ভারতের সারাফা বাজারে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো সোনার দামে বড় পতন রেকর্ড হয়েছে, যার ফলে গয়না কেনার পরিকল্পনা করা ক্রেতারা কিছুটা স্বস্তি পেয়েছেন। অন্যদিকে, রুপোর দামে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি দেখা গেছে, যা মূল্যবান ধাতুর বাজারে বিপরীতমুখী প্রবণতা তুলে ধরেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দাম পুনরুদ্ধার হলেও দেশীয় বাজারে সোনা আরও সস্তা হয়েছে।
সাম্প্রতিক লেনদেন পর্বে ভারতে সোনার গড় দাম কমে প্রায় ১,৪৫,৯০০ টাকা প্রতি ১০ গ্রামে নেমে এসেছে। আগের লেনদেন দিনের তুলনায় এতে প্রতি ১০ গ্রামে ১,৩৬৮ টাকা হ্রাস পেয়েছে। এর আগে সোনার দামে প্রায় ১,৯০০ টাকার পতন হয়েছিল। ফলে দুই দিনে মোট মূল্যহ্রাস ৩,০০০ টাকার বেশি হয়েছে।
জাতীয় রাজধানী দিল্লিতে ২৪ ক্যারেট সোনার দাম প্রতি ১০ গ্রামে প্রায় ১,৪৫,৬৫০ টাকা ছিল, যা জাতীয় গড়ের তুলনায় সামান্য কম। একই সঙ্গে গয়না ক্রেতাদের মধ্যে জনপ্রিয় ১৮ ক্যারেট সোনার দামও কমে প্রতি ১০ গ্রামে প্রায় ১,০৯,৪২৫ টাকায় নেমে এসেছে।
বৈশ্বিক পণ্য এক্সচেঞ্জ COMEX-এ সোনার দাম প্রায় ০.৬৩ শতাংশ বেড়ে লেনদেন হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ অব্যাহত থাকার ইঙ্গিত দেয়। তা সত্ত্বেও ভারতে সোনার দাম কমার পেছনে একাধিক দেশীয় কারণ দায়ী বলে মনে করা হচ্ছে।
![]()
প্রধান কারণ হিসেবে মৌসুমি চাহিদা হ্রাসের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। বিয়ে ও উৎসবের প্রধান মৌসুম শেষ হওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই গয়নার কেনাকাটা কমেছে। এছাড়া সাম্প্রতিক সময়ে ধারাবাহিক মূল্যপতনের কারণে অনেক ক্রেতা ও বিনিয়োগকারী কেনাকাটা স্থগিত রাখছেন, কারণ তারা ভবিষ্যতে আরও কম দামে সোনা পাওয়ার প্রত্যাশা করছেন।
বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, অনেকেই পুরোনো সোনা বিক্রি করে নগদ অর্থ সংগ্রহ করছেন। এর ফলে বাজারে সোনার সরবরাহ বেড়েছে, অথচ চাহিদা তুলনামূলকভাবে দুর্বল রয়েছে। চাহিদা ও সরবরাহের এই ভারসাম্যহীনতার প্রভাব সরাসরি দামের ওপর পড়ছে। এছাড়া আমদানি শুল্ক ও সরকারি নীতিসংক্রান্ত অনিশ্চয়তাও ক্রেতাদের মনোভাবকে প্রভাবিত করেছে। একই সঙ্গে বৈশ্বিক পর্যায়ে মার্কিন ডলারের শক্তিশালী অবস্থান এবং বিনিয়োগকারীদের পরিবর্তিত কৌশলের প্রভাবও দেশীয় বাজারে প্রতিফলিত হয়েছে।
সোনার দাম টানা কমলেও রুপোর দামে উল্লেখযোগ্য উত্থান দেখা গেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে COMEX-এ রুপোর দাম প্রায় ১.১২ শতাংশ বেড়েছে, যার প্রভাব ভারতীয় বাজারেও পড়েছে। দেশীয় সারাফা বাজারে রুপোর দাম প্রতি কিলোগ্রামে প্রায় ৩,০৯১ টাকা বেড়ে ২.৩২ লাখ টাকায় পৌঁছেছে। এটি দৈনিক প্রায় ১.৩৫ শতাংশ বৃদ্ধির সমান।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শিল্পখাতে শক্তিশালী চাহিদা, সবুজ জ্বালানি প্রকল্পে রুপোর বাড়তি ব্যবহার এবং বৈশ্বিক বিনিয়োগকারীদের ক্রমবর্ধমান আগ্রহ রুপোর দামে সমর্থন দিচ্ছে।











