Kidney Health Care: চিকিৎসকদের মতে, প্রতিদিন সকালে আমরা যে পাঁচটি সাধারণ ভুল করি, সেগুলোই অজান্তে কিডনির উপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি করে। কোথায়?—আমাদের দৈনন্দিন ঘরোয়া রুটিনেই। কখন?—ঘুম থেকে ওঠার পর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই। কারা?—বিশেষজ্ঞ ডঃ ভেঙ্কট সুব্রামনিয়ম-সহ নেফ্রোলজিস্টরা। কেন?—এই অভ্যাসগুলি শরীরে জলশূন্যতা, সোডিয়াম ভারসাম্যহীনতা ও ব্লাড প্রেশার বাড়ায়, যা কিডনি কার্যকারিতা কমিয়ে দেয়। ফলে দীর্ঘমেয়াদে কিডনি বিকল হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে।

সকালের জল না খাওয়ার অভ্যাসে বাড়ছে কিডনির চাপ
সারা রাতের ঘুমের পরে শরীরে জলের পরিমাণ স্বাভাবিকভাবেই কমে যায়। এ সময়ে কিডনি খুব কম জল নিয়ে রক্ত পরিশোধন করে।কিন্তু অনেকে ঘুম থেকে ওঠার পরপরই চা বা কফি পান করেন, যা শরীরকে আরও ডিহাইড্রেট করে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সকালে প্রথমেই অন্তত এক গ্লাস জল পান করা কিডনির জন্য অপরিহার্য। ‘Obesity Facts’–এর গবেষণায় বলা হয়েছে, পর্যাপ্ত জল কিডনি স্টোন প্রতিরোধেও কার্যকর।

দীর্ঘ সময় মূত্র চেপে রাখলে বাড়ে ব্ল্যাডার ও কিডনির ঝুঁকি
ঘুমের পর ব্ল্যাডার স্বাভাবিকভাবেই স্ফীত থাকে। তাই সকালে দীর্ঘ সময় মূত্র চেপে রাখলে ব্ল্যাডার ও কিডনিতে বাড়তি চাপ পড়ে।‘Korean Journal of Family Medicine’ জানাচ্ছে, নিয়মিত প্রস্রাব চেপে রাখলে মধ্যবয়সী মহিলাদের উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি বাড়ে। এতে কিডনির রক্তনালী ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
খালি পেটে পেইনকিলার গ্রহণে কিডনির উপর অতিরিক্ত চাপ
ব্যথা কমাতে অনেকেই সকালে NSAID গ্রুপের ওষুধ খেয়ে ফেলেন। খালি পেটে এগুলি রক্তে দ্রুত মিশে যায় এবং কিডনিতে চাপ সৃষ্টি করে।নেফ্রোলজিস্টরা সতর্ক করে বলেন, নিয়মিত খালি পেটে পেইনকিলার গ্রহণ কিডনি ক্ষতির অন্যতম কারণ। প্রয়োজন হলে অবশ্যই খাবারের পরে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ গ্রহণ করা উচিত।

ব্যায়ামের পর শরীরে ইলেকট্রোলাইটের ঘাটতি পূরণ না করা
সকালে ব্যায়াম শরীরের জন্য উপকারী হলেও ঘামের মাধ্যমে সোডিয়াম ও ইলেকট্রোলাইট কমে যায়। শুধু জল পান করলে সেই ঘাটতি পূরণ হয় না।দীর্ঘদিন ধরে ইলেকট্রোলাইট লস হলে কিডনি স্ট্রেস বাড়ে এবং ব্লাড প্রেশারেও তার প্রভাব পড়ে। তাই ব্যায়ামের পরে সঠিক হাইড্রেশন—জল ও ইলেকট্রোলাইট—কিডনি স্বাস্থ্যের জন্য অপরিহার্য।
ব্রেকফাস্ট না খাওয়ার অভ্যাসে বাড়ছে সোডিয়াম ইন্টেক
সকালে না খেলে রক্তে সুগারের মাত্রা কমে যায়। এতে সারাদিন নুন বা মশলাদার খাবারের প্রতি আকর্ষণ বাড়ে।এই ধরনের খাবারে সোডিয়াম বেশি থাকে, যা কিডনিকে ক্ষতি করে এবং উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি বাড়ায়। নিয়মিত ব্রেকফাস্ট শরীরের মেটাবলিজম ঠিক রাখে এবং কিডনির উপর চাপ কমায়।

সকালের তাড়াহুড়োর মাঝে আমরা অজান্তে এমন কিছু অভ্যাস গড়ে তুলি, যা কিডনির উপর মারাত্মক চাপ ফেলে। জল না খাওয়া, মূত্র চেপে রাখা, খালি পেটে পেইনকিলার, ব্যায়ামের পর ইলেকট্রোলাইট না নেওয়া ও ব্রেকফাস্ট বাদ—এই পাঁচ অভ্যাসই ধীরে ধীরে কিডনি বিকল করতে পারে বলছেন চিকিৎসকরা।













