উত্তরাখণ্ডে মুখ্যমন্ত্রী হেল্পলাইন-১৯০৫ পর্যালোচনায় সময়মতো অভিযোগ নিষ্পত্তির নির্দেশ, গাফিলতিতে কড়া ব্যবস্থার সতর্কবার্তা

উত্তরাখণ্ডের মুখ্য অভিযোগ নিষ্পত্তির নির্দেশ দিয়েছেন। বৈঠকে ১৮ এপ্রিল থেকে ২৮ জুলাই ২০২৬ পর্যন্ত প্রাপ্ত ৬৭,৮৪৩টি অভিযোগের অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয় এবং গাফিলতির ক্ষেত্রে শৃঙ্খলামূলক ব্যবস্থার নির্দেশ দেওয়া হয়।

মুখ্যমন্ত্রীর হেল্পলাইন-১৯০৫ পর্যালোচনা বৈঠকে উত্তরাখণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামি কর্মকর্তাদের জনঅভিযোগের সময়সীমাবদ্ধ, কার্যকর এবং সন্তোষজনক নিষ্পত্তি নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি স্পষ্টভাবে বলেছেন, অভিযোগ নিষ্পত্তিতে কোনো ধরনের গাফিলতি বা উদাসীনতা গ্রহণযোগ্য হবে না এবং প্রতিটি স্তরে জবাবদিহি নিশ্চিত করা হবে।

সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত মুখ্যমন্ত্রীর হেল্পলাইন-১৯০৫ পর্যালোচনা বৈঠকে পুষ্কর সিং ধামি বলেন, হেল্পলাইনে নথিভুক্ত প্রতিটি অভিযোগের সময়সীমাবদ্ধ, কার্যকর ও সন্তোষজনক নিষ্পত্তি নিশ্চিত করতে হবে। তিনি বলেন, এই হেল্পলাইন রাজ্যের বাসিন্দাদের সঙ্গে সরকারের যোগাযোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। তাই অভিযোগ নিষ্পত্তিতে কোনো ধরনের অবহেলা গ্রহণযোগ্য হবে না। তিনি সব বিভাগকে অভিযোগের নিয়মিত পর্যবেক্ষণ এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিষ্পত্তি নিশ্চিত করার নির্দেশ দেন।

বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী বিশেষভাবে পানীয় জল বিভাগ এবং জল জীবন মিশন-সংক্রান্ত বিপুল সংখ্যক মুলতুবি অভিযোগ নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের এক সপ্তাহের মধ্যে সব মুলতুবি অভিযোগের কার্যকর নিষ্পত্তির নির্দেশ দেন।

তিনি বলেন, যেসব কর্মকর্তার অভিযোগ নিষ্পত্তিতে কার্যক্রমের হার শূন্য শতাংশ, তাঁদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় প্রধান অবিলম্বে কারণ দর্শানোর নোটিশ জারি করবেন। জবাব সন্তোষজনক না হলে তাঁদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী শৃঙ্খলামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মুখ্যমন্ত্রী আরও নির্দেশ দেন, যেসব অভিযোগ নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে নিষ্পত্তি করা সম্ভব হচ্ছে না, সেগুলোর বিভাগীয় প্রধান এবং জেলা শাসক পর্যায়ে নিয়মিত পর্যালোচনা করতে হবে। পাশাপাশি স্পেশাল ক্লোজ, ডিমান্ড, সাজেশন এবং অন্যান্য শ্রেণিতে নথিভুক্ত অভিযোগও গুরুত্বসহকারে পরীক্ষা করতে হবে, যাতে কোনো প্রকৃত অভিযোগ উপেক্ষিত না হয়।

