ভারতে টেলিকম সংযোগের সংখ্যা ক্রমাগত বাড়ছে। ভারতীয় টেলিকম নিয়ন্ত্রক সংস্থা টেলিকম রেগুলেটরি অথরিটি অব ইন্ডিয়া (TRAI) ২৭ অক্টোবর সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর পরিসংখ্যান প্রকাশ করেছে। রিপোর্ট অনুযায়ী, এক মাসে দেশে মোট টেলিফোন সংযোগ প্রায় ৭২.৩ লক্ষ বেড়েছে। এর মধ্যে মোবাইল, ফিক্সড ওয়্যারলেস এবং ল্যান্ডলাইন সংযোগ রয়েছে। তবে শহর ও গ্রামীণ এলাকার মধ্যে টেলিকম পরিষেবার প্রসারের উল্লেখযোগ্য ব্যবধানও রিপোর্টে উঠে এসেছে।
TRAI-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০২৬ সালের আগস্টের শেষে দেশে মোট টেলিফোন সংযোগের সংখ্যা ছিল ১৩৬.০৭ কোটি। সেপ্টেম্বরের শেষে তা বেড়ে ১৩৬.৭৯ কোটি হয়েছে। এই সময়ে মোট টেলিফোন সংযোগের মাসিক বৃদ্ধির হার ছিল ০.৫৩ শতাংশ।
দেশের সামগ্রিক টেলি-ডেনসিটিও আগস্টের ৯৫.০৭ শতাংশ থেকে বেড়ে সেপ্টেম্বরে ৯৫.৫২ শতাংশে পৌঁছেছে। টেলি-ডেনসিটি বলতে প্রতি ১০০ জনের বিপরীতে টেলিফোন সংযোগের সংখ্যাকে বোঝায়। এর মধ্যে মোবাইল, ল্যান্ডলাইন এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট সংযোগ অন্তর্ভুক্ত থাকে।
তবে টেলিফোন সংযোগের সংখ্যা এবং মোবাইল ব্যবহারকারীর সংখ্যা এক নয়। একজন ব্যক্তির একাধিক সিম থাকতে পারে। এ ছাড়া রিপোর্টে মেশিন-টু-মেশিন (M2M) সংযোগও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
টেলিকম পরিষেবার ব্যবহারের ক্ষেত্রে শহরাঞ্চল এখনও গ্রামীণ এলাকার তুলনায় এগিয়ে রয়েছে। সেপ্টেম্বরের শেষে শহরাঞ্চলে প্রায় ৮০.৭৭ কোটি টেলিফোন সংযোগ নথিভুক্ত হয়েছে, যা দেশের মোট সংযোগের ৫৯.০৫ শতাংশ।
অন্যদিকে, গ্রামীণ এলাকায় টেলিফোন সংযোগের সংখ্যা ছিল প্রায় ৫৬.০১ কোটি। মোট সংযোগের মধ্যে গ্রামীণ এলাকার অংশ ৪০.৯৫ শতাংশ। সেপ্টেম্বরে শহরাঞ্চলে প্রায় ৫৫ লক্ষ নতুন সংযোগ যুক্ত হয়েছে। গ্রামীণ এলাকায় এই বৃদ্ধি ছিল প্রায় ১৭.৩ লক্ষ।
শহর ও গ্রামের টেলি-ডেনসিটির ব্যবধানও উল্লেখযোগ্য। শহরাঞ্চলে প্রতি ১০০ জনের বিপরীতে প্রায় ১৫৬টি টেলিফোন সংযোগ রয়েছে। গ্রামীণ এলাকায় এই সংখ্যা প্রায় ৬১। অর্থাৎ, মোট টেলিফোন সংযোগের ক্ষেত্রে শহরাঞ্চলের অংশীদারিত্ব অনেক বেশি।
