‘বৃহত্তর বাংলাদেশ’-এর মানচিত্রে কোন কোন ভারতীয় এলাকা? কট্টর ভারতবিরোধী ওসমান হাদির মৃত্যুর পর ফের তুঙ্গে বিতর্ক

‘বৃহত্তর বাংলাদেশ’ মানচিত্রে ভারতের কোন কোন এলাকা দেখানো হয়েছে? কট্টর ভারতবিরোধী নেতা ওসমান হাদির মৃত্যুর পর কেন ফের তুঙ্গে বিতর্ক—জানুন বিস্তারিত।

Greater Bangladesh Map: বাংলাদেশে ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম মুখ ও কট্টর ভারতবিরোধী নেতা শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুর পর নতুন করে উত্তাল আলোচনা। কারণ, তাঁর নাম জড়িয়ে রয়েছে বহু বিতর্কিত ‘বৃহত্তর বাংলাদেশ’ মানচিত্রের সঙ্গে—যেখানে ভারতের বিস্তীর্ণ অংশকে বাংলাদেশের বলে দাবি করা হয়েছে। হাদির মৃত্যু শুধু রাজনৈতিক হিংসাই নয়, ফের উসকে দিল আঞ্চলিক অখণ্ডতা ও কূটনৈতিক উদ্বেগের প্রশ্ন।

গুলিবিদ্ধ হয়ে মৃত্যু, তারপরেই হিংসা

নির্বাচনী প্রচারের সময় ঢাকার বিজয়নগরে গুলিবিদ্ধ হন ৩২ বছরের শরিফ ওসমান হাদি। মাথায় গুলি লাগার পর অবস্থার অবনতি হওয়ায় মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের উদ্যোগে তাঁকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে সিঙ্গাপুরে পাঠানো হয়। ছয় দিনের চিকিৎসার পর ১৮ ডিসেম্বর তাঁর মৃত্যু হয়। এই খবর ছড়াতেই ঢাকাসহ একাধিক শহরে ছড়িয়ে পড়ে ব্যাপক হিংসা।

‘বৃহত্তর বাংলাদেশ’-এর মানচিত্রে কোন কোন ভারতীয় এলাকা? কট্টর ভারতবিরোধী ওসমান হাদির মৃত্যুর পর ফের তুঙ্গে বিতর্ক

আগুন, ভাঙচুর ও রাজনৈতিক প্রতিশোধ

হাদির মৃত্যুর পর বিক্ষোভকারীরা সরকারি ভবন, সংবাদমাধ্যমের কার্যালয় এবং বিরোধী রাজনৈতিক দলের অফিসে আগুন ধরিয়ে দেয়। ডেইলি স্টার, প্রথম আলোর ভবন, আওয়ামি লিগের কার্যালয় এমনকি সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান ছায়ানটও বাদ যায়নি। গোটা বাংলাদেশজুড়ে অস্থিরতার ছবি সামনে আসে।

কে ছিলেন ওসমান হাদি?

২০২৪ সালের ছাত্র অভ্যুত্থানের সময় হাদি পরিচিত মুখ হয়ে ওঠেন। শেখ হাসিনার পতনের দাবিতে আন্দোলনের অন্যতম নেতা ছিলেন তিনি। পরে ‘ইনকিলাব মঞ্চ’-এর মুখপাত্র হয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে লড়েন। তাঁর তীক্ষ্ণ ভাষণ ও আক্রমণাত্মক রাজনীতিই তাঁকে সমর্থকদের কাছে জনপ্রিয় করে তোলে।

কী এই ‘বৃহত্তর বাংলাদেশ’ ধারণা?

‘বৃহত্তর বাংলাদেশ’ একটি অত্যন্ত বিতর্কিত রাজনৈতিক-জাতীয়তাবাদী ধারণা। এই কল্পনায় বর্তমান বাংলাদেশের সীমানা ছাড়িয়ে ভারতের পূর্ব ও উত্তর-পূর্বাঞ্চল এবং মায়ানমারের কিছু অংশকে বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্ত দেখানো হয়। এই ধরনের মানচিত্র সোশ্যাল মিডিয়া ও বিভিন্ন প্রদর্শনীতে ঘুরে বেড়িয়েছে।

মানচিত্রে ঢুকেছে ভারতের কোন কোন এলাকা?

বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি, এই মানচিত্রে পশ্চিমবঙ্গ, বিহার, ঝাড়খণ্ড, ওড়িশা এবং গোটা উত্তর-পূর্ব ভারতকে তথাকথিত ‘বৃহত্তর বাংলাদেশ’-এর অংশ হিসেবে দেখানো হয়েছে। পাশাপাশি মায়ানমারের আরাকান বা রাখাইন রাজ্যকেও এতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

‘বৃহত্তর বাংলাদেশ’-এর মানচিত্রে কোন কোন ভারতীয় এলাকা? কট্টর ভারতবিরোধী ওসমান হাদির মৃত্যুর পর ফের তুঙ্গে বিতর্ক

ইতিহাসের ছায়া ও নতুন বিতর্ক

এই ধারণার শিকড় খুঁজে পাওয়া যায় ১৯৪৭ সালের আগে, যখন হোসেন শহিদ সোহরাওয়ার্দির মতো নেতারা ভারত ও পাকিস্তান থেকে আলাদা একটি স্বাধীন, ঐক্যবদ্ধ বাংলার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। যদিও সেই পরিকল্পনা ব্যর্থ হয়, তবুও ইতিহাসের সেই অধ্যায় আজও বিতর্ক উসকে দিচ্ছে।

২০১৮ সালের মানচিত্র ও সাম্প্রতিক উত্তেজনা

২০১৮ সালে রাব্বির হোসেন ভুঁইয়া তৈরি একটি ‘বৃহত্তর বাংলাদেশ’ মানচিত্র নতুন করে বিতর্কে আসে। সম্প্রতি পাক সফরে গিয়ে বিতর্কিত মানচিত্র সংবলিত একটি বই উপহার দেওয়ার ঘটনাও কূটনৈতিক মহলে চর্চা বাড়িয়েছে।

বাংলাদেশের সরকারি অবস্থান

বাংলাদেশ সরকার বারবার জানিয়েছে, তারা আনুষ্ঠানিকভাবে ‘বৃহত্তর বাংলাদেশ’ ধারণাকে সমর্থন করে না। হাদির হত্যাকাণ্ডের তদন্তের সঙ্গেও কোনও আঞ্চলিক বা পররাষ্ট্রনীতিগত যোগ নেই বলেই দাবি কর্তৃপক্ষের।

‘বৃহত্তর বাংলাদেশ’-এর মানচিত্রে কোন কোন ভারতীয় এলাকা? কট্টর ভারতবিরোধী ওসমান হাদির মৃত্যুর পর ফের তুঙ্গে বিতর্ক
চরম ভারতবিরোধী যুবনেতা ওসমান হাদির মৃত্যুর পর ফের আলোচনায় ‘বৃহত্তর বাংলাদেশ’ বিতর্কিত মানচিত্র। যেখানে ভারতের একাধিক রাজ্য ও মায়ানমারের অংশকে বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্ত দেখানো হয়েছে।

Leave a comment