কচি ডাবের ভিতরেই তৈরি হবে রেস্তোরাঁর স্বাদের গলদা চিংড়ি! সরষে-নারকেলের মাখোমাখো পদে জমে উঠুক ভাইফোঁটার ভোজ, রইল সহজ রেসিপি

ভাইফোঁটার মেনুতে রাখুন সুন্দরবনের জনপ্রিয় ডাব চিংড়ি। কচি ডাবের জল, শাঁস, সরষে, নারকেল ও গলদা চিংড়ি দিয়ে সহজে বানানোর রেসিপি জেনে নিন।

বিশেষ দিনে পাতে একটু নতুন স্বাদের পদ থাকলে খাওয়াদাওয়ার আনন্দই আলাদা। আর ভাইফোঁটার দুপুরে গরম ভাতের সঙ্গে যদি পরিবেশন করা যায় সরষে-নারকেলের মশলায় মাখামাখি গলদা চিংড়ি, তা হলে জমে যাবে ভোজ। সুন্দরবনের পরিচিত উপকরণ দিয়ে তৈরি এই ডাব চিংড়ি স্বাদে যেমন অনন্য, তেমনই ডাবের মধ্যে পরিবেশন করার কারণে দেখতেও বেশ আকর্ষণীয়। অল্প কিছু উপকরণ আর সহজ পদ্ধতি মেনে বাড়িতেই বানিয়ে নিতে পারেন এই বিশেষ পদ।

কচি ডাবের ভিতরেই তৈরি হবে রেস্তোরাঁর স্বাদের গলদা চিংড়ি! সরষে-নারকেলের মাখোমাখো পদে জমে উঠুক ভাইফোঁটার ভোজ, রইল সহজ রেসিপি
ডাব চিংড়ি বানাতে কী কী উপকরণ লাগবে?

এই রান্নার আসল আকর্ষণ কচি ডাবের স্বাভাবিক মিষ্টি স্বাদ এবং গলদা চিংড়ির সঙ্গে সরষে-নারকেলের মেলবন্ধন। রান্না শুরু করার আগে উপকরণগুলি হাতের কাছে গুছিয়ে নিন।

উপকরণ:

- মাঝারি আকারের গলদা চিংড়ি – ৫-৬টি

- কচি ডাব – ১টি

- নারকেল কোরা – আধা কাপ

- সরষে বাটা – ২ টেবিল চামচ

- আদা বাটা – ১ চা চামচ

- কাঁচালঙ্কা – ৩-৪টি

- হলুদ গুঁড়ো – আধা চা চামচ

- সরষের তেল – ২ টেবিল চামচ

- নুন – স্বাদমতো

- চিনি – সামান্য, ইচ্ছেমতো

- ডাবের জল – প্রয়োজনমতো

কচি ডাবের ভিতরেই তৈরি হবে রেস্তোরাঁর স্বাদের গলদা চিংড়ি! সরষে-নারকেলের মাখোমাখো পদে জমে উঠুক ভাইফোঁটার ভোজ, রইল সহজ রেসিপি
প্রথমে চিংড়ি ও ডাব তৈরি করে নিন

প্রথমে গলদা চিংড়িগুলি ভালো করে পরিষ্কার করে নিন। মাথা ও খোসা নিজের পছন্দ অনুযায়ী রাখতে পারেন। এরপর চিংড়ির গায়ে সামান্য নুন ও হলুদ মাখিয়ে কয়েক মিনিট রেখে দিন।এবার একটি কচি ডাবের উপরের অংশ সাবধানে কেটে মুখ খুলুন। ভিতরের জল একটি পাত্রে ঢেলে রাখুন। চামচ দিয়ে ডাবের নরম শাঁস বের করে ছোট ছোট টুকরো করে নিন। তবে ডাবের খোলসটি যেন ভেঙে না যায়। কারণ এই খোলসের মধ্যেই পরে রান্না হবে সুস্বাদু চিংড়ি।

