ঘুমের মধ্যে আচমকাই পায়ের পেশিতে তীব্র টান পড়ে ঘুম ভেঙে যায়? চিকিৎসাবিজ্ঞানে একে নকটার্নাল লেগ ক্র্যাম্প (Nocturnal Leg Cramps) বলা হয়। এটি সাধারণত কাফ মাসল বা পায়ের ডিমে বেশি দেখা যায়। আইএলএস, দমদম হাসপাতালের স্নায়ুরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. মৌমিতা বাগচির মতে, জীবনযাত্রার কিছু পরিবর্তন ও সঠিক পুষ্টি এই সমস্যা কমাতে সাহায্য করতে পারে।
কেন হয় রাতের পায়ের ক্র্যাম্প?
বিশেষজ্ঞদের মতে, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এর নির্দিষ্ট কারণ জানা যায় না। তবে কয়েকটি বিষয় ঝুঁকি বাড়াতে পারে—
দীর্ঘক্ষণ একভাবে বসে বা দাঁড়িয়ে থাকা
অতিরিক্ত বা হঠাৎ ভারী শরীরচর্চা
মানসিক চাপ
কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
শরীরের কিছু অন্তর্নিহিত রোগ
কারা বেশি ঝুঁকিতে?
এই সমস্যা যে কারও হতে পারে। তবে তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়—
বয়স্কদের মধ্যে
গর্ভবতী নারীদের
দীর্ঘদিনের অসুস্থতায় ভোগা ব্যক্তিদের
নির্দিষ্ট কিছু ওষুধ সেবনকারীদের
হঠাৎ ক্র্যাম্প হলে কী করবেন?
পায়ে টান ধরলে দ্রুত আরাম পেতে পারেন এই উপায়ে—আক্রান্ত পেশিতে আলতো মালিশ করুন।
গরম বা ঠান্ডা সেঁক দিন।
উঠে ধীরে ধীরে হাঁটুন।
গোড়ালির উপর ভর দিয়ে কয়েক পা হাঁটার চেষ্টা করুন।
পায়ের আঙুল নিজের দিকে টেনে পেশি স্ট্রেচ করুন।
কোন ২ পানীয় ও ১ ভিটামিন উপকারী হতে পারে?
বিশেষজ্ঞের পরামর্শ অনুযায়ী—
পর্যাপ্ত পরিমাণে জল পান করুন।
ডাবের জল-এর মতো ইলেকট্রোলাইটসমৃদ্ধ পানীয় খাদ্যতালিকায় রাখুন।
ভিটামিন ই-এর পর্যাপ্ত গ্রহণ উপকারী হতে পারে।
এছাড়া শরীরে ম্যাগনেসিয়ামের ঘাটতি থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী তা পূরণ করার প্রয়োজন হতে পারে।
কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন?
যদি—
প্রায় প্রতিদিন রাতেই ক্র্যাম্প হয়,
ব্যথা দীর্ঘক্ষণ থাকে,
পা ফুলে যায় বা দুর্বল লাগে,
অথবা অন্য কোনও স্নায়বিক উপসর্গ দেখা দেয়,
তাহলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। প্রয়োজনে রক্ত পরীক্ষা বা অন্যান্য পরীক্ষা করে প্রকৃত কারণ নির্ণয় করা হতে পারে।
রাতের বেলা হঠাৎ পায়ে ক্র্যাম্প বা শিরায় টান ধরা অনেকেরই পরিচিত সমস্যা। বিশেষজ্ঞদের মতে, পর্যাপ্ত জল, ইলেকট্রোলাইটসমৃদ্ধ পানীয় এবং ভিটামিন–ই-এর সঠিক মাত্রা বজায় রাখলে এই সমস্যা কিছুটা নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। তবে বারবার ক্র্যাম্প হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াও জরুরি।












