Curtain Cleaning without Taking Down: ঘরের পর্দায় প্রতিদিনই ধুলো-বালি জমে। জানালা খোলা থাকলে বাইরের ধুলো, রান্নাঘরের কাছে থাকলে তেল ও ধোঁয়া, আবার পোষ্য থাকলে তাদের লোমও পর্দায় আটকে যেতে পারে। কিন্তু ভারী পর্দা খুলে ধোয়া, শুকানো এবং ফের রডে লাগানো—সব মিলিয়ে কাজটা কম ঝক্কির নয়। তাই নিয়মিত পরিষ্কারের জন্য এমন কিছু পদ্ধতি জানা থাকলে সুবিধা হয়, যাতে প্রতিবার পর্দা খুলতে না হয়।
প্রথমে ভ্যাকুয়াম ক্লিনার দিয়ে ধুলো সরান
পর্দার উপর জমে থাকা শুকনো ধুলো পরিষ্কারের জন্য নরম ব্রাশ অ্যাটাচমেন্ট-সহ ভ্যাকুয়াম ক্লিনার ব্যবহার করতে পারেন। উপর থেকে নীচের দিকে ধীরে ধীরে চালান।পর্দার ভাঁজ, কুঁচি এবং নীচের অংশে সাধারণত বেশি ধুলো জমে। তাই এই জায়গাগুলিতে একটু বেশি নজর দিন। পাতলা বা সূক্ষ্ম কাপড়ের পর্দা হলে ভ্যাকুয়াম ক্লিনারের মুখে অতিরিক্ত চাপ দেবেন না।
মাইক্রোফাইবার কাপড়েও হবে কাজ
ভ্যাকুয়াম ক্লিনার না থাকলে পরিষ্কার মাইক্রোফাইবার কাপড় ব্যবহার করা যায়। কাপড়টি দিয়ে উপর থেকে নীচের দিকে আলতোভাবে মুছুন।পর্দার ভাঁজ ও কুঁচির ভিতর জমে থাকা ধুলোও ধীরে ধীরে পরিষ্কার করুন। তবে খুব জোরে ঘষবেন না। তাতে ধুলো ছড়িয়ে যেতে পারে বা কাপড়ের তন্তুর ভিতরে আরও ঢুকে যেতে পারে।
দুর্গন্ধ কমাতে বেকিং সোডা
পর্দায় হালকা গন্ধ থাকলে বেকিং সোডা ব্যবহার করা যেতে পারে। শুকনো পর্দার উপর অল্প পরিমাণ বেকিং সোডা ছড়িয়ে প্রায় ৩০ মিনিট রেখে দিন। এরপর ভ্যাকুয়াম ক্লিনার দিয়ে ভালোভাবে তুলে ফেলুন।চাইলে বেকিং সোডা জলে মিশিয়ে হালকা স্প্রে করার কথাও অনেকে বলেন। তবে কোনও নতুন মিশ্রণ ব্যবহারের আগে পর্দার অদৃশ্য অংশে অল্প দিয়ে কাপড়ের রং বা টেক্সচারে কোনও পরিবর্তন হচ্ছে কি না দেখে নেওয়া ভালো।
রান্নাঘরের পাশের পর্দায় তেলের দাগ হলে
রান্নাঘরের কাছাকাছি জানালায় থাকা পর্দায় তেল-ধোঁয়ার দাগ বেশি জমতে পারে। সেক্ষেত্রে অল্প পরিমাণ ডিশওয়াশিং লিকুইড জলে মিশিয়ে একটি হালকা ক্লিনিং সলিউশন তৈরি করা যায়।দাগের জায়গায় সরাসরি বেশি পরিমাণে না দিয়ে অল্প করে প্রয়োগ করুন। জোরে ঘষার বদলে নরম কাপড় দিয়ে আলতোভাবে চেপে পরিষ্কার করুন। পরে পরিষ্কার স্যাঁতসেঁতে কাপড় দিয়ে সাবানের অবশিষ্টাংশ তুলে ফেলুন।তবে ডিশওয়াশিং লিকুইড বা অন্য কোনও ক্লিনার পুরো পর্দায় ব্যবহারের আগে কাপড়ের ছোট, আড়াল করা অংশে পরীক্ষা করে নিন।
হালকা ফ্রেশনার ব্যবহার করতে পারেন
পর্দায় হালকা গন্ধ থাকলে ঘরের জন্য উপযুক্ত ফ্যাব্রিক ফ্রেশনার ব্যবহার করা যেতে পারে। স্প্রে করার পর জানালা খুলে রাখুন, যাতে বাতাস চলাচল করে এবং কাপড় দ্রুত শুকিয়ে যায়।তবে পর্দার কাপড় অনুযায়ী ফ্রেশনার নির্বাচন করা জরুরি। অতিরিক্ত তরল স্প্রে করলে কাপড়ে স্যাঁতসেঁতে ভাব বা দাগ তৈরি হতে পারে।
কতদিন পর পর পর্দা পরিষ্কার করবেন?
পর্দা কত ঘন ঘন পরিষ্কার করতে হবে তা বাড়ির পরিবেশ, কাপড়ের ধরন এবং ধুলো জমার পরিমাণের উপর নির্ভর করে। নিয়মিত ভ্যাকুয়াম বা শুকনো কাপড় দিয়ে ধুলো পরিষ্কার করলে গভীরভাবে পরিষ্কারের প্রয়োজন কিছুটা কমতে পারে।বাড়িতে ছোট শিশু বা পোষ্য থাকলে কিংবা ধুলো বেশি জমলে আরও ঘন ঘন পরিষ্কার করা ভালো। আর পর্দার লেবেলে দেওয়া care instructions থাকলে সম্পূর্ণ ধোয়ার ক্ষেত্রে সেটিই আগে অনুসরণ করুন।
পর্দা পরিষ্কারের সময় যা মনে রাখবেন
নতুন কোনও ক্লিনিং সলিউশন আগে ছোট জায়গায় পরীক্ষা করুন।
সিল্ক, ভেলভেট বা খুব সূক্ষ্ম কাপড়ে ঘরোয়া মিশ্রণ ব্যবহারে সতর্ক থাকুন।
ভেজা পর্দা দীর্ঘক্ষণ ঝুলিয়ে রাখবেন না।
রঙিন কাপড়ে ব্লিচ বা শক্তিশালী রাসায়নিক নিজের মতো করে ব্যবহার করবেন না।
ধুলো পরিষ্কারের সময় মাস্ক ব্যবহার করলে ধুলো সরাসরি শ্বাসে যাওয়ার ঝুঁকি কমতে পারে।
পর্দা খুব বেশি নোংরা হলে শুধু স্প্রে করে না রেখে কাপড়ের নির্দেশ অনুযায়ী ধুয়ে নিন বা প্রয়োজন হলে পেশাদার পরিষেবা নিন।
পর্দায় ধুলো, ঝুল, তেল-ধোঁয়ার দাগ ও দুর্গন্ধ জমে গেলেও প্রতিবার রড থেকে খুলে ধোয়া বেশ ঝামেলার। তবে নিয়মিত ভ্যাকুয়াম ক্লিনিং, মাইক্রোফাইবার কাপড় দিয়ে ধুলো পরিষ্কার এবং প্রয়োজন অনুযায়ী হালকা স্পট ক্লিনিং করলে পর্দা অনেকটাই পরিষ্কার রাখা যায়। কিছু ক্ষেত্রে বেকিং সোডাও গন্ধ কমাতে কাজে লাগতে পারে।













