বর্ষা মানেই কাদামাখা জুতো, ভেজা পা আর নোংরা পাপোশ। বাড়ির দরজায় রাখা পাপোশই সবচেয়ে বেশি ময়লা জমার শিকার হয়। কিন্তু এই সময়ে বারবার ধুয়ে শুকোনো বেশ ঝামেলার। তাই জল ছাড়াই পাপোশ পরিষ্কার ও দুর্গন্ধমুক্ত রাখার কয়েকটি সহজ ও কার্যকর উপায় জেনে নিন।
বেকিং সোডায় দূর হবে দুর্গন্ধ ও স্যাঁতসেঁতে ভাব
পাপোশের উপর ভালো করে শুকনো বেকিং সোডা ছড়িয়ে দিন।
২ থেকে ৩ ঘণ্টা রেখে দিন।
এরপর শক্ত ব্রাশ বা ঝাড়ু দিয়ে ঝেড়ে ফেলুন।
বেকিং সোডা দুর্গন্ধ শোষণ করার পাশাপাশি স্যাঁতসেঁতে ভাবও অনেকটাই কমিয়ে দেয়।
কর্নস্টার্চ বা ট্যালকম পাউডারও দারুণ কার্যকর
পাপোশে যদি তেলের দাগ বা চিটচিটে ময়লা থাকে, তাহলে—
কর্নস্টার্চ বা ট্যালকম পাউডার ছড়িয়ে দিন।
কিছুক্ষণ অপেক্ষা করুন।
পরে ব্রাশ দিয়ে ঘষে ঝেড়ে ফেলুন।
এতে অতিরিক্ত তেল ও ময়লা সহজেই শুষে নেওয়া যায়।
ফিটকিরি ও শ্যাম্পুর স্প্রে দিয়ে পরিষ্কার করুন
হালকা ভেজা পরিষ্কার করার জন্য একটি সহজ মিশ্রণ তৈরি করতে পারেন।
যা লাগবে:
১ মগ কুসুম গরম জল
সামান্য ফিটকিরি
২-৩ প্যাকেট শ্যাম্পু
সব উপকরণ মিশিয়ে একটি স্প্রে বোতলে ভরে নিন।
এরপর—
একটি পরিষ্কার কাপড়ে মিশ্রণটি স্প্রে করুন।
সেই কাপড় দিয়ে পাপোশ ভালোভাবে মুছে নিন।
এতে ময়লা পরিষ্কার হওয়ার পাশাপাশি দুর্গন্ধও কমে যায়।
ভ্যাকুয়াম ক্লিনার থাকলে কাজ আরও সহজ
যদি বাড়িতে ভ্যাকুয়াম ক্লিনার থাকে, তাহলে জল ব্যবহার না করেই পাপোশ পরিষ্কার করা যায়।
প্রথমে কম স্পিডে সেট করুন।
এরপর পুরো পাপোশে ধীরে ধীরে চালান।
আলগা ধুলো, শুকনো কাদা ও ময়লা সহজেই পরিষ্কার হয়ে যাবে।
পুরনো টুথব্রাশ বা লন্ড্রি ব্রাশ ব্যবহার করুন
প্রথমে পাপোশ উল্টে ভালোভাবে ঝেড়ে নিন।
এরপর—
পুরনো টুথব্রাশ বা লন্ড্রি ব্রাশ দিয়ে
জমে থাকা ময়লা ঘষে তুলে ফেলুন।
এই পদ্ধতি বিশেষ করে ফাইবার বা কাপড়ের পাপোশের জন্য বেশ কার্যকর।
বর্ষাকালে পাপোশ পরিষ্কার রাখার অতিরিক্ত টিপস
সপ্তাহে অন্তত একবার পাপোশ রোদ পেলেই কিছুক্ষণ শুকিয়ে নিন।
সম্ভব হলে বাড়ির বাইরে ও ভেতরে আলাদা দুটি পাপোশ ব্যবহার করুন।
অতিরিক্ত ভিজে গেলে সঙ্গে সঙ্গে শুকনো জায়গায় রেখে দিন।
নিয়মিত ঝেড়ে নিলে ময়লা ও জীবাণু কম জমে।
বর্ষাকালে দরজার পাপোশে কাদা, ধুলো, স্যাঁতসেঁতে ভাব ও দুর্গন্ধ জমে যাওয়া খুবই সাধারণ সমস্যা। বারবার ধুতে গেলে শুকোতে সময় লাগে। তবে কিছু সহজ ঘরোয়া উপায়ে জল দিয়ে না ধুয়েও পাপোশ পরিষ্কার রাখা সম্ভব। বেকিং সোডা, কর্নস্টার্চ, ভ্যাকুয়াম ক্লিনার বা ব্রাশের মতো সাধারণ জিনিসেই মিলবে সমাধান।













