেসে আসা চা-বাগানের সুবাস, আর চারদিক জুড়ে নিস্তব্ধতা—কার্শিয়ংয়ের কাছে ছোট্ট পাহাড়ি গ্রাম চিমেনি যেন এক লুকানো স্বর্গ। বড়দিনের ছুটিতে শহরের দমবন্ধ পরিবেশ থেকে দূরে কিছু অকৃত্রিম শান্তি চাইলে এই গ্রাম আপনাকে আপন করে নেবে চোখের পলকে। এখানে প্রকৃতি আপনি-আমি কোনও ভ্রমণকারীকে নয়, বরং অতিথি মনে করে সাদরে বরণ করে নেয়। আর এই কারণেই বছরের শেষ সপ্তাহে চিমেনি হয়ে ওঠে দম্পতি, পরিবার এবং প্রকৃতিপ্রেমীদের আদর্শ ছুটি কাটানোর জায়গা।

কার্শিয়ংয়ের পাশেই এক নীরব স্বর্গ—চিমেনি গ্রাম

কার্শিয়ং থেকে মাত্র ১১ কিলোমিটার দূরে পাহাড়ি ঘুরপথ পেরোলেই চোখে পড়ে শান্ত, মনোরম গ্রাম চিমেনি (বা চিমনি)। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় ব্রিটিশদের তৈরি একটি বিশাল ২৪ ফুট উঁচু চিমনিকে কেন্দ্র করেই এই গ্রামের নামকরণ। সময়ের ঘর্ষণে বহু কিছু ফিকে হয়েছে ঠিকই, কিন্তু চিমনিটির দাঁড়িয়ে থাকা যেন পাহাড়ের বুক জুড়ে ইতিহাসের সাক্ষ্যবহন করে। শীত হোক বা গ্রীষ্ম—এই চিমনির সামনে দাঁড়ালেই মনে হয় যেন সময় থমকে দাঁড়িয়েছে।

মেঘের দুয়ারে লুকিয়ে থাকা অসম্ভব সুন্দর প্রকৃতি

চিমেনি এমন এক গ্রাম যেখানে আপনি আকাশ ছুঁয়ে থাকা মেঘকে হাতের মুঠোয় পাবেন। চারদিক জুড়ে ঘূর্ণায়মান চা-বাগান, দূরে চোখে পড়বে তিস্তা আর মহানন্দার নীলাভ জলরেখা। এই দুই নদীর মনোরম দৃশ্য যেন পাহাড়ের কোলে বসে আঁকা জলরঙের ছবি। এখানে দাঁড়িয়ে মনে হবে—শহরের ব্যস্ততা নেই, নেই হর্নের শব্দ, নেই ব্যস্ততার জট… আছে শুধু প্রকৃতি আর তার মায়াবী নীরবতা।

হোমস্টে থেকে ইতিহাস—সবকিছুই হাতের কাছে

চিমেনি গ্রামে থাকার জায়গা মূলত হোমস্টে, যেখানে মিলবে পর্বতীয় আতিথেয়তা। এখান থেকে কয়েক মিনিট হাঁটলেই পৌঁছে যাবে ঐতিহাসিক ব্রিটিশ চিমনির কাছে। ভোরের আলোয় বা সন্ধ্যার আবছায়ায় এই চিমনির সামনে দাঁড়ানো এক অনন্য অভিজ্ঞতা। কুয়াশার আস্ত পর্দা নেমে এলে জায়গাটা আরও রহস্যময় হয়ে ওঠে।

ট্রেকিংপ্রেমীদের জন্য এক লুকোনো ধনভাণ্ডার

অ্যাডভেঞ্চারপ্রেমীদের জন্য চিমেনি বেশ জনপ্রিয়। এখান থেকে মাত্র ৮ কিলোমিটার ট্রেক করেই পৌঁছে যাওয়া যায় বাগোড়া। রাস্তাটা যেমন মনোরম, তেমনই চ্যালেঞ্জিং। এছাড়া একদিনের ভ্রমণে খুব কাছেই রয়েছে চাতকপুর—যেখান থেকে দেখা যায় হিমালয়ের তুষারঢাকা শৃঙ্গের মনমুগ্ধকর রূপ। এছাড়া ডাউহিল ডিয়ার পার্ক, বন জাদুঘর এবং নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু জাদুঘরও পর্যটকদের আকৃষ্ট করে।

চা-বাগানের দেশ—দার্জিলিং ঘুরতে গেলে চিমেনি অবশ্যই দেখার মতো

দার্জিলিং গেলে চিমেনি ঘুরে দেখা আজকাল অনেকের কাছে ‘মাস্ট ভিজিট’। এখানে থেকে খুব সহজেই ঘুরে নেওয়া যায় পূর্ব ভারতের বিখ্যাত চা-বাগানগুলি—

ক্যাসলটন টি এস্টেট

মন্টেভিওট টি এস্টেট

সিঙ্গেল টি এস্টেট

মাকাইবাড়ি টি এস্টেট

শতবর্ষ প্রাচীন ঐতিহ্য, পাহাড়ি সৌন্দর্য আর চায়ের সুবাস মিলিয়ে চিমেনি ধীরে ধীরে হয়ে উঠছে কার্শিয়ংয়ের অন্যতম আকর্ষণীয় পর্যটন কেন্দ্র।

বড়দিনের ছুটিতে ভিড়ভাট্টা নয়, প্রকৃতির শান্তিই যদি খুঁজে থাকেন, তবে কার্শিয়ং থেকে মাত্র ১১ কিলোমিটার দূরের চিমেনি গ্রাম আপনাকে দেবে অনন্য অভিজ্ঞতা। চা-বাগানের সবুজ চাদর, নদীর মনোরম দৃশ্য আর শতবর্ষ প্রাচীন ব্রিটিশ চিমনি—সব মিলিয়ে এই পাহাড়ি গ্রাম এখন পর্যটকদের অন্যতম পছন্দের গন্তব্য।

Leave a comment