দিঘা ফায়ার সেফটি ড্রিল: শীতের ভরা পর্যটন মরসুম শুরুর আগে দিঘায় বাড়তি সতর্কতা জারি করেছে প্রশাসন ও দমকল বিভাগ। অতীতে হোটেলগুলিতে বেশ কয়েকবার অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটায় এই মৌসুমে পর্যটকদের নিরাপত্তা রাখা বড় চ্যালেঞ্জ। কোথায়, কখন, কীভাবে আগুন লাগলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া যায়—তা শেখাতে বিশ্ব বাংলা গেটের কাছে বিশেষ ফায়ার সেফটি মক ড্রিল করা হয়। হোটেল কর্মী, স্থানীয় মানুষ ও পর্যটকদের হাতে-কলমে দেখানো হয় আগুন নেভানোর প্রাথমিক পদ্ধতি এবং নিরাপদে বেরিয়ে আসার ধাপগুলি।

মরসুম শুরুর আগেই দিঘায় কড়া প্রস্তুতি
শীতের ব্যস্ত পর্যটন মরসুমে দিঘায় পর্যটকের ভিড় বাড়তে থাকে ২৫ ডিসেম্বর থেকে ১ জানুয়ারি পর্যন্ত। সেই ভিড় সামাল দিতে বছরের শুরু থেকেই সতর্ক প্রশাসন। হোটেলগুলিতে আগুন লাগা অতীত অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে এই বছর শুরুতেই ফায়ার সেফটি ব্যবস্থাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।হোটেল কর্মীরা কীভাবে দ্রুত অ্যালার্ম বাজাবেন, কোন পথ দিয়ে পর্যটকদের বের করে আনবেন এবং কীভাবে প্রথম অবস্থায় আগুন নিয়ন্ত্রণ করবেন—সেসব বিষয়েই জোর দেওয়া হয়েছে মহড়ায়।
হাতে-কলমে আগুন নেভানোর প্রশিক্ষণ
দমকল কর্মীরা দেখান, কোনও হোটেল বা রিসর্টে আগুন লাগলে প্রথমে কী করতে হবে। দ্রুত সিঁড়ি ব্যবহার করে বের হওয়া, নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখা এবং প্রাথমিক অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র (Fire Extinguisher) ব্যবহারের খুঁটিনাটি শেখানো হয়।বিশেষভাবে দেখানো হয়, রান্নাঘরের গ্যাস সিলিন্ডারে আগুন লাগলে কীভাবে তা নিয়ন্ত্রণ করতে হয়। দমকল পৌঁছাতে দেরি হলে হোটেল কর্মীদের কীভাবে তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নিতে হবে—সেটিও দেখান কর্মকর্তারা।
বিশ্ব বাংলা গেটে সচেতনতা মহড়া
মহড়াটি অনুষ্ঠিত হয় দিঘার বিশ্ব বাংলা ২ নম্বর গেটের সামনে, যেখানে স্থানীয় বাসিন্দা, পর্যটক এবং বহু হোটেল কর্মী অংশ নেন। দমকল কর্মীদের বাস্তব উদাহরণ-ভিত্তিক প্রদর্শনে আতঙ্কিত না হয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার কৌশল শেখানো হয়।আগুনের উৎস চিহ্নিত করা, পালানোর সঠিক দিক, এবং জমায়েত রোধের গুরুত্বও তুলে ধরা হয় প্রদর্শনে।

হোটেল ব্যবসায়ীদের প্রশংসা
দিঘা-শংকরপুর হোটেল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সুশান্ত পাত্র জানান, “অতীতে হোটেলে আগুন লাগলে অনেক কর্মী সঠিক পদ্ধতি জানতেন না। তাই এই মহড়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই প্রশিক্ষণ থাকলে বাস্তব পরিস্থিতিতে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে এবং বড় দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হবে।”হোটেল মালিকরাও জানান, এই ধরনের উদ্যোগ পর্যটকদের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে আস্থা বাড়ায়।
পর্যটনের ভরা মরসুমে আরও শক্তিশালী নিরাপত্তা
এই ফায়ার সেফটি ড্রিলের ফলে শীতের ভরা মরসুমে দিঘার নিরাপত্তা ব্যবস্থায় বড় উন্নতি এসেছে—এমনটাই দাবি দমকল বিভাগের। আগুন লাগলে পর্যটকদের বের করে আনার সঠিক পথ, অ্যালার্ম সিস্টেম ব্যবহার এবং ফায়ার এক্সটিংগুইশারের প্রাথমিক ব্যবহার—সবই এবার আরও সহজবোধ্যভাবে শেখানো হয়েছে।দমকল কর্মীরা মনে করছেন, এই উদ্যোগ সম্ভাব্য দুর্ঘটনা এড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

শীতের ভরা পর্যটন মরসুমের আগে দিঘায় হোটেল ও পর্যটন এলাকায় বড় দুর্ঘটনা ঠেকাতে ফায়ার সেফটি মক ড্রিল আয়োজন করল দমকল ও প্রশাসন। হোটেলে আগুন লাগলে দ্রুত অ্যালার্ম বাজানো, পর্যটকদের নিরাপদে বের করা এবং প্রাথমিক অগ্নিনির্বাপণ প্রক্রিয়া—সবই হাতে-কলমে শেখানো হয় কর্মীদের।











