রান্নাঘরের এক কোণে অবহেলায় পড়ে থাকা ছোট্ট কারি পাতা যে এত বড় স্বাস্থ্যরক্ষক হতে পারে, তা জানলে চমকে উঠবেন অনেকেই। পুষ্টিবিদদের মতে, নিয়ম মেনে কারি পাতা খেলে নিয়ন্ত্রণে থাকে কোলেস্টেরল ও ব্লাড সুগার, সঙ্গে মেলে আরও একাধিক উপকার।
কোলেস্টেরল ও ব্লাড সুগার কমাতে কারি পাতার ভূমিকা
পুষ্টিবিদ চিকিৎসক স্বপ্না সিং জানাচ্ছেন, কারি পাতায় থাকা শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরের ক্ষতিকর ফ্যাট কমাতে সাহায্য করে। ফলে খারাপ কোলেস্টেরল (LDL) নিয়ন্ত্রণে থাকে এবং ডায়াবেটিস রোগীদের রক্তে শর্করার মাত্রা স্থিতিশীল থাকে।
পুষ্টিগুণে ভরপুর ছোট্ট সবুজ পাতা
কারি পাতায় রয়েছে তামা, ক্যালসিয়াম, ফসফরাস, ম্যাগনেসিয়াম, আয়রন, ফাইবার ও কার্বোহাইড্রেট। এই সব পুষ্টি উপাদান একসঙ্গে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এবং দৈনন্দিন শক্তির জোগান দেয়।
হজমশক্তি বাড়াতে কার্যকর
কারি পাতার ফাইবার ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট কোষ্ঠকাঠিন্য, অ্যাসিডিটি ও বদহজমের সমস্যা দূর করতে সাহায্য করে। নিয়মিত খেলে অন্ত্র পরিষ্কার থাকে এবং পেটের গোলমাল কমে।
হৃদযন্ত্র ও চোখের জন্য উপকারী
ভিটামিন-এ সমৃদ্ধ কারি পাতা চোখের স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি, এতে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে সহায়ক ভূমিকা নেয়।
ত্বক ও চুলে প্রাকৃতিক জেল্লা
কারি পাতা ত্বক উজ্জ্বল করে ও চুলের গোড়া মজবুত করে। চুল পড়া কমাতে এবং অকালপক্বতা রুখতেও এটি কার্যকর বলে মত বিশেষজ্ঞদের।
কীভাবে খাবেন কারি পাতা?
সকালে খালি পেটে ৫–৭টি কাঁচা কারি পাতা চিবিয়ে খাওয়া যেতে পারে
কারি পাতার চাটনি বা ভাজা গুঁড়ো করেও খাওয়া যায়
রান্নায় ফোড়নে ব্যবহার করলে উপকারিতা বজায় থাকে
কারা সতর্ক থাকবেন?
গর্ভবতী মহিলা, স্তন্যদানকারী মা, ছোট শিশু এবং যাদের অতিরিক্ত অ্যাসিডিটি, হজমের সমস্যা বা রক্তচাপের অসুবিধা রয়েছে—তাঁদের চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কারি পাতা খাওয়া উচিত নয়।
কারি পাতা শুধু রান্নার স্বাদ বাড়ায় না, শরীরের ভিতরেও করে চমক। কোলেস্টেরল ও রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণ থেকে শুরু করে হজম, হৃদযন্ত্র, ত্বক ও চুল—সবেতেই কার্যকর এই সবুজ পাতা। তবে সঠিক নিয়মে খাওয়াই সবচেয়ে জরুরি।













