শহরের গরম আর কোলাহল থেকে একটু স্বস্তির খোঁজে থাকলে, দূরে কোথাও নয়—দক্ষিণবঙ্গেই রয়েছে এক ‘মিনি ডুয়ার্স’। Kankrajhor-এর অপূর্ব প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এখন পর্যটকদের কাছে নতুন আকর্ষণ। পাহাড়, ঝরনা আর জঙ্গলের মাঝে দু’দিন কাটাতে চাইলে এই জায়গা হতে পারে পারফেক্ট চয়েস।
জঙ্গল-পাহাড়ে ঘেরা নির্জন সৌন্দর্য
Jhargram শহর থেকে বেলপাহাড়ি হয়ে প্রায় ৪৫-৫৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত কাঁকড়াঝোড়। একসময় ঘন জঙ্গলের জন্য পর্যটকদের কাছে ভয়ঙ্কর বলে পরিচিত ছিল এলাকা। শাল, মহুয়া, পিয়াল ও কেন্দু গাছের গভীর জঙ্গল এখন হয়ে উঠেছে শান্ত, নির্জন আর মনোরম ভ্রমণস্থল।
‘টেনিদার জঙ্গল’—সাহিত্য আর বাস্তবের মেলবন্ধন
এই কাঁকড়াঝোড়কেই অনেকে বলেন ‘টেনিদার জঙ্গল’। বিখ্যাত সাহিত্যিক Narayan Gangopadhyay-এর সৃষ্টি Tenida-র অভিযান ‘ঝন্টিপাহাড়ি’ ও Charmurti-র সঙ্গে এই অঞ্চলের বিস্ময়কর মিল পাওয়া যায়। এমনকি এই গল্প অবলম্বনে তৈরি ছবির শুটিংও হয়েছিল এখানেই।
ট্রেকিং, ঝরনা আর অ্যাডভেঞ্চারের হাতছানি
ট্রেকিংপ্রেমীদের জন্য কাঁকড়াঝোড় একেবারে স্বর্গ। পাহাড়ি পথ, জঙ্গলের ভিতর দিয়ে হাঁটা—সব মিলিয়ে অ্যাডভেঞ্চারের অভিজ্ঞতা অসাধারণ। আশেপাশে রয়েছে ঢাঙ্গিকুসুম, ভৈরব মন্দির ও আমঝর্না—যা ভ্রমণকে আরও আকর্ষণীয় করে তোলে।
কেতকী ঝরনা—প্রকৃতির লুকোনো রত্ন
কাঁকড়াঝোড় ভ্রমণের অন্যতম আকর্ষণ কেতকী ঝরনা। যদিও এটি আসলে একটি ছোট্ট জলাধার, যা কাসাই নদীর উপনদীর জল থেকে তৈরি। চারপাশে ঘন জঙ্গল আর পাহাড়ের আবহ—সব মিলিয়ে জায়গাটি একেবারে পোস্টকার্ডের মতো সুন্দর।
মস্টেতে নিরিবিলি ছুটি কাটানোর সুযোগ
এখন কাঁকড়াঝোড়ে গড়ে উঠেছে একাধিক হোমস্টে ও ইকো-রিসর্ট। যারা কোলাহল থেকে দূরে শান্তিতে সময় কাটাতে চান, তাঁদের জন্য এটি আদর্শ। পরিবার বা বন্ধুদের সঙ্গে ২-৩ দিনের ছোট্ট ট্রিপে এই জায়গা দারুণ উপভোগ্য।
ঝাড়গ্রামের কাঁকড়াঝোড় এখন দক্ষিণবঙ্গের অন্যতম জনপ্রিয় অফবিট পর্যটনকেন্দ্র। পাহাড়, ঘন জঙ্গল, ঝরনা আর নিরিবিলি পরিবেশ—সব মিলিয়ে এটি যেন ছোট্ট ডুয়ার্স। ট্রেকিংপ্রেমী থেকে প্রকৃতিপ্রেমী—সবার জন্যই ২-৩ দিনের নিখুঁত গন্তব্য।













