India-Bangladesh: বিদ্যুৎ আমদানিতে নতুন মাশুলের প্রস্তাব, বাংলাদেশের জন্য কী বদলাতে পারে? জানুন পুরো বিষয়

India-Bangladesh: ভারত থেকে বিদ্যুৎ আমদানিতে বাংলাদেশকে প্রতি ইউনিটে ০.০০৫ টাকা SNA চার্জ দেওয়ার প্রস্তাব। ১,১৬০ ও ২,৬৫৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানি নিয়ে জানুন বিস্তারিত।

ভারত-বাংলাদেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে টানাপড়েনের মধ্যেই বিদ্যুৎ বাণিজ্য ঘিরে নতুন একটি বিষয় সামনে এসেছে। ভারত থেকে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহের ক্ষেত্রে প্রতি ইউনিটে ০.০০৫ টাকা SNA চার্জ নেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে দুই দেশের বিদ্যুৎ বাণিজ্য ও নিষ্পত্তি ব্যবস্থা নতুন করে আলোচনায় এসেছে। তবে এই প্রস্তাবকে সরাসরি বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ বা বড় ধরনের শাস্তিমূলক পদক্ষেপ হিসেবে দেখার কারণ নেই।

India-Bangladesh: বিদ্যুৎ আমদানিতে নতুন মাশুলের প্রস্তাব, বাংলাদেশের জন্য কী বদলাতে পারে? জানুন পুরো বিষয়
কেন এই নতুন মাশুলের প্রস্তাব?

সীমান্ত-পার বিদ্যুৎ লেনদেন পরিচালনার ক্ষেত্রে শিডিউলিং, মিটারিং, এনার্জি অ্যাকাউন্টিং এবং গ্রিড পরিচালনার মতো একাধিক পরিষেবা প্রয়োজন হয়। এসব কাজের সঙ্গে যুক্ত খরচ মেটাতেই Settlement Nodal Agency বা SNA charge চালুর প্রস্তাব করা হয়েছে।প্রাথমিকভাবে প্রতি ইউনিটে ০.০১ টাকা চার্জের প্রস্তাব সামনে এসেছিল। পরে বাংলাদেশের বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের বক্তব্য বিবেচনায় সেটি কমিয়ে ০.০০৫ টাকা প্রতি ইউনিট করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

এটি কি বিদ্যুতের মূল দাম বাড়াবে?

প্রস্তাবিত SNA চার্জটি বিদ্যুতের মূল ট্যারিফের অংশ নয়। এটি আলাদা একটি পরিষেবা-ভিত্তিক মাশুল। অর্থাৎ বিদ্যুতের যে মূল দাম বাংলাদেশ ভারতীয় বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী বা সরবরাহকারীদের দেয়, তার বাইরে এই চার্জ যুক্ত হতে পারে।তবে প্রতি ইউনিটে মাশুলের পরিমাণ খুব বেশি নয়। ফলে সামগ্রিক বিদ্যুৎ আমদানি ব্যয়ের তুলনায় এর প্রভাব সীমিত থাকার সম্ভাবনাই বেশি।

India-Bangladesh: বিদ্যুৎ আমদানিতে নতুন মাশুলের প্রস্তাব, বাংলাদেশের জন্য কী বদলাতে পারে? জানুন পুরো বিষয়
১,১৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়

প্রস্তাবিত SNA ব্যবস্থার আওতায় ভারত থেকে বাংলাদেশের প্রায় ১,১৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানির বিষয়টি রয়েছে। এই লেনদেনের ক্ষেত্রে ভারতের রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা NTPC Vidyut Vyapar Nigam Limited (NVVN)-কে নোডাল এজেন্সি হিসেবে ব্যবহারের বিষয়ে আলোচনা চলছে।বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (BPDB) এবং NVVN-এর মধ্যে এ সংক্রান্ত চুক্তির বিষয়টি নিয়েও প্রক্রিয়া এগোচ্ছে। চুক্তি চূড়ান্ত করতে দেরি হলে বিদ্যুৎ লেনদেনের প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনায় জটিলতা তৈরি হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট মহলের আশঙ্কা।

ভারত থেকে মোট কত বিদ্যুৎ নেয় বাংলাদেশ?

বিভিন্ন চুক্তি ও সরবরাহ ব্যবস্থার মাধ্যমে বাংলাদেশ ভারতের কাছ থেকে মোট প্রায় ২,৬৫৬ মেগাওয়াট পর্যন্ত বিদ্যুৎ আমদানির চুক্তি করেছে।এর মধ্যে বিভিন্ন ভারতীয় সংস্থা ও বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহের ব্যবস্থা রয়েছে। সরকারি পর্যায়ের চুক্তির পাশাপাশি বেসরকারি সংস্থার মাধ্যমেও বাংলাদেশ বিদ্যুৎ আমদানি করে।

India-Bangladesh: বিদ্যুৎ আমদানিতে নতুন মাশুলের প্রস্তাব, বাংলাদেশের জন্য কী বদলাতে পারে? জানুন পুরো বিষয়
আদানি পাওয়ারের বিদ্যুৎ নিয়ে আলাদা ব্যবস্থা

বাংলাদেশ ঝাড়খণ্ডের গোড্ডায় অবস্থিত Adani Power-এর বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকেও প্রায় ১,৪৯৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানি করে।এই সরবরাহের ক্ষেত্রে আলাদা SNA চুক্তির প্রয়োজন হবে না বলে বাংলাদেশের বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের বক্তব্য। কারণ, আদানি পাওয়ারের সঙ্গে বিদ্যমান বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তির মধ্যেই সংশ্লিষ্ট খরচের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

ভারত-বাংলাদেশ বিদ্যুৎ বাণিজ্যে এর প্রভাব কী?

প্রতি ইউনিটে ০.০০৫ টাকা SNA চার্জ খুব বড় অঙ্কের অতিরিক্ত ব্যয় নয়। মূলত বিদ্যুৎ লেনদেন পরিচালনা ও নিষ্পত্তির প্রশাসনিক খরচ মেটানোই এর উদ্দেশ্য।তাই এই প্রস্তাবকে সরাসরি ভারত-বাংলাদেশ বিদ্যুৎ বাণিজ্যে বড় ধাক্কা হিসেবে দেখার বদলে সীমান্ত-পার বিদ্যুৎ লেনদেনের জন্য নতুন চার্জ কাঠামো তৈরির পদক্ষেপ হিসেবে দেখা বেশি যুক্তিযুক্ত।

India-Bangladesh: বিদ্যুৎ আমদানিতে নতুন মাশুলের প্রস্তাব, বাংলাদেশের জন্য কী বদলাতে পারে? জানুন পুরো বিষয়
ভারত থেকে বিদ্যুৎ আমদানির ক্ষেত্রে বাংলাদেশের জন্য প্রতি ইউনিটে ০.০০৫ টাকা SNA চার্জ আরোপের প্রস্তাব সামনে এসেছে। সীমান্ত-পার বিদ্যুৎ বাণিজ্যের শিডিউলিং, মিটারিং, হিসাবরক্ষণ ও গ্রিড পরিচালনার খরচ মেটাতেই এই মাশুলের প্রস্তাব। তবে এটি মূল বিদ্যুৎ ট্যারিফের অতিরিক্ত একটি চার্জ এবং এর পরিমাণ তুলনামূলকভাবে কম।

Leave a comment