ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’-এর প্রভাবে দুর্যোগের ছবি ওড়িশাজুড়ে। লাগাতার বৃষ্টিতে পুরীর রাস্তাঘাটে জল জমেছে, যার প্রভাব পড়েছে জগন্নাথ মন্দিরে যাতায়াতেও। সমুদ্র উত্তাল থাকায় পর্যটকদের সৈকতে নামতে নিষেধ করছে পুলিশ। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে একাধিক জেলায় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী মোতায়েনের পাশাপাশি বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা করেছে প্রশাসন।
জলমগ্ন জগন্নাথ মন্দিরের সামনের রাস্তা, সমস্যায় পুণ্যার্থীরা
ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’-এর প্রভাবে পুরীতে অবিরাম বৃষ্টির জেরে জল জমেছে জগন্নাথ মন্দিরের সামনের রাস্তায়। ফলে মন্দিরে যাতায়াত করতে গিয়ে সমস্যার মুখে পড়ছেন ভক্ত ও পুণ্যার্থীরা। বৃষ্টির কারণে স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হওয়ায় মন্দির দর্শনেও অসুবিধা হচ্ছে তাঁদের।অন্যদিকে, সমুদ্রের পরিস্থিতিও বেশ উদ্বেগজনক। উত্তাল ঢেউয়ের কারণে পুরীর সমুদ্র সৈকতে পর্যটক ও সাধারণ মানুষের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে প্রশাসন। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সৈকতজুড়ে চলছে পুলিশের লাগাতার টহলদারি। কাউকে সমুদ্রে নামতে দেওয়া হচ্ছে না।
মালকানগিরিতে উত্তাল সমুদ্র, বাড়ির উপর ভেঙে পড়ল গাছ
দক্ষিণ ওড়িশার একাধিক জেলায় টানা বৃষ্টির পাশাপাশি ঝোড়ো হাওয়ার দাপট দেখা যাচ্ছে। মালকানগিরিতে সমুদ্র উত্তাল হয়ে উঠেছে। এর মধ্যেই একটি বাড়ির উপর গাছ ভেঙে পড়ার ঘটনা ঘটে। তবে বাড়ির বাসিন্দাদের নিরাপদে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, অন্ধ্রপ্রদেশ সংলগ্ন দক্ষিণ ওড়িশায় ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাব বেশি পড়ার আশঙ্কা ছিল। সেই পরিস্থিতি মাথায় রেখে উপকূলবর্তী জেলাগুলিতে বিশেষ সতর্কতা জারি করেছে রাজ্য প্রশাসন।
৪৮ হাজার বাসিন্দাকে নিরাপদ স্থানে সরানোর ব্যবস্থা
দুর্যোগ মোকাবিলায় একাধিক পদক্ষেপ করেছে ওড়িশা সরকার। উপকূলবর্তী এলাকাগুলিতে জারি করা হয়েছে হাই অ্যালার্ট। পরিস্থিতি বিবেচনা করে প্রায় ৪৮ হাজার বাসিন্দাকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে।গঞ্জাম, গজপতি, রায়গড়া, মালকানগিরি, কোরাপুট এবং নবরংপুরের মতো জেলায় মোতায়েন রয়েছে ওড়িশার বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী ও এনডিআরএফ। পাশাপাশি রাজ্যের ৯টি জেলায় স্কুল, কলেজ এবং অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। দক্ষিণ ওড়িশার পাঁচটি জেলায় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে।
অন্ধ্র উপকূলে আছড়ে পড়ে ঘূর্ণিঝড়, ঘণ্টায় ১৩৫ কিমি বেগে ঝড়
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, মঙ্গলবার মধ্যরাতে অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলে আছড়ে পড়ে ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’। মৌসম ভবনের তথ্য অনুযায়ী, রাত ১টা ২০ মিনিট নাগাদ ল্যান্ডফলের প্রক্রিয়া শুরু হয়। কাকিনাড়ার কাছে ইয়ানাম সংলগ্ন এলাকায় ঝড়ের প্রভাব পড়ে। সেই সময় ঝড়ের গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় প্রায় ১২৫ থেকে ১৩৫ কিলোমিটার।ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে ওড়িশার পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গেও বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হয়। পূর্ব মেদিনীপুর, পশ্চিম মেদিনীপুর এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনা-সহ একাধিক জেলায় বৃষ্টির পাশাপাশি সমুদ্রও উত্তাল হয়ে ওঠে।
বাংলার উপকূলেও সতর্কতা, মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে যেতে নিষেধ
ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবের কথা মাথায় রেখে পশ্চিমবঙ্গের মৎস্যজীবীদের বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সমুদ্রে যেতে নিষেধ করা হয়েছিল। আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার পর্যন্ত রাজ্যের বেশিরভাগ জেলায় বৃষ্টির সম্ভাবনা ছিল।দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব মেদিনীপুর, পশ্চিম মেদিনীপুর এবং ঝাড়গ্রামে ভারী বৃষ্টির হলুদ সতর্কতা জারি করা হয়। পাশাপাশি ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে বলে জানানো হয়। কলকাতাতেও বজ্রবিদ্যুৎ-সহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির পূর্বাভাস ছিল।
ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’-এর প্রভাবে প্রবল বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়ায় বিপর্যস্ত ওড়িশার একাধিক এলাকা। পুরীতে জগন্নাথ মন্দিরের সামনের রাস্তা জলমগ্ন হওয়ায় সমস্যায় পড়েছেন ভক্ত ও পুণ্যার্থীরা। অন্যদিকে, মালকানগিরিতে উত্তাল সমুদ্রের পাশাপাশি বাড়ির উপর গাছ ভেঙে পড়ার ঘটনাও ঘটেছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় উপকূলবর্তী জেলাগুলিতে সতর্কতা জারি করেছে প্রশাসন। নিরাপত্তার কারণে পুরীর সমুদ্র সৈকতে পর্যটকদের প্রবেশেও নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।












