পৌষ সংক্রান্তি যত এগিয়ে আসছে, ততই রঙিন হয়ে উঠছে জলপাইগুড়ির আকাশ আর বাজার। শহরের দিনবাজার থেকে দশকর্মা ভাণ্ডার—সব জায়গাতেই এখন একটাই শব্দ ঘুরে ফিরে শোনা যাচ্ছে—ঘুড়ি। একসময় প্রায় হারিয়ে যাওয়া ‘ভোকাট্টা’ সংস্কৃতি এখনও টিকে রয়েছে এই শহরের আকাশে।
পৌষ সংক্রান্তি মানেই ঘুড়ির উৎসব লোকসংস্কৃতির সঙ্গে জড়িয়ে জলপাইগুড়ির আকাশ
বাংলার বহু জায়গায় বিশ্বকর্মা পুজোয় ঘুড়ি ওড়ানোর রীতি থাকলেও, জলপাইগুড়িতে পৌষ সংক্রান্তিই ঘুড়ির আসল উৎসব। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে এই দিনে আকাশে উড়ে বেড়ায় পেটকাটি, তেরঙ্গা, ক্যালকাট্টাইয়া ঘুড়ি।
দাম কম, উৎসাহ বেশি
ব্যবসায়ীদের কথায়, এবছর ঘুড়ির চাহিদা চোখে পড়ার মতো।
ঘুড়ির দাম: ৫–১৫ টাকা
মাঞ্জা দেওয়া সুতোর রিল: ১০০ টাকা
লাটাই: ৩০–৫০ টাকা
বিশেষ করে সাধারণ সুতোর তুলনায় মাঞ্জা দেওয়া সুতোর বিক্রি অনেক বেশি।
ক্যালকাট্টাইয়া ঘুড়ির বাড়তি কদর
উড়ানের ভারসাম্য আর লড়াইয়ের জন্য ক্যালকাট্টাইয়া ঘুড়ির চাহিদা এবার বেশি। বিক্রেতাদের মতে, শক্ত মাঞ্জা আর মজবুত ঘুড়িই ভোকাট্টার লড়াইয়ে জয়ের চাবিকাঠি।
সংক্রান্তির ঘুড়ির পেছনের বিশ্বাস
লোকবিশ্বাস অনুযায়ী, এই সময় সূর্যের উত্তরায়ণ শুরু হয়। ঘুড়িকে প্রতীক করে সূর্যদেবতার কাছে ভালো ফসল, শীতের কষ্ট থেকে মুক্তির প্রার্থনা জানানো হত। সময়ের সঙ্গে সেই বিশ্বাসই রূপ নেয় উৎসবে।
হারিয়ে যেতে বসা আনন্দ, তবু টিকে আছে উৎসাহ
একসময় টিউবলাইট বা বাল্ব গুঁড়ো করে নিজের হাতে মাঞ্জা বানানো ছিল আলাদা রোমাঞ্চ। আজ সেই দৃশ্য অনেকটাই ফিকে। তবু নতুন প্রজন্মের মধ্যে ঘুড়ি কম্পিটিশনের উন্মাদনা এখনও রয়েছে।
পৌষ সংক্রান্তি মানেই জলপাইগুড়ির আকাশজুড়ে ঘুড়ির রাজত্ব। মাত্র ৫ টাকা থেকে শুরু ঘুড়ির দাম। রঙিন পেটকাটি, ক্যালকাট্টাইয়া ঘুড়ি আর মাঞ্জা সুতোর চাহিদায় জমজমাট শহরের বাজার।













