Jhargram Rajbari Weekend Trip: রাজকীয় পালঙ্কে রাতযাপন, কাঁসার থালিতে সাবেকি ভোজ! ছোট্ট ছুটিতে রাজার মতো থাকতে চলে আসুন ঝাড়গ্রাম রাজবাড়িতে

উইকএন্ডে রাজার মতো ছুটি কাটাতে চান? ঝাড়গ্রাম রাজবাড়িতে মিলবে ঐতিহাসিক পরিবেশে থাকার সুযোগ, রাজকীয় থালি, পুরনো কাঠের আসবাব ও জঙ্গলমহলের সবুজের হাতছানি।

উইকএন্ডে এমন কোথাও যেতে চান যেখানে শুধু ঘোরাঘুরি নয়, থাকার অভিজ্ঞতাটাও হবে একেবারে অন্যরকম? তাহলে তালিকায় রাখতে পারেন ঝাড়গ্রাম রাজবাড়িকে। জঙ্গলমহলের সবুজের মাঝে অবস্থিত এই ঐতিহাসিক রাজবাড়িতে আজও টের পাওয়া যায় পুরনো রাজকীয় আমলের আবহ। বিশাল কাঠের আসবাব, পুরনো দিনের স্থাপত্য, রাজকীয় খাবার আর চারপাশের শাল-পিয়ালের জঙ্গল—সব মিলিয়ে এখানে ছুটি কাটানোর অভিজ্ঞতা হতে পারে বেশ বিশেষ।

Jhargram Rajbari Weekend Trip: রাজকীয় পালঙ্কে রাতযাপন, কাঁসার থালিতে সাবেকি ভোজ! ছোট্ট ছুটিতে রাজার মতো থাকতে চলে আসুন ঝাড়গ্রাম রাজবাড়িতে
প্রায় সাড়ে চারশো বছরের ইতিহাসের সাক্ষী

ঝাড়গ্রাম রাজবাড়ি শুধু থাকার জায়গা নয়, ইতিহাসের সঙ্গেও জড়িয়ে থাকা একটি গুরুত্বপূর্ণ ঠিকানা। রাজপুত মল্লদেব রাজবংশের স্মৃতি বহন করে চলেছে এই প্রাসাদ। ইন্দো-সারাসেনিক স্থাপত্যের বৈশিষ্ট্য এখনও চোখে পড়ে রাজবাড়ির বিভিন্ন অংশে।ইতিহাসের সেই পরিবেশকে অনেকটাই অক্ষুণ্ণ রেখে পর্যটকদের থাকার সুযোগ তৈরি করা হয়েছে। ফলে এখানে রাত কাটানো মানেই যেন আধুনিক হোটেলের বদলে রাজপরিবারের পুরনো দিনের আবহে কয়েক ঘণ্টা কাটানো।

রাজাদের আমলের পালঙ্কে রাত কাটানোর সুযোগ

রাজবাড়ির অন্দরমহলে ঢুকলেই চোখে পড়বে পুরনো দিনের স্থাপত্য ও আসবাবপত্র। বড় বড় কড়ি-বর্গার সিলিং, ঐতিহ্যবাহী নকশা এবং রাজপরিবারের ব্যবহৃত নানা সামগ্রী গোটা পরিবেশকে আলাদা মাত্রা দিয়েছে।বিশেষ আকর্ষণ হল পুরনো আমলের বড় কাঠের খাট বা পালঙ্ক। সেই ঐতিহ্যবাহী পরিবেশে রাত কাটানোর সুযোগ পর্যটকদের কাছে এই থাকার অভিজ্ঞতাকে আরও স্মরণীয় করে তোলে।

Jhargram Rajbari Weekend Trip: রাজকীয় পালঙ্কে রাতযাপন, কাঁসার থালিতে সাবেকি ভোজ! ছোট্ট ছুটিতে রাজার মতো থাকতে চলে আসুন ঝাড়গ্রাম রাজবাড়িতে
বাজেট অনুযায়ী রয়েছে একাধিক রুম

পর্যটকদের সুবিধার কথা মাথায় রেখে রাজবাড়িতে বিভিন্ন ধরনের থাকার ব্যবস্থা রয়েছে। তথ্য অনুযায়ী, ক্লাসিক ভিন্টেজ রুমের ভাড়া শুরু হচ্ছে প্রায় ৪,৫০০ টাকা থেকে।আরও বিলাসবহুল থাকার জন্য রয়েছে সুপার ডিলাক্স রুম। পাশাপাশি রাজকীয় পরিবেশকে আরও কাছ থেকে উপভোগ করতে চাইলে রয়েছে ‘রয়্যাল গেস্ট হাউস’-এর ব্যবস্থাও।রুমের ধরন অনুযায়ী আধুনিক সুযোগ-সুবিধার পাশাপাশি ঐতিহ্যবাহী সাজসজ্জার মেলবন্ধন রাখা হয়েছে। থাকার সঙ্গে কমপ্লিমেন্টারি ব্রেকফাস্ট-এর ব্যবস্থাও রয়েছে।

