নির্বাচনে পরাজয়ের পর যুক্তরাষ্ট্রে ফ্লাভিও বলসোনারো, বাতিল পাসপোর্ট

ব্রাজিলের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে পরাজয়ের পর ফ্লাভিও বলসোনারোর যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার খবর সামনে এসেছে। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে পাসপোর্ট জমা না দেওয়ায় তাঁর নথি বাতিল করেছে ফেডারেল পুলিশ। তাঁর পরিবারের সদস্যদের মার্কিন ভিসা দেওয়ার বিষয়টিও নিশ্চিত করা হয়েছে।

ব্রাজিলে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে পরাজয়ের পর দেশ ছেড়ে ফ্লাভিও বলসোনারোর যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার খবরকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মঙ্গলবার তাঁর এক ঘনিষ্ঠ সহযোগী এবং মার্কিন কর্মকর্তারা তাঁর যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। নির্বাচনের ফলাফল মেনে নিতে অস্বীকার করার পাশাপাশি, অর্থপাচারের তদন্তের অংশ হিসেবে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ সত্ত্বেও তিনি পাসপোর্ট জমা দেননি। এর পরেই ব্রাজিলের ফেডারেল পুলিশ তাঁর পাসপোর্ট বাতিল করেছে।

ব্রাজিলে ২৫ অক্টোবর রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণ হয়। বর্তমান রাষ্ট্রপতি লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা ফ্লাভিও বলসোনারোকে প্রায় ৪৪ লক্ষ ভোটে পরাজিত করে চতুর্থ মেয়াদ নিশ্চিত করেন।

চূড়ান্ত ফলাফলে লুলা প্রায় ৫১.৮ শতাংশ ভোট পান। অন্যদিকে, বলসোনারো পান ৪৮.২ শতাংশ ভোট। প্রথম দফার ভোটে ফ্লাভিও এগিয়ে থাকলেও কোনও প্রার্থী প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণ করা হয়।

ফলাফল ঘোষণার পর ফ্লাভিও ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। নির্বাচনের সময় কয়েকটি ভোটকেন্দ্রে ভোটগ্রহণের সময়সীমা বাড়ানো নিয়ে আপত্তি জানিয়ে তিনি ফলাফল বাতিলের দাবি করেন।

নির্বাচনের পরের দিন সোমবার সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি আলেকজান্দ্রে দে মোরায়েস ফ্লাভিও বলসোনারোকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ফেডারেল পুলিশের কাছে পাসপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেন।

তাঁর বিরুদ্ধে চলা অর্থপাচারের তদন্তের পরিপ্রেক্ষিতে এই নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। বলসোনারো তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। মঙ্গলবার নির্ধারিত সময়সীমা শেষ হলেও তিনি পাসপোর্ট জমা দেননি। এরপর ফেডারেল পুলিশ তাঁর পাসপোর্ট বাতিল করে এবং আদালতকে নির্দেশ অমান্য করার বিষয়টি জানানোর প্রক্রিয়া শুরু করে।

মার্কিন বিদেশ দফতরের এক উচ্চপদস্থ আধিকারিক রয়টার্সকে জানিয়েছেন, ফ্লাভিও বলসোনারো এবং তাঁর পরিবারের সদস্যদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের জন্য ভিসা দেওয়া হবে।

তাঁর স্ত্রী এবং দুই মেয়েরও যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার খবর পাওয়া গিয়েছে। তবে পরিবারের প্রত্যেক সদস্যের সঠিক অবস্থান সম্পর্কে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক আশ্রয় চাওয়ার সম্ভাবনা নিয়েও জল্পনা তৈরি হয়েছে। যদিও তাঁকে রাজনৈতিক আশ্রয় দেওয়ার বিষয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি।

ফ্লাভিওর আকস্মিকভাবে ব্রাজিল ছাড়ার পর তাঁর যাত্রাপথ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। আর্জেন্টিনার পুয়ের্তো ইগুয়াজু এলাকা দিয়ে তাঁর যাওয়ার খবর সামনে এসেছে। তবে ব্রাজিলের পুলিশের কাছে নিয়মিত অভিবাসন পরীক্ষাকেন্দ্র দিয়ে তাঁর দেশ ছাড়ার কোনও নথি পাওয়া যায়নি। আর্জেন্টিনার কর্তৃপক্ষও জানিয়েছে, সে দেশে তাঁর প্রবেশের কোনও রেকর্ড নেই।

ফলে তিনি ঠিক কোন পথে ব্রাজিল ছেড়েছেন, তা এখনও স্পষ্ট নয়। কর্তৃপক্ষের তদন্তে এই বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

ফ্লাভিওর বাবা এবং ব্রাজিলের প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি জাইর বলসোনারোও ২০২২ সালে লুলার কাছে নির্বাচনে পরাজিত হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রে চলে গিয়েছিলেন। তিনিও নির্বাচনের ফলাফল মেনে নেননি। পরে ব্রাজিলে ফিরে আসার পর ক্ষমতায় টিকে থাকার উদ্দেশ্যে অভ্যুত্থানের ষড়যন্ত্র করার অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা হয়। এই মামলায় তাঁকে ২৭ বছরেরও বেশি কারাদণ্ড দেওয়া হয়। ফ্লাভিওর বর্তমান যুক্তরাষ্ট্র সফরের সঙ্গে তাঁর বাবার আগের সিদ্ধান্তের তুলনা করা হচ্ছে।

মার্কিন রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্প এর আগেও বলসোনারো পরিবারের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। জাইর বলসোনারোর বিরুদ্ধে বিচারবিভাগীয় পদক্ষেপ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছিলেন তিনি। অন্যদিকে, ব্রাজিলের রাষ্ট্রপতি লুলা মার্কিন সরকারের বিরুদ্ধে ব্রাজিলের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে হস্তক্ষেপের অভিযোগ করেছেন।

ফ্লাভিওর দেশ ছাড়া এবং তাঁর পরিবারের সদস্যদের মার্কিন ভিসা পাওয়ার খবরের পর দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে উত্তেজনা বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

বর্তমানে ব্রাজিলের তদন্তকারী সংস্থাগুলির পরবর্তী পদক্ষেপ এবং ফ্লাভিও বলসোনারোর আইনি কৌশলের দিকে নজর রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে তাঁর আইনি অবস্থান সম্পর্কেও আনুষ্ঠানিক তথ্যের অপেক্ষা চলছে।

Leave a comment