রাস্তায় বেরোনোর আগে গন্তব্যে পৌঁছতে কতক্ষণ লাগবে, কোন পথে গেলে জ্যাম কম—এসব জানতে এখন অনেকেই গুগল ম্যাপসের উপর নির্ভর করেন। কিন্তু কখনও কি ভেবে দেখেছেন, রাস্তায় ঠিক কী হচ্ছে তা গুগল ম্যাপস জানছে কীভাবে? প্রতিটি গাড়ির উপরে তো কোনও স্যাটেলাইট ক্যামেরা লাগানো নেই! আসলে এর পিছনে রয়েছে বিপুল পরিমাণ লোকেশন ডেটা, ঐতিহাসিক তথ্য এবং প্রযুক্তিনির্ভর বিশ্লেষণ।
স্মার্টফোনের লোকেশন থেকেই আসে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
গুগল ম্যাপস ট্র্যাফিক পরিস্থিতি বোঝার ক্ষেত্রে চলন্ত স্মার্টফোনের লোকেশন ও গতির তথ্যকে গুরুত্বপূর্ণ সংকেত হিসেবে ব্যবহার করতে পারে।ধরা যাক, কোনও নির্দিষ্ট রাস্তায় সাধারণত গাড়িগুলি ঘণ্টায় প্রায় ৫০ কিলোমিটার গতিতে চলে। কিন্তু একই সময়ে ওই রাস্তা দিয়ে চলাচলকারী একাধিক ডিভাইসের গতিবিধি যদি হঠাৎ অনেক কমে যায়, তাহলে সিস্টেম বুঝতে পারে সেখানে যান চলাচল ধীর হয়েছে।অর্থাৎ প্রতিটি গাড়িকে আলাদা করে ক্যামেরায় দেখার প্রয়োজন হয় না। বহু ডিভাইসের সম্মিলিত গতির তথ্য বিশ্লেষণ করেই রাস্তার সামগ্রিক পরিস্থিতি সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়।
লাল, হলুদ আর সবুজ রঙের মানে কী?
গুগল ম্যাপসে রাস্তার বিভিন্ন অংশে যে রঙের দাগ দেখা যায়, সেগুলিও ট্র্যাফিক পরিস্থিতির ইঙ্গিত দেয়।
সবুজ: সাধারণত যান চলাচল স্বাভাবিক বা তুলনামূলক দ্রুত।
হলুদ: রাস্তায় যান চলাচলের গতি কমেছে এবং কিছুটা চাপ রয়েছে।
লাল: যানজট বেশি বা যান চলাচল উল্লেখযোগ্যভাবে ধীর।
তবে এই রংগুলি কোনও নির্দিষ্ট মুহূর্তে রাস্তার প্রতিটি গাড়ির অবস্থার সরাসরি ছবি নয়। এগুলি বিভিন্ন ডেটা বিশ্লেষণ করে তৈরি হওয়া ট্র্যাফিকের একটি আনুমানিক চিত্র।
শুধু লাইভ ডেটা নয়, কাজে লাগে পুরনো তথ্যও
গুগল ম্যাপসের ট্র্যাফিক অনুমান শুধুমাত্র সেই মুহূর্তের লোকেশন ডেটার উপর নির্ভর করে না। কোনও রাস্তায় দিনের নির্দিষ্ট সময়ে সাধারণত কী ধরনের যানজট হয়, তার পুরনো তথ্যও গুরুত্বপূর্ণ।যেমন, কোনও রাস্তায় সপ্তাহের কর্মদিবসে সকালে অফিসের সময়ে নিয়মিত যানজট তৈরি হলে সেই ঐতিহাসিক প্রবণতাও ভবিষ্যতের যাত্রার সময় অনুমান করতে কাজে লাগতে পারে।অর্থাৎ বর্তমান পরিস্থিতি এবং অতীতের ট্র্যাফিক প্যাটার্ন—দুই ধরনের তথ্য মিলিয়েই সম্ভাব্য যাত্রার সময় নির্ধারণ করা হয়।
দুর্ঘটনা বা রাস্তা বন্ধের খবরও বদলে দিতে পারে হিসাব
সবসময় পরিস্থিতি পূর্বানুমান করা সম্ভব নয়। হঠাৎ দুর্ঘটনা, রাস্তা বন্ধ, নির্মাণকাজ বা অন্য কোনও অপ্রত্যাশিত ঘটনা ঘটলে ট্র্যাফিকের চিত্র দ্রুত বদলে যেতে পারে।এক্ষেত্রে ব্যবহারকারীদের দেওয়া তথ্য এবং ট্র্যাফিক কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে পাওয়া উপলব্ধ তথ্যও রাস্তার পরিস্থিতি বুঝতে সাহায্য করতে পারে।
তাহলে কি গুগল প্রতিটি গাড়িকে ট্র্যাক করে?
না। গুগল ম্যাপসের রঙিন ট্র্যাফিক লাইনকে প্রতিটি গাড়ির লাইভ ক্যামেরা ফিড হিসেবে ভাবা ঠিক নয়। বরং বিপুল পরিমাণ ডেটা একসঙ্গে বিশ্লেষণ করে রাস্তার যান চলাচলের একটি আনুমানিক ছবি তৈরি করা হয়।কোনও এলাকায় পর্যাপ্ত লোকেশন সিগন্যাল না থাকলে বা আচমকা অস্বাভাবিক পরিস্থিতি তৈরি হলে ট্র্যাফিকের পূর্বাভাস কম নির্ভুল হতে পারে। তাই ম্যাপে দেখানো ট্র্যাফিক পরিস্থিতি বাস্তব রাস্তার অবস্থার সঙ্গে সবসময় হুবহু মিলবেই—এমন নিশ্চয়তা নেই।
গুগল ম্যাপসের ট্র্যাফিক আপডেট কোনও স্যাটেলাইটের মাধ্যমে প্রতিটি গাড়িকে আলাদা করে নজরদারি করে তৈরি হয় না। স্মার্টফোনের লোকেশন ও গতির তথ্য, ব্যবহারকারীদের দেওয়া রিপোর্ট, অতীতের ট্র্যাফিকের ধরণ এবং বিভিন্ন প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণের সাহায্যে রাস্তার পরিস্থিতি অনুমান করা হয়। সেই অনুযায়ী ম্যাপে রাস্তা সবুজ, হলুদ বা লাল রঙে দেখা যায়।













