সোনম ওয়াংচুককে মেদান্তা হাসপাতালে স্থানান্তরের পর সাক্ষাৎ করলেন জেপি নাড্ডা ও জিতেন্দ্র সিং

দিল্লিমেদান্তা হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। সেখানে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নাড্ডা ও জিতেন্দ্র সিং তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে স্বাস্থ্যের খোঁজ নেন। চিকিৎসা ও আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী পরবর্তী চিকিৎসা মেদান্তা হাসপাতালেই চলবে।

কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নাড্ডা এবং জিতেন্দ্র সিং মঙ্গলবার গুরুগ্রামের মেদান্তা হাসপাতালে গিয়ে পরিবেশকর্মী ও সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুকের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং তাঁর স্বাস্থ্যের খোঁজ নেন।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সোনম ওয়াংচুককে দিল্লির সফদরজং হাসপাতাল থেকে গুরুগ্রামের মেদান্তা হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। দিল্লি হাইকোর্টের নির্দেশের পর উন্নত চিকিৎসা ও নিবিড় চিকিৎসা পর্যবেক্ষণের জন্য তাঁকে মেদান্তা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

কর্তৃপক্ষের মতে, মঙ্গলবার সন্ধ্যা প্রায় ৭টা ৩০ মিনিটে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে অ্যাম্বুলেন্সে করে সোনম ওয়াংচুককে মেদান্তা হাসপাতালে আনা হয়। হাসপাতালে পৌঁছানোর পর তাঁকে ইন্টারনাল মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. সুশীলা কাটারিয়ার তত্ত্বাবধানে আইসিইউ-৮-এ ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকদের একটি দল তাঁর শারীরিক অবস্থার ওপর ধারাবাহিক নজর রাখছে।

মেদান্তা হাসপাতালে পৌঁছানোর পর কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রী জেপি নাড্ডা এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। তাঁরা তাঁর স্বাস্থ্যের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে খোঁজ নেন। তবে সাক্ষাতের সময় কী আলোচনা হয়েছে, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত কোনও তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

ওয়াংচুককে এমন সময় মেদান্তা হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে, যখন তাঁর স্বাস্থ্য নিয়ে ধারাবাহিকভাবে উদ্বেগ প্রকাশ করা হচ্ছিল। তিনি দীর্ঘদিন ধরে অনশন কর্মসূচিতে ছিলেন, যার ফলে তাঁর একাধিক চিকিৎসা-সংক্রান্ত সূচকে পরিবর্তন নথিভুক্ত হয়েছে।

সোনম ওয়াংচুককে মেদান্তা হাসপাতালে স্থানান্তরের পর সাক্ষাৎ করলেন জেপি নাড্ডা ও জিতেন্দ্র সিং

মঙ্গলবার সন্ধ্যা প্রায় ৬টা ৪০ মিনিটে সফদরজং হাসপাতাল সোনম ওয়াংচুককে ছাড়পত্র দেয় এবং পরবর্তী চিকিৎসার জন্য তাঁকে মেদান্তা হাসপাতালের চিকিৎসক দলের কাছে হস্তান্তর করে। হাসপাতালের মতে, ছাড়পত্র দেওয়ার সময় তাঁর প্রয়োজনীয় মেডিক্যাল প্যারামিটার স্থিতিশীল ছিল। তবে তাঁর প্যানসাইটোপেনিয়ার সমস্যা বজায় ছিল।

চিকিৎসা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তাঁর সিরাম পটাশিয়ামের মাত্রা ছিল ৩.৪ mEq/L। এছাড়া ইউরিয়া, ইউরিক অ্যাসিডসহ আরও কয়েকটি স্বাস্থ্য-সংক্রান্ত সূচকে পরিবর্তন দেখা গেছে। ওয়াংচুকের চিকিৎসা-সংক্রান্ত মেডিক্যাল রেকর্ড, পরীক্ষার রিপোর্ট এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় নথি মেদান্তা হাসপাতালের চিকিৎসক দলের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে, যাতে সেই ভিত্তিতেই পরবর্তী চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়া যায়।

প্যানসাইটোপেনিয়া এমন একটি চিকিৎসাগত অবস্থা, যেখানে শরীরে লোহিত রক্তকণিকা, শ্বেত রক্তকণিকা এবং প্লেটলেট—এই তিন ধরনের প্রধান রক্তকণিকার মাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় কমে যায়। এ ধরনের পরিস্থিতিতে রোগীর নিয়মিত এবং বিশেষজ্ঞ পর্যবেক্ষণের প্রয়োজন হতে পারে।

এর আগে মঙ্গলবার দিল্লি হাইকোর্ট সোনম ওয়াংচুককে সফদরজং হাসপাতাল থেকে গুরুগ্রামের মেদান্তা হাসপাতালে স্থানান্তরের অনুমতি দেয়। প্রধান বিচারপতি দেবেন্দ্র কুমার উপাধ্যায় এবং বিচারপতি তেজস কারিয়ার ডিভিশন বেঞ্চ আইনজীবী ও চিকিৎসকদের বক্তব্য শোনার পর এই নির্দেশ জারি করে।

আদালত নির্দেশ দেয় যে, মেদান্তা হাসপাতালের চিকিৎসকেরা সোনম ওয়াংচুকের চিকিৎসা করবেন এবং সফদরজং হাসপাতালে থাকা তাঁর সমস্ত চিকিৎসা-সংক্রান্ত নথি যত দ্রুত সম্ভব মেদান্তা হাসপাতালের কাছে হস্তান্তর করা হবে। পাশাপাশি, মেদান্তা হাসপাতালের পরিচালকের পক্ষ থেকে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের একটি মেডিক্যাল প্যানেল গঠন করা হবে বলেও জানানো হয়।

সোনম ওয়াংচুকের স্ত্রী গীতাঞ্জলি আংমোর দায়ের করা আবেদনের শুনানির সময় বিষয়টি আদালতের সামনে আসে। শুনানির সময় আদালত ওয়াংচুকের চিকিৎসা প্রতিবেদনও বিবেচনা করে। প্রতিবেদনে পটাশিয়ামের মাত্রা কম থাকা এবং ইউরিয়া ও ইউরিক অ্যাসিড বৃদ্ধিসহ আরও কয়েকটি পরিবর্তনের উল্লেখ করা হয়েছে।

 

Leave a comment