GK: টাকা আমাদের প্রতিদিনের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। বাজার করা, যাতায়াত, বিল মেটানো কিংবা ছোটখাটো কেনাকাটা—নোট ছাড়া দৈনন্দিন লেনদেন কল্পনা করাই কঠিন। অথচ প্রতিদিন হাতে নেওয়া নোটের এমন কিছু বৈশিষ্ট্য রয়েছে, যেগুলি আমরা প্রায় দেখিই না। বিশেষ করে ১০০, ২০০ এবং ৫০০ টাকার নোটে থাকা উঁচু স্পর্শযোগ্য চিহ্ন কখনও খেয়াল করেছেন? এগুলি কেন থাকে, জানলে সত্যিই অবাক হতে পারেন।
নোটের গায়ে উঁচু দাগ কেন?
১০০, ২০০ ও ৫০০ টাকার নোটের নির্দিষ্ট অংশে আঙুল চালালে কিছু উঁচু নকশা বা রেখা অনুভব করা যায়। প্রথম দেখায় এগুলিকে নোটের নকশার সাধারণ অংশ বলে মনে হতে পারে।কিন্তু এই চিহ্নগুলির রয়েছে বিশেষ ব্যবহারিক গুরুত্ব। এগুলি এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে যাতে স্পর্শের মাধ্যমেও নোটের মূল্যমান সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়।
একেক নোটে একেক ধরনের চিহ্ন
বিভিন্ন মূল্যমানের নোটে স্পর্শযোগ্য নকশার ধরন এক নয়। ফলে একটি নোটের চিহ্ন অন্যটির থেকে আলাদা করে শনাক্ত করা সম্ভব।
১০০ টাকার নোটে নির্দিষ্ট অংশে উঁচু রেখার মতো স্পর্শযোগ্য বৈশিষ্ট্য দেখা যায়।
২০০ টাকার নোটে উঁচু রেখার পাশাপাশি বৃত্তাকার স্পর্শযোগ্য চিহ্ন রয়েছে।
অন্যদিকে ৫০০ টাকার নোটে কিনারার কাছে আলাদা বিন্যাসের উঁচু, তির্যক রেখা দেখা যায়।
অর্থাৎ মূল্যমান অনুযায়ী চিহ্নের ধরনও বদলে যায়।
দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ
এই নকশাগুলির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উদ্দেশ্য হল দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী মানুষকে নোট শনাক্ত করতে সাহায্য করা। শুধুমাত্র চোখের সাহায্যে নোটের মূল্যমান বোঝা তাঁদের পক্ষে সম্ভব নাও হতে পারে।সেক্ষেত্রে আঙুল দিয়ে নোটের উঁচু চিহ্ন স্পর্শ করে তাঁরা বিভিন্ন মূল্যমানের নোটের মধ্যে পার্থক্য করতে পারেন। ফলে দৈনন্দিন আর্থিক লেনদেনে তাঁদের জন্য নোট ব্যবহার করা তুলনামূলক সহজ হয়।
শুধু সাজসজ্জার জন্য নয়
নোটের বিভিন্ন নকশা দেখে অনেকেই মনে করেন, এগুলি হয়তো শুধুই সৌন্দর্য বাড়ানোর জন্য ব্যবহার করা হয়েছে। আসলে স্পর্শযোগ্য এই বৈশিষ্ট্যের পিছনে রয়েছে অন্তর্ভুক্তিমূলক নকশার ধারণা।অর্থাৎ, নোট এমনভাবে তৈরি করার চেষ্টা করা হয়েছে যাতে দৃষ্টিশক্তির সীমাবদ্ধতা থাকা মানুষও সেটি শনাক্ত ও ব্যবহার করতে পারেন।
এবার নোট হাতে নিলে পরীক্ষা করে দেখুন
পরের বার ১০০, ২০০ কিংবা ৫০০ টাকার নোট হাতে এলে শুধু চোখে দেখবেন না। নোটের নির্দিষ্ট অংশে আলতো করে আঙুল চালিয়ে দেখুন। উঁচু রেখা বা চিহ্নের উপস্থিতি অনুভব করতে পারবেন।দৈনন্দিন লেনদেনে এতবার ব্যবহার করা একটি নোটের মধ্যেই যে এমন গুরুত্বপূর্ণ একটি সুবিধা লুকিয়ে রয়েছে, সেটিই হয়তো এতদিন আপনার নজর এড়িয়ে গিয়েছে।
প্রতিদিনের লেনদেনে ১০০, ২০০ কিংবা ৫০০ টাকার নোট ব্যবহার করলেও তার গায়ে থাকা ছোট ছোট চিহ্নের দিকে খুব কম মানুষই নজর দেন। নোটের নির্দিষ্ট অংশে থাকা উঁচু রেখা, বৃত্ত বা স্পর্শযোগ্য নকশা কিন্তু নিছক সৌন্দর্যের জন্য নয়। এর পিছনে রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ একটি উদ্দেশ্য—দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের নোটের মূল্যমান শনাক্ত করতে সাহায্য করা।