সরষে-নারকেলের মশলায় মাখিয়ে নিন গলদা চিংড়ি

এবার একটি বড় পাত্রে সরষে বাটা, আদা বাটা, নারকেল কোরা, কুচিয়ে রাখা কাঁচালঙ্কা, হলুদ গুঁড়ো, নুন এবং সরষের তেল একসঙ্গে মিশিয়ে নিন।এর মধ্যে ডাবের শাঁসের টুকরো এবং পরিমাণমতো ডাবের জল দিয়ে ভালো করে মিশিয়ে নিন। এবার পরিষ্কার করে রাখা গলদা চিংড়িগুলি এই মশলার মধ্যে দিয়ে ভালোভাবে মাখিয়ে দিন। চাইলে স্বাদের ভারসাম্য রাখতে সামান্য চিনি যোগ করতে পারেন।খেয়াল রাখবেন, চিংড়ির প্রতিটি অংশে যেন মশলা ভালোভাবে লেগে থাকে। তবেই রান্নার পর মশলার স্বাদ চিংড়ির ভিতর পর্যন্ত পৌঁছবে।

কচি ডাবের ভিতরেই তৈরি হবে রেস্তোরাঁর স্বাদের গলদা চিংড়ি! সরষে-নারকেলের মাখোমাখো পদে জমে উঠুক ভাইফোঁটার ভোজ, রইল সহজ রেসিপি
ডাবের খোলসেই হবে চিংড়ির রান্না

এবার তৈরি মশলা মাখানো চিংড়ির মিশ্রণটি সাবধানে ডাবের ভিতরে ঢেলে দিন। আগে কেটে রাখা ডাবের উপরের অংশ দিয়ে মুখ বন্ধ করে দিন। এরপর অ্যালুমিনিয়াম ফয়েল দিয়ে ভালোভাবে আটকে নিন, যাতে ভাপ বেরিয়ে যেতে না পারে।একটি বড় পাত্রে জল গরম করে তার মধ্যে স্ট্যান্ড বসিয়ে দিন। স্ট্যান্ডের উপর ডাবটি রেখে ঢাকনা দিয়ে ঢেকে মাঝারি আঁচে প্রায় ২০-২৫ মিনিট ভাপে রান্না করুন। চিংড়ির আকার ও পরিমাণ অনুযায়ী সময় কিছুটা কমবেশি হতে পারে। তাই রান্না সম্পূর্ণ হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করে নেবেন।

গরম ভাতের সঙ্গে পরিবেশন করুন ডাব চিংড়ি

রান্না হয়ে গেলে সাবধানে ডাবটি নামিয়ে কয়েক মিনিট অপেক্ষা করুন। তারপর ডাবের মুখ খুললেই পাওয়া যাবে সরষে, নারকেল ও কাঁচালঙ্কার মিশ্রিত দারুণ সুগন্ধ।এবার ডাবের মধ্যেই চিংড়ি পরিবেশন করতে পারেন। সঙ্গে থাকুক ধোঁয়া ওঠা গরম ভাত। বিশেষ দিনের দুপুরের খাবারে এই পদ যেমন স্বাদে বৈচিত্র্য আনবে, তেমনই পরিবেশনের অভিনবত্বে অতিথিদেরও মন জয় করবে।

কচি ডাবের ভিতরেই তৈরি হবে রেস্তোরাঁর স্বাদের গলদা চিংড়ি! সরষে-নারকেলের মাখোমাখো পদে জমে উঠুক ভাইফোঁটার ভোজ, রইল সহজ রেসিপি
ভাইফোঁটার বিশেষ মেনুতে চেনা মাছের পদের বদলে রাখতে পারেন সুন্দরবনের স্বাদে তৈরি ডাব চিংড়ি। কচি ডাবের জল ও নরম শাঁসের সঙ্গে গলদা চিংড়ি, সরষে বাটা, নারকেল এবং কাঁচালঙ্কার মিশেলে তৈরি হয় অসাধারণ একটি পদ। সবচেয়ে মজার বিষয়, রান্নার জন্য আলাদা কোনও পাত্রের বদলে ব্যবহার করা হবে আস্ত ডাবের খোলস। রইল বাড়িতেই বানানোর সহজ পদ্ধতি।

Leave a comment