মধ্যপ্রদেশের কাটনিতে কর্মরত সিটি সুপারিনটেনডেন্ট অব পুলিশ (CSP) নেহা পচিসিয়া এক পরিবহন ব্যবসায়ীর করা কথিত চাঁদাবাজির অভিযোগকে ঘিরে আলোচনায় রয়েছেন। এয়ারহোস্টেসের চাকরি ছেড়ে মধ্যপ্রদেশ পাবলিক সার্ভিস কমিশন (MPPSC) পরীক্ষায় সফল হয়ে পুলিশ কর্মকর্তা হওয়া তাঁর পেশাগত যাত্রা আলোচনায় থাকলেও, বর্তমানে অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত চলছে এবং অভিযোগের সত্যতা এখনও নিশ্চিত হয়নি।
নেহা পচিসিয়ার কর্মজীবন বহু তরুণের কাছে অনুপ্রেরণার উৎস হিসেবে বিবেচিত হয়। তিনি কর্মজীবন শুরু করেছিলেন এয়ারহোস্টেস হিসেবে। কিছু সময় বিমান চলাচল খাতে কাজ করার পর তিনি প্রশাসনিক পরিষেবায় যোগ দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করেন এবং মধ্যপ্রদেশ পাবলিক সার্ভিস কমিশন (MPPSC) পরীক্ষার প্রস্তুতি শুরু করেন। নিজের পরিশ্রম ও অধ্যবসায়ের মাধ্যমে তিনি MPPSC-এর মেধাতালিকায় ২০তম স্থান অর্জন করেন এবং রাজ্য পুলিশ পরিষেবায় নির্বাচিত হন। পরে তিনি পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং বর্তমানে কাটনিতে সিটি সুপারিনটেনডেন্ট অব পুলিশ (CSP) পদে কর্মরত।
সম্প্রতি এক পরিবহন ব্যবসায়ী নেহা পচিসিয়ার বিরুদ্ধে কথিত চাঁদাবাজির অভিযোগ তোলার পর বিষয়টি আলোচনায় আসে। অভিযোগ সামনে আসার পর প্রশাসন সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে তাঁর অধিক্ষেত্র থেকে তিনটি থানার দায়িত্ব প্রত্যাহার করে। তবে তদন্ত চলাকালীন এই প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং এর অর্থ অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে বলে ধরা যায় না। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টির তদন্ত করছে।
বর্তমানে পুরো ঘটনায় তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। সংশ্লিষ্ট বিভাগ প্রাপ্ত তথ্য ও প্রমাণের ভিত্তিতে বিষয়টি খতিয়ে দেখছে। এখন পর্যন্ত কোনো পর্যায়ে অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি এবং এ বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তও প্রকাশিত হয়নি। তদন্ত সম্পন্ন হওয়ার পরই অভিযোগের সত্যতা এবং পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে।
মধ্যপ্রদেশ পুলিশ বিভাগও বিষয়টির ওপর নজর রাখছে। বিভাগীয় প্রক্রিয়া অনুযায়ী তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পরই পরবর্তী ব্যবস্থা নির্ধারণ করা হবে। প্রশাসনিক পর্যায়ে তদন্ত নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছভাবে সম্পন্ন করার বিষয়টি নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। এ ধরনের ক্ষেত্রে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত তদন্তের ফলাফল এবং প্রাপ্ত প্রমাণের ভিত্তিতেই নেওয়া হয়।
নেহা পচিসিয়ার নাম আগে তাঁর সাফল্য এবং অনুপ্রেরণামূলক কর্মজীবনের কারণে আলোচনায় থাকলেও, বর্তমানে বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং জনআলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। তবে আইনগত প্রক্রিয়া অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তিকে দোষী হিসেবে গণ্য করা হয় কেবল তখনই, যখন সক্ষম কর্তৃপক্ষ বা বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অভিযোগ প্রমাণিত হয়। তাই এ ক্ষেত্রেও তদন্ত শেষ হওয়া এবং সরকারি সিদ্ধান্ত প্রকাশের অপেক্ষা করা হচ্ছে।








