মাছের বাজার থেকে রান্নাঘর—বাঙালির রোজকার জীবনে মাছ অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। অথচ সেই মাছের আঁশ নিয়েই রয়েছে দ্বৈত মত। একদিকে কোলাজেন সমৃদ্ধ আঁশ বিদেশে কোটি টাকায় বিক্রি হয়, অন্যদিকে ভুল করে পেটে গেলে তা পেটের সমস্যার কারণ হতে পারে বলে সতর্ক করছেন চিকিৎসকরা।

আঁশে লুকিয়ে ‘যৌবনের রহস্য’?
বিজ্ঞানীদের মতে, মাছের আঁশে রয়েছে কোলাজেন নামক গুরুত্বপূর্ণ প্রোটিন। এই কোলাজেন ত্বকের স্থিতিস্থাপকতা বজায় রাখতে সাহায্য করে, বলিরেখা কমাতে সহায়ক এবং চুলের গঠন শক্ত রাখতেও ভূমিকা রাখে। বয়স বাড়ার সঙ্গে শরীরে কোলাজেনের মাত্রা কমে যায়, তাই প্রসাধনী শিল্পে এর চাহিদা বিপুল।
কীভাবে তৈরি হয় কোলাজেন?
১০ কেজি মাছের আঁশ শুকিয়ে পাওয়া যায় প্রায় ৪ কেজি শুকনো আঁশ। পরবর্তী ধাপে খনিজ পদার্থ অপসারণের মাধ্যমে ওজন আরও কমে প্রায় ২ কেজিতে দাঁড়ায়। সেখান থেকে উৎপন্ন হয় আনুমানিক ৬০০ গ্রাম কোলাজেন। এই প্রক্রিয়াজাত কোলাজেন পাউডার আকারে রফতানি করা হয়।

রফতানির বাজারে আঁশের কদর
পশ্চিমবঙ্গে সরাসরি কোলাজেন প্রস্তুত না হলেও আঁশ পাঠানো হয় দিল্লি ও গুজরাটে। সেখান থেকে প্রক্রিয়াজাত হয়ে বিদেশে রফতানি হয়। বিশেষত জাপান-এ ভারতীয় মাছের আঁশ থেকে তৈরি কোলাজেনের চাহিদা উল্লেখযোগ্য বলে শিল্পমহলের দাবি। প্রসাধনী ও স্বাস্থ্যপণ্যে এই উপাদান ব্যবহৃত হয়।

কিন্তু পেটে গেলে কী হয়?
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রক্রিয়াজাত কোলাজেন উপকারী হলেও রান্না করা মাছের আঁশ সরাসরি পেটে গেলে তা হজমে সমস্যা তৈরি করতে পারে। আঁশ শক্ত ও আঁটসাঁট হওয়ায় অন্ত্রে অস্বস্তি, পেটব্যথা বা বদহজমের ঝুঁকি বাড়তে পারে। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা প্রয়োজন।

তাই কী করবেন?
রান্নার আগে মাছ ভালো করে পরিষ্কার করে আঁশ ছাড়ানো জরুরি। বাজারে কাটার সময় মাছওয়ালাকে সাবধান করতে হবে। একইসঙ্গে মনে রাখতে হবে—প্রাকৃতিক আঁশ আর প্রক্রিয়াজাত কোলাজেন এক জিনিস নয়। স্বাস্থ্যরক্ষায় সঠিক তথ্য জেনে সিদ্ধান্ত নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।

বাঙালির প্রিয় খাদ্য মাছ। কিন্তু মাছের আঁশ নিয়ে রয়েছে কৌতূহল ও বিতর্ক। বিশেষজ্ঞদের মতে, আঁশে থাকে কোলাজেন—যা ত্বক ও চুলের জন্য উপকারী। তবে রান্না করা মাছের আঁশ ভুল করে পেটে গেলে হজমের সমস্যা হতে পারে। আঁশের গুণ ও ঝুঁকি—দুই দিকই জানুন বিস্তারিত।













