দরভাঙায় ট্রেনযাত্রীদের সামগ্রী চুরির অভিযোগে পাঁচ সন্দেহভাজনকে গ্রেফতার করেছে রেল পুলিশ। হাওড়া-রক্সৌল এক্সপ্রেস থেকে তাঁদের আটক করা হয়। পুলিশের দাবি, ধৃতরা ট্রেনে যাতায়াতকারী যাত্রীদের ব্যক্তিগত সামগ্রী চুরির সঙ্গে জড়িত। অভিযানের সময় তাঁদের কাছ থেকে প্রায় ২.২৫ লক্ষ টাকা মূল্যের সামগ্রী উদ্ধার করা হয়েছে। গ্রেফতারের পর ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে রেল পুলিশ। কতদিন ধরে তাঁরা এই ধরনের অপরাধের সঙ্গে যুক্ত এবং তাঁদের চক্রে আরও কারা সক্রিয় রয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, হাওড়া-রক্সৌল এক্সপ্রেসে যাত্রীদের সামগ্রী চুরির একাধিক অভিযোগের পর থেকেই সতর্ক ছিল রেল পুলিশ। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে ট্রেনে তল্লাশি ও নজরদারি চালানোর সময় পাঁচ সন্দেহভাজনকে আটক করা হয়। তাঁদের তল্লাশি করে যাত্রীদের কাছ থেকে চুরি করা হয়েছে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে, এমন সামগ্রী উদ্ধার হয়। উদ্ধার হওয়া সম্পত্তির আনুমানিক মোট মূল্য ২.২৫ লক্ষ টাকা। উদ্ধার হওয়া সামগ্রীর প্রকৃত মালিকদের শনাক্ত করা এবং চুরির ঘটনাগুলির সঙ্গে সেগুলির যোগসূত্র খুঁজে বের করার চেষ্টা করছে পুলিশ।
ট্রেনে যাতায়াতের সময় যাত্রীদের সামগ্রী চুরি হওয়ার ঘটনা রেল নিরাপত্তার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বিশেষত ভিড়ের কামরায় যাত্রীদের অসতর্কতার সুযোগ নিয়ে চোরেরা ব্যাগ, মোবাইল ফোন এবং অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রী চুরি করতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে ট্রেন অনেকটা দূরে চলে যাওয়ার পর যাত্রীরা চুরির বিষয়টি জানতে পারেন। ফলে অভিযুক্তদের শনাক্ত করা এবং চুরি হওয়া সম্পত্তি উদ্ধার করা রেল পুলিশের কাছে চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়।
পাঁচজনকে গ্রেফতারের পর তাঁদের পারস্পরিক সম্পর্ক এবং সম্ভাব্য অপরাধচক্রের কার্যকলাপ খতিয়ে দেখছে পুলিশ। উদ্ধার হওয়া সামগ্রী কোন কোন যাত্রীর কাছ থেকে চুরি করা হয়েছিল এবং চুরির পর সেগুলি কোথায় বিক্রি বা পাচার করা হতো, তা জানতে ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এই চক্রের সদস্যরা অন্য ট্রেনেও সক্রিয় ছিল কি না, সেই বিষয়টিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
রেল পুলিশের এই অভিযানের মাধ্যমে ট্রেনে চুরির ঘটনা প্রতিরোধের প্রচেষ্টা জোরদার হয়েছে। তবে গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের সত্যতা তদন্ত এবং আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পরই নিশ্চিত হবে। আপাতত উদ্ধার হওয়া সামগ্রীর বিস্তারিত তালিকা তৈরি করছে পুলিশ। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট যাত্রীদের শনাক্ত করে মামলার পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের প্রস্তুতি চলছে।