কাঁসার থালিতে সাবেকি বাঙালি রাজকীয় ভোজ

শুধু থাকার অভিজ্ঞতাই নয়, খাবারও এই রাজবাড়ির অন্যতম আকর্ষণ। অতিথিদের জন্য পরিবেশন করা হয় বাঙালি স্বাদের ‘রাজকীয় থালি’।সাবেকি কাঁসার বাসনে নানা ধরনের পদ সাজিয়ে পরিবেশনের ফলে খাবারের স্বাদের পাশাপাশি পাওয়া যায় পুরনো দিনের রাজবাড়ির ডাইনিংয়ের অনুভূতিও। তবে এইখাবারের জন্য আগে থেকে জানানো জরুরি। রুম বুকিংয়ের নির্ধারিত দিনের আগের দিন খাবারের বিষয়টি জানিয়ে দিতে হয়।

শাল-পিয়ালের জঙ্গলে ঘেরা শান্ত পরিবেশ

ঝাড়গ্রাম রাজবাড়ির অন্যতম বড় আকর্ষণ তার চারপাশের প্রকৃতি। শাল-পিয়ালের সবুজ বনানী এবং রাজবাড়ির সাজানো লন মিলিয়ে গোটা পরিবেশটি বেশ শান্ত ও মনোরম।দিনের বেলায় জঙ্গলমহলের আশপাশের এলাকা ঘুরে দেখা যায়। আর সন্ধ্যার পর রাজবাড়ির বারান্দায় বসে নিরিবিলি পরিবেশ উপভোগ করা যেতে পারে। প্রকৃতি, ইতিহাস এবং রাজকীয় আবহ—তিনের মেলবন্ধনই এই ভ্রমণকে আলাদা করে তোলে।

Jhargram Rajbari Weekend Trip: রাজকীয় পালঙ্কে রাতযাপন, কাঁসার থালিতে সাবেকি ভোজ! ছোট্ট ছুটিতে রাজার মতো থাকতে চলে আসুন ঝাড়গ্রাম রাজবাড়িতে
ঝাড়গ্রাম স্টেশন থেকে মাত্র ৪ কিলোমিটার

যাতায়াতের দিক থেকেও ঝাড়গ্রাম রাজবাড়ি বেশ সুবিধাজনক। ঝাড়গ্রাম রেলস্টেশন থেকে প্রায় ৪ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই ঐতিহাসিক প্রাসাদ। ফলে ট্রেনে করে ঝাড়গ্রাম পৌঁছে সেখান থেকে সহজেই রাজবাড়িতে যাওয়া যায়।যাঁরা সপ্তাহান্তে খুব বেশি দূরে যেতে চান না, কিন্তু শহরের চেনা পরিবেশ থেকে কিছুটা বিরতি চান, তাঁদের জন্য এই জায়গাটি বেশ আকর্ষণীয় হতে পারে।

কীভাবে বুক করবেন?

ঝাড়গ্রাম রাজবাড়িতে থাকার জন্য আগে থেকে বুকিং করে যাওয়াই ভালো। প্রদত্ত তথ্য অনুযায়ী, রাজবাড়ির নিজস্ব ওয়েবসাইট jhargrampalaceheritage.com-এর মাধ্যমে বুকিং সংক্রান্ত তথ্য জানা যায়। নির্দিষ্ট হেল্পলাইনেও যোগাযোগ করা যেতে পারে।

Jhargram Rajbari Weekend Trip: রাজকীয় পালঙ্কে রাতযাপন, কাঁসার থালিতে সাবেকি ভোজ! ছোট্ট ছুটিতে রাজার মতো থাকতে চলে আসুন ঝাড়গ্রাম রাজবাড়িতে
শহরের ব্যস্ততা থেকে দূরে ইতিহাস, রাজকীয় পরিবেশ এবং জঙ্গলমহলের প্রকৃতির স্বাদ—সব একসঙ্গে পেতে চাইলে ঝাড়গ্রাম রাজবাড়ি হতে পারে দারুণ উইকএন্ড ডেস্টিনেশন। প্রাচীন রাজপ্রাসাদের ঐতিহ্যবাহী ঘরে রাত কাটানোর পাশাপাশি মিলবে সাবেকি বাঙালি খাবারের স্বাদও।

Leave a comment