দীর্ঘদিন ধরেই HIV বা এইডসের স্থায়ী চিকিৎসা খুঁজে চলেছেন বিজ্ঞানীরা। এবার সেই গবেষণাতেই মিলল বড়সড় আশার ইঙ্গিত। রোগীর শরীরের নিজস্ব রোগপ্রতিরোধী কোষকে জিনগতভাবে আরও শক্তিশালী করে HIV-আক্রান্ত কোষ ধ্বংস করার কৌশলে সাফল্যের দাবি করলেন গবেষকরা। পরীক্ষামূলক CAR-T থেরাপিতে দুই রোগীর শরীরে প্রায় এক থেকে দু’বছর পর্যন্ত ভাইরাস নিয়ন্ত্রণে ছিল, এমনকি নিয়মিত অ্যান্টিরেট্রোভাইরাল ওষুধ ছাড়াই।
ক্যানসার থেরাপি থেকেই HIV চিকিৎসার নতুন পথ
বর্তমানে CAR-T cell therapy মূলত কিছু বিশেষ ধরনের ক্যানসার চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়। এই পদ্ধতিতে রোগীর শরীর থেকে টি-সেল সংগ্রহ করে জিনগত পরিবর্তনের মাধ্যমে সেগুলিকে আরও শক্তিশালী করা হয়। পরে সেই কোষ ফের শরীরে প্রবেশ করানো হয়, যাতে তারা রোগের বিরুদ্ধে কার্যকরভাবে লড়তে পারে।এবার সেই একই প্রযুক্তিকে HIV চিকিৎসার জন্য ব্যবহার করছেন গবেষকরা। তাঁদের দাবি, পরিবর্তিত টি-সেলগুলি HIV আক্রান্ত কোষ দ্রুত শনাক্ত করে ধ্বংস করতে সক্ষম হয়েছে।
কীভাবে কাজ করছে নতুন CAR-T প্রযুক্তি?
গবেষক সংস্থা Caring Cross এমন CAR-T কোষ তৈরি করেছে, যা শুধু HIV আক্রান্ত কোষ ধ্বংসই করে না, বরং নিজেকেও HIV সংক্রমণ থেকে সুরক্ষিত রাখতে পারে। অর্থাৎ ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াই করতে গিয়ে এই কোষগুলি নিজেরাই আক্রান্ত হয়ে পড়ছে না।বিজ্ঞানীদের মতে, HIV চিকিৎসার ক্ষেত্রে এটিই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল। কারণ ভাইরাসটি শরীরের ভেতরে লুকিয়ে থাকতে পারে এবং চিকিৎসা বন্ধ হলেই আবার সক্রিয় হয়ে ওঠে।
দুই রোগীর শরীরে মিলল দীর্ঘমেয়াদি ইতিবাচক ফল
গবেষণার নেতৃত্বে থাকা চিকিৎসক Dr. Steven Deeks জানান, পরীক্ষায় অংশ নেওয়া দুই রোগীর শরীরে এই নতুন থেরাপির ফল অত্যন্ত ইতিবাচক ছিল। একজনের ক্ষেত্রে প্রায় এক বছর এবং অন্যজনের ক্ষেত্রে প্রায় দু’বছর পর্যন্ত HIV ভাইরাস শনাক্তের অযোগ্য মাত্রায় নেমে ছিল।সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, এই সময় তাঁরা নিয়মিত HIV ওষুধও নেননি। গবেষকদের মতে, এটি ভবিষ্যতে “one-time treatment” বা একবারের চিকিৎসাতেই দীর্ঘমেয়াদি নিয়ন্ত্রণের সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে।
কেন এখনও সতর্ক বিজ্ঞানীরা?
যদিও এই ফলাফল অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক, তবু গবেষকরা এখনও সতর্ক। কারণ পরীক্ষাটি খুব সীমিত সংখ্যক মানুষের উপর চালানো হয়েছে। প্রথম কয়েকজন রোগীর ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য সাফল্য পাওয়া যায়নি বলেও জানিয়েছেন গবেষকরা।তবে পরে অল্পমাত্রার কেমোথেরাপির সাহায্যে শরীরে নতুন CAR-T কোষের জায়গা তৈরি করার পর ফল ভাল হতে শুরু করে। বিজ্ঞানীদের মতে, আরও বড় পরিসরে দীর্ঘমেয়াদি গবেষণা ছাড়া এই থেরাপিকে স্থায়ী সমাধান বলা সম্ভব নয়।
HIV চিকিৎসায় কেন গুরুত্বপূর্ণ এই আবিষ্কার?
বর্তমানে বিশ্বজুড়ে প্রায় ৪ কোটি মানুষ HIV নিয়ে বেঁচে আছেন। আধুনিক ওষুধের সাহায্যে রোগটি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হলেও রোগীদের সারাজীবন নিয়মিত ওষুধ খেতে হয়।এই অবস্থায় যদি CAR-T থেরাপি দীর্ঘমেয়াদি কার্যকর প্রমাণিত হয়, তাহলে ভবিষ্যতে HIV চিকিৎসার ধরনই বদলে যেতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, রোগীর শরীরের নিজস্ব রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থাকেই “জীবন্ত ওষুধ” হিসেবে ব্যবহার করার এই পদ্ধতি চিকিৎসাবিজ্ঞানে যুগান্তকারী পরিবর্তন আনতে পারে।
এইচআইভি গবেষণায় বড় সাফল্যের ইঙ্গিত দিলেন বিজ্ঞানীরা। ক্যানসার চিকিৎসায় ব্যবহৃত CAR-T থেরাপিকে বদলে HIV সংক্রমণ দমনের পরীক্ষায় মিলেছে আশাব্যঞ্জক ফল। গবেষণায় দেখা গিয়েছে, বিশেষভাবে শক্তিশালী করা টি-সেল দুই রোগীর শরীরে দীর্ঘ সময় ভাইরাসকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে সক্ষম হয়েছে, তাও নিয়মিত ওষুধ ছাড়াই। যদিও এখনও আরও বিস্তৃত গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে, তবু এই আবিষ্কার HIV চিকিৎসায় নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলে দিল বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।













