কিডনি শরীর থেকে বর্জ্য ও অতিরিক্ত তরল বের করে দেওয়ার গুরুত্বপূর্ণ কাজ করে। কিন্তু এই অঙ্গটি দুর্বল হয়ে পড়লে তার প্রাথমিক লক্ষণ অনেক সময় রাতের বেলাতেই ধরা পড়ে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কিছু নির্দিষ্ট উপসর্গকে অবহেলা করলে ভবিষ্যতে কিডনি বিকলের ঝুঁকি বাড়তে পারে। তাই এই লক্ষণগুলি সম্পর্কে সচেতন থাকা অত্যন্ত জরুরি।
শুতে গেলেই শ্বাসকষ্ট বা বুকে ভার লাগা
রাতে বিছানায় শোয়ার পর যদি শ্বাস নিতে কষ্ট হয় বা বুকে চাপ অনুভব করেন, তবে তা কিডনির কার্যকারিতা কমে যাওয়ার ইঙ্গিত হতে পারে। কিডনি অতিরিক্ত তরল বের করতে না পারলে সেই তরল ফুসফুসে জমে শ্বাসকষ্টের কারণ হতে পারে।
ঘুমের মধ্যে পেশিতে খিঁচুনি
রাতে ঘুমের সময় হঠাৎ পায়ে বা শরীরের অন্য অংশে খিঁচুনি বা টান ধরলে সেটিও সতর্কবার্তা হতে পারে। কিডনির সমস্যায় শরীরে ক্যালসিয়াম ও অন্যান্য ইলেক্ট্রোলাইটের ভারসাম্য নষ্ট হলে এমন সমস্যা দেখা দিতে পারে।
বারবার প্রস্রাবের জন্য ঘুম ভাঙা
রাতে দুই-তিন ঘণ্টা অন্তর প্রস্রাবের জন্য উঠে যেতে হলে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিত। চিকিৎসাবিজ্ঞানে একে নকচুরিয়া (Nocturia) বলা হয়। যদিও ডায়াবেটিস বা মূত্রনালীর সংক্রমণেও এমন হতে পারে, তবু এটি কিডনির সমস্যারও একটি সাধারণ লক্ষণ।
অস্থির ঘুম ও বারবার ঘুম ভেঙে যাওয়া
রক্তে বর্জ্য পদার্থ জমে গেলে ঘুমের স্বাভাবিক ছন্দ নষ্ট হতে পারে। ফলে রাতভর অস্থিরতা, বারবার ঘুম ভেঙে যাওয়া বা রেস্টলেস লেগ সিনড্রোমের মতো সমস্যাও দেখা দিতে পারে।
পা, গোড়ালি বা হাতে ফোলা ভাব
বিশেষ করে সন্ধ্যা বা রাতে যদি পা, গোড়ালি কিংবা হাতে ফোলাভাব বেশি অনুভূত হয়, তবে তা শরীরে অতিরিক্ত তরল জমে থাকার লক্ষণ হতে পারে। কিডনি সঠিকভাবে তরল বের করতে না পারলে এমন উপসর্গ দেখা দিতে পারে।
কিডনি সুস্থ রাখতে কী করবেন?
পর্যাপ্ত পরিমাণে জল পান করুন।
অতিরিক্ত লবণ খাওয়া কমান।
ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখুন।
নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করান।
চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া দীর্ঘদিন ব্যথার ওষুধ সেবন এড়িয়ে চলুন।
রাতের ঘুমের মধ্যেই শরীর অনেক সময় কিডনির সমস্যার ইঙ্গিত দিতে শুরু করে। বারবার প্রস্রাবের বেগ, শ্বাসকষ্ট, পেশিতে খিঁচুনি, পা ফুলে যাওয়া বা অস্থির ঘুম—এই উপসর্গগুলি দীর্ঘদিন থাকলে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।












