বৃহস্পতিবার দেশের বৃহত্তম বেসরকারি ব্যাংক এইচডিএফসি ব্যাংকের শেয়ারে তীব্র পতন দেখা যায়, যেখানে প্রাথমিক লেনদেনে শেয়ার প্রায় ৮ শতাংশ পর্যন্ত নেমে যায়। এই পতনের মধ্যে ব্যাংকের পার্ট-টাইম চেয়ারম্যান এবং স্বাধীন পরিচালক অতনু চক্রবর্তীর আকস্মিক পদত্যাগের ঘটনা সামনে আসে।
এই খবর প্রকাশ্যে আসার সঙ্গে সঙ্গে বাজারে নেতিবাচক পরিস্থিতি তৈরি হয় এবং বিনিয়োগকারীরা দ্রুত শেয়ার বিক্রি শুরু করেন, যার ফলে শেয়ারের দামে চাপ বৃদ্ধি পায় এবং ব্যাংকের বাজার মূলধনেও প্রভাব পড়ে।
এইচডিএফসি ব্যাংক একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানায় যে অতনু চক্রবর্তী ১৮ মার্চ তাৎক্ষণিকভাবে তার পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন। তিনি ২০২১ সালে ব্যাংকের বোর্ডে যোগ দিয়েছিলেন এবং তখন থেকেই চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
অতনু চক্রবর্তী তার পদত্যাগের কারণ হিসেবে ব্যাংকের ভেতরে গত দুই বছরে ঘটে যাওয়া কিছু ঘটনা এবং কাজের পদ্ধতির সঙ্গে মতবিরোধের কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ব্যাংকের কিছু সিদ্ধান্ত এবং কাজের ধরণ তার ব্যক্তিগত মূল্যবোধ এবং নৈতিকতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল না। তিনি আরও জানান, গত দুই বছরে যা তিনি দেখেছেন তা তার প্রত্যাশার সঙ্গে মেলেনি, এবং সেই কারণেই তিনি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন।
এইচডিএফসি ব্যাংকের শেয়ারে পতনের প্রধান কারণ হিসেবে এই পদত্যাগ এবং তার সঙ্গে যুক্ত অভিযোগকে দেখা হচ্ছে। কোনো বড় প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ ব্যবস্থাপনার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তি এই ধরনের মন্তব্য করে পদত্যাগ করলে বিনিয়োগকারীদের আস্থায় প্রভাব পড়ে।
কর্পোরেট গভর্ন্যান্স সংক্রান্ত উদ্বেগ বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ঝুঁকি হিসেবে বিবেচিত হয়। এই ঘটনার পর বিনিয়োগকারীরা দ্রুত শেয়ার বিক্রি শুরু করেন, যার ফলে দামে তীব্র পতন দেখা যায়। এই পতন শুধুমাত্র প্রযুক্তিগত পরিবর্তন নয়, বরং বাজারের মনোভাবভিত্তিক প্রতিক্রিয়াও।
শেয়ার বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, এইচডিএফসি ব্যাংকের শেয়ারের জন্য ৭৭০ টাকা একটি গুরুত্বপূর্ণ সাপোর্ট স্তর হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। শেয়ার এই স্তরের নিচে গেলে আরও পতনের সম্ভাবনা রয়েছে।
অন্যদিকে, ৮১৫ টাকা একটি গুরুত্বপূর্ণ রেজিস্ট্যান্স স্তর হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। শেয়ার এই স্তর অতিক্রম করলে পুনরুদ্ধার হতে পারে এবং দাম ৮৩২ টাকা পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। বৃহস্পতিবার প্রাথমিক লেনদেনে শেয়ার ৭৭০ টাকার স্তরে নেমে এলেও সেখানে কিছু ক্রয় দেখা যায়, যা এই স্তরে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহের ইঙ্গিত দেয়।
বর্তমান পরিস্থিতিতে এই পতন কতদিন স্থায়ী হবে তা বলা কঠিন। বাজারে বর্তমানে মনোভাব দুর্বল রয়েছে এবং বিনিয়োগকারীরা সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন।
আগামী সময়ে ব্যাংকের পক্ষ থেকে পরিস্থিতি নিয়ে স্পষ্টতা এলে এবং আস্থা পুনরুদ্ধার হলে শেয়ারে পুনরুদ্ধার সম্ভব। তবে কর্পোরেট গভর্ন্যান্স সংক্রান্ত প্রশ্ন অব্যাহত থাকলে চাপ বজায় থাকতে পারে।











