প্রতিদিন নিয়ম করে স্নান করলেও কি শরীর পুরোপুরি পরিষ্কার থাকছে? ডার্মাটোলজিস্টদের মতে, এর উত্তর সব সময় ‘হ্যাঁ’ নয়। সঠিকভাবে পরিষ্কার না হলে স্নানের পরেও শরীরের একাধিক অংশে জমে থাকতে পারে ময়লা ও জীবাণু। দীর্ঘদিন অবহেলা করলে সেখান থেকেই শুরু হতে পারে সংক্রমণ, ত্বকের সমস্যা এমনকি গুরুতর অসুখও।
কানের পেছনের অংশ: নীরবেই জমে দুর্গন্ধ
মুখ ও চুল ধোয়ার সময় সবাই যত্নবান হলেও কানের পেছনের অংশটি প্রায়ই নজরের বাইরে থেকে যায়। এই অংশে সেবেসিয়াস গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত তেল ঘাম ও ধুলোর সঙ্গে মিশে আঠালো স্তর তৈরি করে। নিয়মিত পরিষ্কার না করলে এখান থেকেই দুর্গন্ধ ও সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ে।
বগল ও গলার ভাঁজ: ঘামের স্বর্গরাজ্য
বগলে ঘামগ্রন্থি অত্যন্ত সক্রিয় হওয়ায় এখানে দ্রুত ব্যাকটেরিয়া জন্মায়। একইভাবে গলার ভাঁজে জমে যায় তেল ও ময়লা। সঠিকভাবে পরিষ্কার না করলে ত্বক কালচে হয়ে যাওয়া, চুলকানি ও দুর্গন্ধের সমস্যা দেখা দিতে পারে।
নাভি: সবচেয়ে উষ্ণ ও স্যাঁতসেঁতে অংশ
বিশেষজ্ঞদের মতে, নাভি শরীরের অন্যতম নোংরা অংশ। এর গভীর গঠন ও আর্দ্র পরিবেশ ব্যাকটেরিয়ার বংশবিস্তারের জন্য আদর্শ। দীর্ঘদিন পরিষ্কার না করলে নাভিতে সংক্রমণ এমনকি পুঁজ জমার আশঙ্কাও থাকে।
নখের নিচের অংশ: চোখের আড়ালে জীবাণু
সারাদিন বিভিন্ন জিনিস স্পর্শ করার ফলে নখের নিচে জমে থাকে বিপুল পরিমাণ জীবাণু। হাত ধুলেও যদি নখের নিচ পরিষ্কার না হয়, তবে খাবারের মাধ্যমে সেই জীবাণু সরাসরি শরীরে প্রবেশ করতে পারে।
পায়ের আঙুলের ফাঁক: ফাঙ্গাল সংক্রমণের ঘাঁটি
স্নানের সময় পায়ে জল পড়লেও আঙুলের ফাঁক ঠিকমতো পরিষ্কার হয় না অনেক ক্ষেত্রে। এই স্যাঁতসেঁতে অংশে সহজেই ফাঙ্গাল সংক্রমণ বা অ্যাথলিটস ফুটের মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। ধোয়ার পাশাপাশি ভালভাবে শুকনো করাও অত্যন্ত জরুরি।
সঠিকভাবে পরিষ্কার রাখার সহজ উপায়
ত্বক বিশেষজ্ঞদের মতে, খুব হার্স সাবান নয়—মাইল্ড সাবান ব্যবহার করাই সবচেয়ে নিরাপদ। পরিষ্কারের পর শরীর ভালভাবে শুকিয়ে নেওয়া জরুরি, যাতে আর্দ্রতা থেকে জীবাণু জন্মাতে না পারে।
স্নান করলেই শরীর পুরোপুরি পরিষ্কার হয়ে যায়—এই ধারণা একেবারেই ভুল, বলছেন ত্বক বিশেষজ্ঞরা। শরীরের এমন কিছু অংশ রয়েছে, যেগুলি স্নানের সময় প্রায়ই উপেক্ষিত থেকে যায়। ফলে সেখানে জমে থাকে ব্যাকটেরিয়া, ছত্রাক ও ময়লা, যা সংক্রমণ ও দুর্গন্ধের কারণ হতে পারে।













