কোনও দুটি সবজি একসঙ্গে খেলেই কিডনিতে পাথর হয়ে যাবে—এমন কথা অনেকের মুখেই শোনা যায়। বিশেষ করে পালং শাকের সঙ্গে কিছু সবজি খাওয়া নিয়ে নানা ধরনের দাবি রয়েছে। কিন্তু বাস্তবে বিষয়টি এতটা সরল নয়। নির্দিষ্ট দুটি সবজির সংমিশ্রণকে কিডনিতে পাথরের সরাসরি কারণ হিসেবে চিহ্নিত করার মতো যথেষ্ট বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই।
তাহলে কিডনিতে পাথর তৈরি হয় কীভাবে?
কিডনিতে বিভিন্ন ধরনের পাথর তৈরি হতে পারে। তার মধ্যে ক্যালসিয়াম অক্সালেট স্টোন অন্যতম সাধারণ। অক্সালেট স্বাভাবিকভাবেই বেশ কিছু খাবারে থাকে। শরীরে জল কম থাকলে প্রস্রাব ঘন হয়ে যায় এবং কিছু খনিজ ও যৌগ একসঙ্গে জমে স্ফটিক তৈরি করতে পারে। সময়ের সঙ্গে সেই স্ফটিকই পাথরের আকার নিতে পারে।তাই শুধু একটি খাবারের সংমিশ্রণকে দায়ী না করে সামগ্রিক খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাত্রার দিকে নজর দেওয়া বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
পালং শাক কি কিডনিতে পাথরের ঝুঁকি বাড়ায়?
পালং শাকে তুলনামূলকভাবে বেশি অক্সালেট রয়েছে। ফলে যাদের বিশেষ করে ক্যালসিয়াম অক্সালেট পাথরের প্রবণতা রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত অক্সালেট গ্রহণ নিয়ন্ত্রণ করার পরামর্শ দেওয়া হতে পারে।তবে এর অর্থ এই নয় যে সকলকেই পালং শাক সম্পূর্ণ বাদ দিতে হবে। কার কতটা অক্সালেট গ্রহণ করা উচিত, তা ব্যক্তির স্বাস্থ্য এবং পাথরের ধরন অনুযায়ী আলাদা হতে পারে।
কোন বিষয়গুলোতে বেশি নজর দেবেন?
কিডনিতে পাথর প্রতিরোধের ক্ষেত্রে শুধু কোন সবজির সঙ্গে কোন সবজি খাচ্ছেন, সেটাই মূল বিষয় নয়। বরং কয়েকটি বিষয় বেশি গুরুত্বপূর্ণ—
পর্যাপ্ত জল পান করুন
জল কম খেলে প্রস্রাব ঘন হয়ে যায়। তখন পাথর তৈরির সঙ্গে যুক্ত কিছু উপাদান জমে স্ফটিক তৈরি করার সুযোগ পায়। তাই পর্যাপ্ত তরল গ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
অতিরিক্ত লবণ কমান
খাবারে অতিরিক্ত লবণ কিডনিতে পাথর তৈরির ঝুঁকি বাড়াতে পারে। তাই রান্নায় এবং টেবিলে বাড়তি লবণ দেওয়ার অভ্যাস এড়ানো ভালো।
অক্সালেটের পরিমাণ বুঝে খাবার খান
যাদের আগে ক্যালসিয়াম অক্সালেট পাথর হয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে চিকিৎসক বা ডায়েটিশিয়ান খাদ্যতালিকায় অক্সালেট নিয়ন্ত্রণের পরামর্শ দিতে পারেন।
নিজের মতো করে সবজি বাদ দেবেন না
কিডনিতে পাথরের ভয়ে একের পর এক সবজি খাদ্যতালিকা থেকে বাদ দেওয়া ঠিক নয়। পাথরের ধরন এবং ব্যক্তির শারীরিক অবস্থার ভিত্তিতে খাদ্যতালিকা তৈরি করাই বেশি যুক্তিযুক্ত।
আগে কিডনিতে পাথর হয়ে থাকলে কী করবেন?
যাদের অতীতে কিডনিতে পাথর হয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে একই খাবারের নিয়ম সবার জন্য প্রযোজ্য নয়। পাথরটি কী ধরনের ছিল, তার উপর খাদ্যাভ্যাসের পরামর্শ নির্ভর করতে পারে।তাই “এই দুই সবজি কখনও একসঙ্গে খাবেন না”—এমন সোশ্যাল মিডিয়া-ভিত্তিক দাবি যাচাই না করে মেনে নেওয়া উচিত নয়। বারবার পাথর হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা ও ব্যক্তিগত খাদ্যপরিকল্পনা করা ভালো।
পালং শাক বা অন্য কোনও নির্দিষ্ট সবজি একসঙ্গে খেলেই কিডনিতে পাথর হয়—এমন সরাসরি বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। কিডনিতে পাথর তৈরির ক্ষেত্রে জল কম খাওয়া, অতিরিক্ত লবণ, খাদ্যে অক্সালেটের পরিমাণ এবং ব্যক্তির শারীরিক পরিস্থিতি বেশি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।













