গরম ভাত আর মুসুর ডালের সঙ্গে মুচমুচে কাঁচকি মাছ ভাজা—বাঙালির পছন্দের খাবারের তালিকায় এর আলাদা জায়গা রয়েছে। কিন্তু বাজার থেকে কাঁচকি মাছ কিনে আনার পর শুরু হয় আসল ঝক্কি। ছোট ছোট মাছ এক এক করে বাছতে গেলে হাত ব্যথা হয়ে যায়, তার উপর মাছের সঙ্গে লেগে থাকে ঘাস, পাতা, বালি ও নানা ধরনের ময়লা। তাই একসঙ্গে অনেকটা কাঁচকি মাছ পরিষ্কার করতে চাইলে জেনে নিন কয়েকটি সহজ কৌশল।
বারবার জল বদলে ধুয়ে নিন
কাঁচকি মাছ পরিষ্কার করার সবচেয়ে সহজ উপায় হল বড় পাত্রে নিয়ে জল দেওয়া। কিছুক্ষণ মাছগুলো জলে রাখলে হালকা ঘাস-পাতা ও ভাসমান ময়লা উপরে উঠে আসতে পারে।এরপর হাত দিয়ে খুব আলতো করে নাড়িয়ে জল ফেলে দিন। পাত্রের তলায় বালি বা ভারী ময়লা জমে থাকলে সেটিও পরিষ্কার করে নিন। এবার নতুন জল দিয়ে মাছ ধুতে থাকুন। প্রয়োজন অনুযায়ী কয়েকবার জল বদলে ধুলে মাছের গায়ে থাকা ময়লা অনেকটাই সরে যাবে।
চাল ধোয়া জলেও ভিজিয়ে রাখতে পারেন
বাড়িতে চাল ধোয়া জল থাকলে সেটিও ব্যবহার করে দেখতে পারেন। কাঁচকি মাছ কিছুক্ষণ চাল ধোয়া জলে ভিজিয়ে রাখার পর পরিষ্কার জলে ভালোভাবে ধুয়ে নিতে পারেন।তবে এই পদ্ধতিকে মাছের গন্ধ বা আঁশ পুরোপুরি দূর করার নিশ্চিত উপায় হিসেবে না দেখে পরিষ্কার করার একটি ঘরোয়া কৌশল হিসেবেই ব্যবহার করা ভালো। শেষে অবশ্যই পরিষ্কার পানিতে মাছ ভালোভাবে ধুয়ে নিন।
সবজি ধোয়ার ঝুড়ি কাজে লাগান
কাঁচকি মাছ একসঙ্গে পরিষ্কার করতে ছিদ্রযুক্ত সবজি ধোয়ার ঝুড়ি বেশ কাজে আসতে পারে। ঝুড়িতে মাছ নিয়ে পরিষ্কার জলের নিচে হালকা হাতে নাড়াচাড়া করুন।ছোট ছিদ্রের কারণে জল সহজে বেরিয়ে যায় এবং মাছের সঙ্গে থাকা কিছু ময়লা ও পিচ্ছিলভাবও পরিষ্কার হতে সাহায্য করে। তবে মাছ খুব নরম হওয়ায় জোরে ঘষাঘষি করা উচিত নয়।
নুন ও লেবুর রস ব্যবহার করতে পারেন
মাছের আঁশটে গন্ধ কমাতে অনেকে অল্প নুন ও লেবুর রস ব্যবহার করেন। কাঁচকি মাছের সঙ্গে সামান্য নুন ও লেবুর রস মিশিয়ে অল্প সময় রেখে দিতে পারেন।এরপর পরিষ্কার জল দিয়ে আলতো হাতে ধুয়ে নিন। এতে মাছের উপরিভাগের পিচ্ছিলভাব ও গন্ধ কিছুটা কমতে পারে।
ছোট মাছ বলে জোরে ঘষবেন না
কাঁচকি মাছ অত্যন্ত ছোট ও নরম। তাই পরিষ্কার করার সময় শক্ত করে ঘষলে মাছ ভেঙে যেতে পারে। বিশেষ করে ঝুড়ি বা হাত দিয়ে পরিষ্কার করার সময় আলতোভাবে নাড়াচাড়া করাই ভালো।একসঙ্গে অনেকটা মাছ থাকলে আগে ঘাস-পাতা ও ভাসমান ময়লা আলাদা করে নিন। তারপর কয়েক দফায় পরিষ্কার জল দিয়ে ধুয়ে নিলে কাজ অনেক সহজ হয়ে যাবে।
মাছ পরিষ্কারের সময় আরও একটি বিষয় মনে রাখুন
কাঁচকি মাছ পরিষ্কার করার সময় শুধু আঁশ বা ময়লা সরালেই হবে না, চোখে দেখা কোনও অস্বাভাবিক অংশ বা অবাঞ্ছিত বস্তু থাকলে সেটিও বাদ দিতে হবে। পরিষ্কারের পর মাছ দ্রুত রান্না করা ভালো। কিছুক্ষণ রাখতে হলে পরিষ্কার করে ঠান্ডা জায়গায় বা ফ্রিজে সংরক্ষণ করুন।
কাঁচকি মাছ আকারে ছোট হওয়ায় একসঙ্গে অনেকটা পরিষ্কার করা বেশ ঝামেলার। মাছের সঙ্গে থাকা ঘাস, পাতা, বালি ও অন্যান্য ময়লা আলাদা করতে গিয়ে সময়ও লাগে, পরিশ্রমও হয়। তবে কয়েকটি সহজ ঘরোয়া কৌশল কাজে লাগালে অল্প সময়ে অনেকটা কাঁচকি মাছ পরিষ্কার করা সম্ভব।













