ইদের চাঁদ উঠলেই সাজগোজের অন্যতম আকর্ষণ মেহেন্দি। কিন্তু দ্রুত গাঢ় রঙের লোভে অনেকেই ব্যবহার করছেন কেমিক্যাল মেশানো মেহেন্দি। আর সেখানেই লুকিয়ে রয়েছে চর্মরোগের বড় ঝুঁকি। তাই আনন্দের মুহূর্ত নষ্ট হওয়ার আগে সচেতন হওয়া জরুরি।

‘ইনস্ট্যান্ট’ রঙেই লুকিয়ে বিপদ
চিকিৎসকদের মতে, প্রাকৃতিক মেহেন্দি গাঢ় হতে সময় নেয় ৫-৬ ঘণ্টা। কিন্তু বাজারে পাওয়া ‘ইনস্ট্যান্ট’ মেহেন্দি কয়েক মিনিটেই রং ধরিয়ে দেয়। এই দ্রুত রঙের পেছনে থাকে পিপিডি (PPD) নামের এক ক্ষতিকর রাসায়নিক।
ত্বকে মারাত্মক প্রতিক্রিয়ার আশঙ্কা
এই রাসায়নিক ত্বকের সংস্পর্শে এলেই শুরু হতে পারে চুলকানি, লাল দাগ, এমনকি ফোস্কা পড়া। অনেক ক্ষেত্রে ‘কেমিক্যাল বার্ন’-এর মতো গুরুতর সমস্যা দেখা দেয়, যা দীর্ঘস্থায়ী ক্ষত তৈরি করতে পারে।
শিশুদের জন্য ঝুঁকি আরও বেশি
শিশুদের ত্বক তুলনামূলকভাবে নরম ও সংবেদনশীল হওয়ায় তাদের ক্ষেত্রে এই ধরনের মেহেন্দির প্রভাব আরও ভয়ংকর হতে পারে। তাই তাদের ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কতা প্রয়োজন।
কেনার আগে এই বিষয়গুলো খেয়াল রাখুন
ঝাঁঝালো বা ওষুধের মতো গন্ধ থাকলে কিনবেন না
প্যাকেটের মেয়াদ (Expiry Date) অবশ্যই দেখে নিন
ভেষজ গন্ধযুক্ত প্রাকৃতিক মেহেন্দি বেছে নিন

প্যাচ টেস্ট করাই সুরক্ষার প্রথম ধাপ
মেহেন্দি ব্যবহারের আগে কানের পেছনে বা হাতে অল্প লাগিয়ে ২৪ ঘণ্টা অপেক্ষা করুন। কোনও অস্বস্তি না হলে তবেই ব্যবহার করুন।
প্রাকৃতিকভাবে রং গাঢ় করার টিপস
লেবু-চিনির জল লাগান
লবঙ্গের ধোঁয়া নিনদীর্ঘ সময় মেহেন্দি হাতে রাখুন
এতে রংও গাঢ় হবে, ত্বকও সুরক্ষিত থাকবে।
সমস্যা হলে কী করবেন?
মেহেন্দি লাগানোর পর জ্বালা বা চুলকানি শুরু হলে দ্রুত ঠান্ডা জল দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। ফোস্কা বা র্যাশ হলে ঘরোয়া চিকিৎসা না করে সরাসরি চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।

ইদের আগে মেহেন্দির সাজে মেতে উঠছেন সবাই। তবে বাজারে বিক্রি হওয়া ‘ইনস্ট্যান্ট’ মেহেন্দিতে থাকা রাসায়নিক ত্বকের জন্য ভয়ংকর হতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, একটু সতর্ক থাকলেই এড়ানো যাবে বড় বিপদ।













