ভারতীয় রান্নাঘরে দই মানেই পরিচিত স্বাদ ও পুষ্টির ভাণ্ডার। তবু এই সাধারণ খাবারটিকেই ঘিরে ভয় আর ভ্রান্ত ধারণার শেষ নেই। কেউ বলেন দই খেলে ঠান্ডা লাগে, কেউ বলেন ওজন বেড়ে যায়, আবার অনেক ডায়াবেটিস রোগী দই ছুঁতেও ভয় পান। বাস্তবে দই কি সত্যিই এতটা ক্ষতিকর? নাকি আমরা অকারণেই এক পুষ্টিকর খাবারকে দূরে সরিয়ে রাখছি?
দই খেলে ঠান্ডা, কাশি বা সাইনাস হয়
চিকিৎসকদের মতে, দই শ্লেষ্মা তৈরি করে—এমন কোনও বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। কারও দই খেয়ে অস্বস্তি হলে তা ব্যক্তিগত সংবেদনশীলতার ফল, দইয়ের দোষ নয়। বরং তাজা দই অন্ত্রের স্বাস্থ্যে উপকারী।
রাতে দই খাওয়া একেবারেই নিষিদ্ধ
রাতে দই খাওয়া মানেই বিপদ—এই ধারণারও কোনও ভিত্তি নেই। যাদের হজমশক্তি ভালো, তারা রাতে সাধারণ দই খেতে পারেন। সমস্যা হয় মূলত অতিরিক্ত টক দই বা ভারী, ভাজা খাবারের সঙ্গে খেলে।
দই খেলেই ওজন বাড়ে
এটি সবচেয়ে প্রচলিত মিথ। বাস্তবে দইয়ে থাকা প্রোটিন ও প্রোবায়োটিক দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখতে সাহায্য করে। নিয়মিত দই খাওয়া বিপাকক্রিয়া উন্নত করে এবং ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করতে পারে।
দই হজমের শত্রু
তাজা দই অন্ত্রের ভালো ব্যাকটেরিয়া বাড়ায় এবং ল্যাকটোজ হজমে সাহায্য করে। তবে অতিরিক্ত টক বা বেশি গাঁজন করা দই কিছু মানুষের জন্য সমস্যা তৈরি করতে পারে।
ডায়াবেটিস রোগীদের দই এড়িয়ে চলা উচিত
মিষ্টি ছাড়া সাধারণ দইয়ের গ্লাইসেমিক লোড কম। নিয়ন্ত্রিত পরিমাণে দই ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য নিরাপদ, এমনকি ইনসুলিন সংবেদনশীলতা বাড়াতেও সাহায্য করে।
সব প্যাকেটজাত দই মানেই প্রোবায়োটিক
সব প্যাকেটজাত দইয়ে প্রোবায়োটিক থাকে না। ঘরে তৈরি দই বা স্পষ্টভাবে ‘প্রোবায়োটিক’ লেখা দইই সবচেয়ে ভালো বিকল্প।
দই নিয়ে রয়েছে অসংখ্য ভুল ধারণা—ওজন বাড়ায়, রাতে খাওয়া নিষেধ, হজমের বারোটা বাজে কিংবা ডায়াবেটিসে বিপজ্জনক! কিন্তু চিকিৎসাবিজ্ঞান কী বলছে? বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী দই আদৌ ক্ষতিকর নয়, বরং সঠিকভাবে খেলে হতে পারে স্বাস্থ্যের বড় সহায়ক।