মুখ্যমন্ত্রী নির্দেশ দেন, প্রতি সোমবার জেলা পর্যায়ে জেলা শাসক, বিভাগীয় পর্যায়ে বিভাগীয় কমিশনার এবং শাসন পর্যায়ে সব সচিব ‘সমাধান দিবস’ আয়োজন করবেন। এ সময় সাধারণ মানুষের অভিযোগ শুনে দ্রুত নিষ্পত্তি নিশ্চিত করতে হবে। তিনি বলেন, ‘সমাধান দিবস’-কে কার্যকর জনসেবার একটি প্ল্যাটফর্ম হিসেবে গড়ে তুলতে হবে এবং এর নিয়মিত পর্যবেক্ষণও নিশ্চিত করতে হবে।

এ ছাড়া তিনি প্রশাসনিক পরিষেবা, পুলিশ পরিষেবা এবং বন পরিষেবার কর্মকর্তাদের তাঁদের প্রাথমিক কর্মস্থলে জনস্বার্থে বাস্তবায়িত উদ্ভাবনী উদ্যোগের বিস্তারিত প্রতিবেদন ৫০ দিনের মধ্যে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে অবসরপ্রাপ্ত কর্মীদের অবসরের পর প্রথম মাস থেকেই পেনশন প্রদান নিশ্চিত করারও নির্দেশ দেন।

উত্তরাখণ্ডে মুখ্যমন্ত্রী হেল্পলাইন-১৯০৫ পর্যালোচনায় সময়মতো অভিযোগ নিষ্পত্তির নির্দেশ, গাফিলতিতে কড়া ব্যবস্থার সতর্কবার্তা

পর্যালোচনা বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, গণপূর্ত, পর্যটন, স্বাস্থ্য এবং পুলিশ বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের চারধাম যাত্রাপথ সরেজমিনে পরিদর্শন করে তীর্থযাত্রীদের সুবিধা ও নিরাপত্তার জন্য প্রয়োজনীয় উন্নয়নমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন।

তিনি ভূমি-সংক্রান্ত মুলতুবি বিরোধকে অগ্রাধিকারভিত্তিতে নিষ্পত্তি এবং সেগুলোর নিয়মিত পর্যালোচনার ওপরও জোর দেন।

বৈঠকে সচিব ড. পঙ্কজ পান্ডে জানান, ১৮ এপ্রিল থেকে ২৮ জুলাই ২০২৬ পর্যন্ত মুখ্যমন্ত্রীর হেল্পলাইন-১৯০৫-এ মোট ৬৭,৮৪৩টি অভিযোগ নথিভুক্ত হয়েছে। এর মধ্যে ২০,৪৬১টি অভিযোগ সম্পূর্ণ নিষ্পত্তি হয়েছে, ৩১,৩৬৩টি ক্ষেত্রে আংশিক সমাধান হয়েছে, ৭,৪০৪টি অভিযোগ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে এবং ৪,০৬১টি অভিযোগ এখনও মুলতুবি রয়েছে।

তিনি জানান, স্পেশাল ক্লোজ শ্রেণির হার কমে ৫.৫ শতাংশে নেমে এসেছে, যা অভিযোগ নিষ্পত্তি ব্যবস্থার উন্নতির ইঙ্গিত দেয়।

বৈঠকের সময় মুখ্যমন্ত্রী বিভিন্ন জেলার অভিযোগকারীদের সঙ্গে সরাসরি ফোনে কথা বলে তাঁদের অভিযোগের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে জানেন। কয়েকজন অভিযোগকারী সমাধান পাওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেন। অন্যদিকে, কিছু ক্ষেত্রে মুখ্যমন্ত্রী সংশ্লিষ্ট জেলা শাসক ও কর্মকর্তাদের তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।

তিনি বলেন, পরবর্তী পর্যালোচনা বৈঠকে শুধু অভিযোগের সংখ্যা নয়, বরং অভিযোগ নিষ্পত্তির মান, অভিযোগকারীর সন্তুষ্টি এবং বিভাগীয় জবাবদিহিকেও মূল্যায়নের প্রধান ভিত্তি করা হবে।

 

Leave a comment