রাজ্য ও টেলিকম সার্কেলভিত্তিক পরিসংখ্যানে দিল্লি শীর্ষে রয়েছে। সেখানে টেলি-ডেনসিটি ৩৭৫.৬৫ শতাংশ। দিল্লি সার্কেলের পরিসংখ্যানে নয়ডা, গাজিয়াবাদ, গুরুগ্রাম এবং ফরিদাবাদের কয়েকটি এলাকার মোবাইল সংযোগও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
অন্যদিকে, বিহার টেলিকম সার্কেলে টেলি-ডেনসিটি ছিল ৬৪.৪৯ শতাংশ, যা দেশের মধ্যে সর্বনিম্ন। এই সার্কেলের আওতায় ঝাড়খণ্ডও রয়েছে। এই পরিসংখ্যান দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে টেলিকম সংযোগের প্রাপ্যতার মধ্যে ব্যবধান তুলে ধরেছে।
![]()
সেপ্টেম্বরে ওয়্যারলেস সংযোগের সংখ্যা বেড়ে ১৩১.৯২ কোটি হয়েছে। এর মধ্যে মোবাইল এবং ফিক্সড ওয়্যারলেস অ্যাক্সেস পরিষেবা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
রিলায়েন্স জিওর মোবাইল সংযোগের সংখ্যা ছিল প্রায় ৫১.১১ কোটি। ৩৯.৩২ শতাংশ বাজার অংশীদারিত্ব নিয়ে সংস্থাটি প্রথম স্থানে রয়েছে। ভারতী এয়ারটেলের সংযোগের সংখ্যা ছিল প্রায় ৪৯.৪৩ কোটি এবং বাজার অংশীদারিত্ব ছিল ৩৮.০২ শতাংশ।
তবে সক্রিয় মোবাইল সংযোগের অনুপাতের ক্ষেত্রে এয়ারটেল এগিয়ে রয়েছে। সংস্থাটির ৯৮.৯৪ শতাংশ সংযোগ সক্রিয় ছিল।
TRAI-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরে প্রায় ১.৬৮ কোটি গ্রাহক মোবাইল নম্বর পোর্ট করার জন্য আবেদন করেছেন।
ইন্টারনেট পরিষেবার ক্ষেত্রেও সংযোগের সংখ্যা বেড়েছে। আগস্টে দেশে ব্রডব্যান্ড সংযোগের সংখ্যা ছিল প্রায় ১১০.১২ কোটি। সেপ্টেম্বরে তা বেড়ে ১১০.৭৭ কোটি হয়েছে। এই বাজারে রিলায়েন্স জিও প্রথম এবং ভারতী এয়ারটেল দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে।
৫জি ফিক্সড ওয়্যারলেস অ্যাক্সেস বা এয়ারফাইবার সংযোগের সংখ্যাও ১.১৩ শতাংশ বেড়ে প্রায় ১.৩৬ কোটিতে পৌঁছেছে। এর মধ্যে জিওর সংযোগ প্রায় ৯৫.২ লক্ষ এবং এয়ারটেলের সংযোগ ৪০.৯ লক্ষ।
এই প্রযুক্তির মাধ্যমে মোবাইল নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে বাড়ি ও অফিসে ইন্টারনেট পরিষেবা পৌঁছে দেওয়া হয়। এর জন্য সর্বত্র প্রচলিত ফাইবার কেবল স্থাপন করা বাধ্যতামূলক নয়।
TRAI-এর পরিসংখ্যানে দেশে টেলিফোন ও ব্রডব্যান্ড সংযোগের বৃদ্ধির চিত্র উঠে এসেছে। পাশাপাশি শহর ও গ্রামীণ এলাকার মধ্যে টেলিকম সংযোগের ব্যবধানও স্পষ্ট হয়েছে। বিস্তারিত রিপোর্ট এবং পরবর্তী মাসগুলির পরিসংখ্যান TRAI-এর সরকারি ওয়েবসাইটে পাওয়া যাবে।








