সন্ধ্যার চায়ের সঙ্গে হালকা টিফিন মানেই মুড়ি। ঝালমুড়ি হোক বা দুধ-মুড়ি—এই সহজ খাবারটি ছোট-বড় সবার প্রিয়। সাধারণত বাজার থেকেই মুড়ি কেনা হয়। কিন্তু জানেন কি, খুব সহজ কৌশলে প্রেসার কুকারেই মাত্র ৫–৭ মিনিটে বানানো যায় মুচমুচে মুড়ি? তাও আবার মাসের পর মাস খাস্তা থাকবে! চলুন জেনে নেওয়া যাক সম্পূর্ণ পদ্ধতি।
সেরা মুড়ির গোপন রহস্য: পুরনো চাল ব্যবহার করুন
মুচমুচে মুড়ি তৈরির প্রথম শর্তই হল সঠিক চাল নির্বাচন। নতুন চালের তুলনায় পুরনো চালের প্রাকৃতিক আর্দ্রতা কম থাকে।
এই কম আর্দ্রতার কারণেই গরম লবণের সংস্পর্শে এলেই চাল দ্রুত ফুলে ওঠে এবং সাদা, হালকা মুড়িতে পরিণত হয়। তাই যতটা সম্ভব পুরনো, শুকনো চাল ব্যবহার করুন।
লবণ ও জলের সঠিক অনুপাত: ভুল হলেই নষ্ট হবে টেক্সচার
প্রথমে ১ কাপ পুরনো কাঁচা চাল নিন।
এর সঙ্গে মেশান—
১ চা চামচ লবণ
১ থেকে ২ টেবিল চামচ জল
ভালভাবে মিশিয়ে নিন যাতে প্রতিটি দানায় হালকা লবণের প্রলেপ লাগে।
এরপর চাল একটি থালায় ছড়িয়ে ফ্যানের নিচে বা হালকা রোদে ১০–১৫ মিনিট শুকিয়ে নিন।
এই ধাপটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ অতিরিক্ত আর্দ্রতা থাকলে চাল ভাজার সময় সঠিকভাবে ফুলবে না।
প্রেসার কুকারে বানানোর সহজ পদ্ধতি
বাজারে সাধারণত বালিতে চাল ভেজে মুড়ি বানানো হয়। কিন্তু ঘরে তার বদলে লবণ ব্যবহার করলেই হবে।
পদ্ধতি:
একটি প্রেসার কুকারে পর্যাপ্ত পরিমাণ সাধারণ লবণ দিন।
উচ্চ আঁচে লবণ ভালোভাবে গরম করুন।
লবণ সম্পূর্ণ গরম হলে অল্প অল্প করে শুকনো চাল ঢালুন।
কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই চাল ফুলে মুক্তোর মতো সাদা হয়ে যাবে।
চাল ফুলে উঠলেই সঙ্গে সঙ্গে তুলে নিন। বেশি সময় রাখলে পুড়ে যেতে পারে।
ছেঁকে নেওয়া ও সংরক্ষণের সঠিক কৌশল
চাল ফুলে উঠলেই একটি চালুনিতে ঢেলে অতিরিক্ত লবণ ঝেড়ে ফেলুন।
ভালো খবর হল—এই লবণ বারবার ব্যবহার করা যায়।
মুড়ি সম্পূর্ণ ঠান্ডা হওয়ার পর একটি বায়ুরোধী পাত্রে ভরে রাখুন।
এইভাবে সংরক্ষণ করলে মুড়ি কয়েক মাস পর্যন্ত মুচমুচে থাকবে।
ঘরে তৈরি মুড়ির সুবিধা কী?
ভেজালমুক্ত ও স্বাস্থ্যকর
নিজের পছন্দমতো স্বাদ কাস্টমাইজ করা যায়
দীর্ঘদিন সংরক্ষণযোগ্য
খরচও কম
বাজারের ভেজাল মুড়ি নয়, এবার ঘরেই তৈরি করুন খাঁটি ও মুচমুচে মুড়ি। পুরনো চাল, সামান্য লবণ ও প্রেসার কুকারেই মিলবে দারুণ ফল। রইল ধাপে ধাপে সহজ রেসিপি ও সংরক্ষণের টিপস।













