হঠাৎ লক্ষ্য করছেন প্রস্রাবের রং স্বাভাবিক নয়, কিছুটা ঘোলাটে? একে হালকাভাবে নেবেন না। অনেক সময় শরীরে অতিরিক্ত লবণ, পিউরিন বা ফসফরাস জমে গেলে এমন পরিবর্তন দেখা দেয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, খাদ্যতালিকায় সামান্য পরিবর্তনেই বড় বিপদ এড়ানো সম্ভব।
কেন ঘোলাটে হয় প্রস্রাব?
ঘোলাটে প্রস্রাবের পেছনে থাকতে পারে ডিহাইড্রেশন, মূত্রনালির সংক্রমণ (UTI), কিডনিতে পাথর, প্রস্টেটের সমস্যা বা অতিরিক্ত মিনারেল জমা। দীর্ঘদিন উপেক্ষা করলে জটিলতা বাড়তে পারে। তাই প্রথমেই নজর দিন খাদ্যাভ্যাসে।
কী বলছেন বিশেষজ্ঞ?
বেঙ্গালুরুর রিচমন্ড রোডের Fortis Hospital-এর ওবেস্টেট্রিকস ও ইউরো-গাইনিকোলজির সিনিয়র কনসালট্যান্ট ডা. রুবিনা শাহানওয়াজ জেড জানান, “শরীরে অতিরিক্ত লবণ, চিনি বা পিউরিন জমলে প্রস্রাবের রং ও গন্ধে পরিবর্তন আসতেই পারে। পর্যাপ্ত জলপান ও সঠিক খাদ্যাভ্যাস অত্যন্ত জরুরি।”
অতিরিক্ত লবণযুক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবার
চিপস, ক্যানজাত খাবার, প্রক্রিয়াজাত মাংসে থাকে উচ্চমাত্রার সোডিয়াম। বেশি লবণ ও কম জলপান মিলেই ডিহাইড্রেশন ঘটায়, ফলে প্রস্রাব ঘোলাটে হয়।
অতিরিক্ত চিনি ও মিষ্টি পানীয়
প্যাকেটজাত জুস, সোডা ও মিষ্টি খাবারে উচ্চমাত্রার চিনি থাকে। অতিরিক্ত চিনি শরীরে ইউরিক অ্যাসিড বাড়ায়, যা প্রস্রাবের স্বচ্ছতা নষ্ট করতে পারে।
দুধ ও দুগ্ধজাত খাবার
অতিরিক্ত দুধ বা চিজ খেলে শরীরে ফসফরাসের মাত্রা বাড়ে। বিশেষ করে যাঁদের কিডনির সমস্যা রয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রে এই প্রভাব আরও বেশি দেখা যায়।
রেড মিট ও সামুদ্রিক মাছ
রেড মিট ও কিছু সামুদ্রিক মাছ যেমন সার্ডিনে উচ্চমাত্রার পিউরিন থাকে। বিপাকে তা ইউরিক অ্যাসিডে পরিণত হয়ে প্রস্রাবের রং ঘোলাটে করতে পারে।
অ্যালকোহল ও ক্যাফিন
অতিরিক্ত অ্যালকোহল, কফি বা চা শরীরে জলশূন্যতা তৈরি করে। ক্যাফিন ডিহাইড্রেশন বাড়িয়ে প্রস্রাবের রং ও গন্ধ বদলে দেয়।
কী করবেন?
দিনে অন্তত ৮–১০ গ্লাস জল পান করুন
লবণ ও চিনি নিয়ন্ত্রণে রাখুন
সমস্যা দীর্ঘস্থায়ী হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন
প্রস্রাবে জ্বালা, ব্যথা বা রক্ত দেখা গেলে অবিলম্বে পরীক্ষা করান
প্রস্রাবের রং ও গন্ধ শরীরের ভেতরের অবস্থা সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত দেয়। ঘোলাটে প্রস্রাব ডিহাইড্রেশন, সংক্রমণ বা ভুল খাদ্যাভ্যাসের ফল হতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কিছু নির্দিষ্ট খাবার কমালেই মিলতে পারে উপশম।













