Election Commission: মমতার আপত্তি উপেক্ষা করেই বহুতল আবাসনে বুথ, কলকাতা-সহ ৭ জেলায় ৬৯টি আবাসনে ভোটকেন্দ্র

Election Commission: মমতার আপত্তি উপেক্ষা করেই বহুতল আবাসনে বুথ, কলকাতা-সহ ৭ জেলায় ৬৯টি আবাসনে ভোটকেন্দ্র

শেষ পর্যন্ত বহুতল আবাসনে ভোটকেন্দ্র ইস্যুতে নির্বাচন কমিশনের অবস্থান ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক তরজা শুরু হল রাজ্যে। তৃণমূল কংগ্রেসের নেত্রী ও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রবল আপত্তি উপেক্ষা করেই কমিশন ঘোষণা করল—৩০০ জনের বেশি ভোটার থাকলে সেই আবাসনেই হবে ভোটগ্রহণ। বিরোধীদের দাবি, এই সিদ্ধান্তের নেপথ্যে বিজেপির ‘ইশারা’ রয়েছে।

কমিশনের সিদ্ধান্তে রাজনৈতিক উত্তাপ

কয়েক দিন আগেই বিজেপির রাজ্য নেতৃত্বের তরফে বহুতল আবাসনে বুথ তৈরির দাবি জানানো হয়েছিল। শুক্রবার নির্বাচন কমিশনের ঘোষণার পর তৃণমূল কংগ্রেসের বক্তব্য, কমিশন কার্যত বিজেপির অবস্থানকেই মান্যতা দিয়েছে। শাসক দলের কটাক্ষ, “নির্বাচন কমিশন বিজেপির বি-টিম হিসেবেই কাজ করছে।”

কোন কোন জেলায় কতগুলি আবাসনে বুথ?

নির্বাচন কমিশনের দেওয়া তালিকা অনুযায়ী—

দক্ষিণ কলকাতা: ২টি

উত্তর কলকাতা: ৮টি

দক্ষিণ ২৪ পরগনা: ২৫টি

উত্তর ২৪ পরগনা: ২২টি

হাওড়া: ৪টি

পূর্ব বর্ধমান: ৩টি

হুগলি: ৫টি

সব মিলিয়ে রাজ্যের সাতটি জেলায় মোট ৬৯টি বহুতল আবাসনে ভোটগ্রহণ কেন্দ্র তৈরির সিদ্ধান্ত হয়েছে। কমিশনের ইঙ্গিত, প্রয়োজন হলে ভবিষ্যতে এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

কেন এই সিদ্ধান্ত? ব্যাখ্যা কমিশনের

নির্বাচন কমিশনের বক্তব্য, বহুতল আবাসনে বসবাসকারী ভোটারদের ভোটদানের সুবিধা বাড়াতেই এই পদক্ষেপ। ৩০০ জনের বেশি ভোটার থাকলে তাঁদের আর দূরের বুথে যেতে হবে না। কমিশনের মতে, এতে ভোটার উপস্থিতির হার বাড়বে এবং ভোটদানে আগ্রহও বৃদ্ধি পাবে।

প্রশাসন ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা

কমিশন জানিয়েছে, সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসন ও আবাসন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় রেখে পরিকাঠামো ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে। চূড়ান্ত তালিকা রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতর হয়ে জাতীয় নির্বাচন কমিশনে পাঠানো হবে।

মমতার চিঠি, তবু সিদ্ধান্তে অনড় কমিশন

উল্লেখযোগ্যভাবে, বহুতল আবাসনে বুথ তৈরির সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে চিঠি লিখে আপত্তি জানিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই আপত্তি সত্ত্বেও কমিশন তাদের সিদ্ধান্তে অনড় থাকায় রাজনৈতিক মহলে বিতর্ক আরও বেড়েছে।

বিএলও-দের নতুন দায়িত্ব

এদিকে নির্বাচন কমিশন ফের বিএলও-দের নতুন কাজের দায়িত্ব দিয়েছে। তাঁদের মোবাইল অ্যাপে যুক্ত হয়েছে—

‘Quality Check of Elector Photo’

‘Discrepancy in Mapping’

২০০২ সালের ভোটার তালিকায় অস্পষ্ট বা সাদা-কালো ছবি থাকলে তা বদলে নতুন রঙিন ছবি আপলোড করতে হবে।

বহুতল আবাসনে ভোটকেন্দ্র তৈরির প্রশ্নে রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র বিতর্কের মধ্যেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিল নির্বাচন কমিশন। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপত্তি সত্ত্বেও কমিশন জানাল, যেখানে ৩০০-র বেশি ভোটার রয়েছেন, সেই সব বহুতল আবাসনেই বুথ তৈরি হবে। কলকাতা-সহ রাজ্যের সাতটি জেলায় মোট ৬৯টি আবাসন চিহ্নিত করা হয়েছে।

Leave a comment