‘উপপত্নীর মতো ব্যবহার’! ভারত–আমেরিকা বাণিজ্য চুক্তির পর শেহবাজ–মুনিরকে বিদ্রুপে বিদ্ধ পাকিস্তানিরাই

‘উপপত্নীর মতো ব্যবহার’! ভারত–আমেরিকা বাণিজ্য চুক্তির পর শেহবাজ–মুনিরকে বিদ্রুপে বিদ্ধ পাকিস্তানিরাই

India-US Trade Deal Reaction: ভারত ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে শুল্ক কমানোর বাণিজ্য চুক্তি শুধু আন্তর্জাতিক অর্থনীতির ক্ষেত্রেই নয়, দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতিতেও ঢেউ তুলেছে। এই চুক্তির ঘোষণার পর পাকিস্তানেই শুরু হয়েছে সবচেয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া—তাও সে দেশের সাধারণ নাগরিক ও রাজনৈতিক সমর্থকদের তরফে।

ভারত–আমেরিকা চুক্তি ঘিরে ক্ষোভ পাকিস্তানে

সোমবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে ফোনালাপের পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেন, ভারতীয় পণ্যের উপর পারস্পরিক শুল্ক কমিয়ে ১৮ শতাংশ করা হচ্ছে। এই ঘোষণার পরই পাকিস্তানের সোশ্যাল মিডিয়ায় শুরু হয় তুলনা—ভারত যেখানে সম্মানের সঙ্গে চুক্তি আদায় করল, সেখানে পাকিস্তান নাকি গুরুত্বই পেল না।

‘উপপত্নীর মতো আচরণ’ মন্তব্যে উত্তাল এক্স

একাধিক পাকিস্তানি এক্স (সাবেক টুইটার) ব্যবহারকারী দাবি করেন, ট্রাম্প প্রশাসন পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনিরকে কার্যত উপেক্ষা করেছে। এক ইউজার কটাক্ষ করে লেখেন, “ভারতের সঙ্গে চুক্তির সময় ট্রাম্প যেভাবে আচরণ করলেন, তাতে আসিম মুনিরকে উপপত্নীর মতো ব্যবহার করা হয়েছে।” এই মন্তব্য ঘিরে ব্যাপক চর্চা শুরু হয়।

ব্যঙ্গচিত্র ও AI ছবিতে বিদ্রুপ

সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয় একাধিক ব্যঙ্গচিত্র ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি ছবি। একটি ছবিতে দেখা যায়, প্রধানমন্ত্রী মোদি ও ট্রাম্প একসঙ্গে দাঁড়িয়ে, আর দূরে খনিজ সম্পদের বাক্স হাতে কাঁদছেন আসিম মুনির। এই ধরনের পোস্ট পাকিস্তানের রাজনৈতিক নেতৃত্বের কূটনৈতিক ব্যর্থতাকেই তুলে ধরছে বলে দাবি নেটিজেনদের।

ইমরান খান সমর্থকদের তীব্র আক্রমণ

পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (PTI) দলের সমর্থকরাও এই ইস্যুতে সরব। তাঁদের দাবি, অবৈধ ও অজনপ্রিয় সরকার দেশ চালানোর ফলেই পাকিস্তান আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে গুরুত্ব হারাচ্ছে। এক সমর্থক লেখেন, “সব রকম তোষামোদির পরেও পাকিস্তানে ১৯% শুল্ক, আর ভারতে ১৮%! এটাই নাকি কূটনৈতিক সাফল্য?”

প্রাক্তন মন্ত্রীর স্বীকারোক্তি

পিটিআই-এর প্রাক্তন মন্ত্রী হাম্মাদ আজহারও পরোক্ষভাবে ভারতের সাফল্য স্বীকার করে নেন। তিনি লেখেন, আধুনিক কূটনীতি ব্যক্তিগত সম্পর্ক বা ফটো-সেশনের উপর নির্ভর করে না, বরং অর্থনৈতিক শক্তি ও বাজারে প্রবেশাধিকারের উপর নির্ভরশীল—যা ভারত প্রমাণ করেছে।

ভারত ও আমেরিকার মধ্যে শুল্ক হ্রাস সংক্রান্ত বাণিজ্য চুক্তির ঘোষণার পর পাকিস্তানের সোশ্যাল মিডিয়ায় শুরু হয়েছে তীব্র ব্যঙ্গ-বিদ্রুপ। প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ ও সেনাপ্রধান আসিম মুনিরকে কটাক্ষ করে ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে ভারতের কূটনৈতিক সাফল্যের তুলনা টানছেন পাকিস্তানিরাই।

Leave a comment